পানি চায় দুর্বৃত্তরা, ঘরের দরজায় খুলতেই ছেলেকে জিম্মি করে মাকে দলবদ্ধ ধর্ষণ

· Prothom Alo

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে নবম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলেকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মাকে (৩৮) দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ারও হুমকি দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

Visit esporist.org for more information.

গতকাল বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে গফরগাঁওয়ে এক প্রবাসীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রাতেই মো. রাজীব (২৩) নামের একজনকে আটক করেছে গফরগাঁও থানার পুলিশ।

পুলিশ, ভুক্তভোগী, মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাত আটটার দিকে শরীফ মিয়া (২৩), আরিফ মিয়াসহ (২১) পাঁচ যুবক ওই প্রবাসীর বাড়িতে যান। তাঁরা প্রথমে পানি ও কুড়াল চান। প্রবাসীর ছেলে পানি নিয়ে দরজার কাছে এলে তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করা হয়।

এরপর যুবকেরা ঘরে ঢুকে ভাঙচুর করেন। আলমারিতে থাকা বাড়ি নির্মাণের জন্য রাখা পাঁচ লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করা হয়। এরপর ওই নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করা হয় বলে পুলিশ, ভুক্তভোগী ও স্থানীয় ব্যক্তিদের ভাষ্য।

এ সময় রাজীব মুঠোফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন বলে জানান ভুক্তভোগী। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তিন দিনের মধ্যে আরও দুই লাখ টাকা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

পুলিশ জানায়, পরে ভুক্তভোগীদের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন এবং পুলিশকে খবর দেন। রাতেই পুলিশ অভিযানে নামে। রাত তিনটার দিকে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে নির্জন এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাজীবকে আটক করা হয়। এ সময় অন্য চারজন পালিয়ে যান।

পুলিশের দাবি, অভিযানের সময় ভিডিও ধারণে ব্যবহৃত মুঠোফোনটি রাজীব পানিতে ফেলে দেন। পরে পুলিশ সেটি উদ্ধার করে।

গৃহবধূর দেবর মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, বড় মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার পর নবম শ্রেণিপড়ুয়া ছেলেকে নিয়ে বাড়িতে একা থাকতেন তাঁর ভাবি। দুর্বৃত্তরা তাঁর ভাতিজাকে জিম্মি করে মাকে ধর্ষণ করেছে। আজ শুক্রবার বিকেলে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা জড়িত ব্যক্তিদের উপযুক্ত বিচার চান।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গফরগাঁও সার্কেল) মনতোষ বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, ওই নারী পুলিশের কাছে পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁদের মধ্যে দুজন ধর্ষণ করেছেন এবং অন্যরা বাইরে ছিলেন। তাঁর ছেলেকে জিম্মি করে রাখার এবং বাড়িতে ভাঙচুর করে টাকাপয়সা নেওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি।

এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে জানিয়ে মনতোষ বিশ্বাস আরও বলেন, অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মেডিক্যাল রিপোর্টসহ অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে ঘটনার প্রকৃত তথ্য নিশ্চিত করা হবে। ভিডিও ধারণের বিষয়টিও তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। অন্য ব্যক্তিদের আটকে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Read full story at source