যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িংয়ের আরও ১১ উড়োজাহাজ কিনবে বাংলাদেশ
· Prothom Alo

নতুন চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িংয়ের আরও উড়োজাহাজ কিনতে রাজি হয়েছে বাংলাদেশ। গত রোববার রাতে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া–বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত এবং ভারতে দেশটির রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর নিজের এক্স পোস্টে এ তথ্য জানান।
Visit freshyourfeel.org for more information.
এ সপ্তাহে বোয়িংয়ের কেনাকাটা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে একটি ‘অভূতপূর্ব সমঝোতা’ হয়েছে বলেও সার্জিও গর উল্লেখ করেন।
তবে উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে বাংলাদেশ নতুন করে কতগুলো উড়োজাহাজ কিনতে যাচ্ছে, সেটি সার্জিও গর তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেননি।
ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের এপ্রিলে বাংলাদেশ বিমানের সঙ্গে বোয়িংয়ের ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে চুক্তি হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ বিমান প্রয়োজন হলে বোয়িংয়ের কাছ থেকে অতিরিক্ত উড়োজাহাজ কিনতে পারবে। আগস্টের শেষ সপ্তাহে বোয়িংয়ের কাছ থেকে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে দুই দেশের সরকারি পর্যায়ে যোগাযোগ হয়েছে।
গত ৩০ জুলাই তিন দিনের জন্য বাংলাদেশ সফরে আসনে সার্জিও গর। সফরের শেষ দিনে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেন। ঢাকা ছেড়ে দিল্লি যাওয়ার আগে সার্জিও গর তাঁর এক্স পোস্টে দুই দেশের সহযোগিতা জোরদারে অপার সম্ভাবনা ও অংশীদারত্ব বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
সার্জিও গর গত রোববার নিজের এক্স পোস্টে লিখেছেন, ‘এই সপ্তাহেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সমঝোতায় পৌঁছেছেন। এর আওতায় বাংলাদেশ বোয়িংয়ের আরও উড়োজাহাজ কিনতে কয়েক শ কোটি ডলার ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং প্রাথমিক ক্রয়াদেশের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে।’
কূটনৈতিক সূত্রগুলো প্রথম আলোকে জানিয়েছে, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পারিক বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে দর–কষাকষির সময় বাণিজ্যঘাটতি কমাতে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার প্রসঙ্গটি আসে। তৎকালীন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে বোয়িং থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার পাশাপাশি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহর আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে অতিরিক্ত ১১টি উড়োজাহাজ কেনার প্রসঙ্গ টানেন।
বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা শেখ বশিরউদ্দীন বিমান বাংলাদেশের আধুনিকায়নে কতটি উড়োজাহাজ প্রয়োজন, সেটি বিশ্লেষণ করেছিলেন। পাশাপাশি ওই উড়োজাহাজ গ্রহণ করতে বাংলাদেশকে ২০৩৫ থেকে ২০৩৭ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বলেও প্রসঙ্গটি আসে। উড়োজাহাজ কিনতে একসঙ্গে অর্থ পরিশোধ করতে হবে না। সামগ্রিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি সইয়ের আলোচনা এগিয়ে নিতে তখন শেখ বশিরউদ্দীন বোয়িংয়ের ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার প্রস্তাব দেন বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।
এপ্রিলে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী আটটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার ও চারটি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স জেট উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওই ১৪টি উড়োজাহাজের বাজারমূল্য প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা। ওই চুক্তি অনুযায়ী বোয়িংয়ের প্রথম উড়োজাহাজটি ২০৩১ সালের নভেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা এবং বাকি উড়োজাহাজগুলো ২০৩৫ সালের অক্টোবরের মধ্যে বিমানের বহরে যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িংয়ের আরও উড়োজাহাজ কিনবে বাংলাদেশ