আলীকদমের দুর্গম এলাকায় বাড়ছে সংক্রমণ, আছে টিকা নিয়ে অনাগ্রহ
· Prothom Alo

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের শয্যায় ও মেঝেতে শুধু রোগী আর রোগী। মাত্র ৩১ শয্যার হাসপাতালে এখন ৭২ জন রোগী রয়েছে। এদের মধ্যে হামের উপসর্গের রোগী রয়েছে প্রায় ৫০ জন, হামের উপসর্গের অধিকাংশ শিশু ও কিছুসংখ্যক কিশোর। দুর্গম এলাকার রোগীর সুবিধার্থে কুরুকপাতা বাজারের অস্থায়ী ক্লিনিক পোয়ামুহুরীতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আজ রোববার পোয়ামুহুরী থেকে ফিরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) মো. হানিফি এ তথ্য জানিয়েছেন।
Visit sport-newz.biz for more information.
কুরুকপাতা বাজারের অস্থায়ী ক্লিনিকে কয়েক দিনের চিকিৎসায় ওই এলাকার আশপাশে হামের উপসর্গের রোগী কমে গেছে। কিন্তু সেখান থেকে আরও প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে পোয়ামুহুরী ও আশপাশের দুর্গম ম্রো পাড়াগুলোতে রোগী বেড়ে গেছে। এ কারণে কুরুকপাতা বাজারে অস্থায়ী ক্লিনিকে থাকা চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের পোয়ামুহুরীতে নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পোয়ামুহুরীর বিদ্যামনিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পোয়ামুহুরী এলাকার প্রেন্নয় হোস্টেলের পরিচালক উথোয়াইংগ্য জানিয়েছেন, পোয়ামুহুরী এলাকায় চিকিৎসাসেবা নিয়ে যাওয়ায় সেখানে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় দুর্গম পাড়া থেকে ৪০ জনের অধিক রোগী চিকিৎসা নিতে এসেছে। তাদের মধ্যে সকালে ৪ জন ও বিকেল ১২ জনকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়েছে। অন্য রোগীদের জন্য বিদ্যামনিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পোয়ামুহুরীতে চিকিৎসক ও অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের রাত কাটানোর জায়গা না থাকায় তাঁদের কুরুকপাতা বাজারে নেওয়া হবে। সকালে আবার চিকিৎসা দেওয়ার জন্য বিদ্যামনিপাড়া বিদ্যালয়ে নিয়ে আসা হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের রোগীদের ভর্তি, থাকা-খাওয়ার যাবতীয় দেখভাল করছেন ম্রো যুব সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। সংগঠনের সভাপতি সেথং ম্রো জানিয়েছেন, হাসপাতালে আজ সকালে ৪ জন ও বিকেলে ১২ জন রোগীকে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল শনিবার ভর্তি হওয়া ৩২ জনসহ বর্তমানে ৪৮ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। হাসপাতালে শয্যা না থাকায় অধিকাংশ রোগীকে মেঝেতে শয্যা পেতে রাখা হয়েছে।
ইউএইচএফপিও মো. হানিফ জানিয়েছেন, পোয়ামুহুরীতে অস্থায়ী ক্লিনিকে নেওয়ার আগে সেনাবাহিনী ও জনপ্রতিনিধি মাধ্যমে দুর্গম পাড়াগুলোতে সংবাদ দেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনীর সদস্যরাও দুর্গম এলাকার রোগীদের আসার জন্য সহযোগিতা করেছেন। ম্রো যুব সংগঠন, প্রেন্নয় হোস্টেল কর্তৃপক্ষসহ সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বেশিসংখ্যক রোগী নিয়ে আসা সম্ভব হচ্ছে। ফলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
টিকা নিয়ে কুসংস্কার
দুই দিন আগে কুরুকপাতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ক্রাতপুং ম্রো প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, যোগাযোগবিচ্ছিন্ন এলাকার ম্রোদের টিকা নিয়ে কুসংস্কার আছে। তাঁরা মনে করেন, টিকা দিলে ছেলেমেয়েরা সঠিকভাবে বেড়ে উঠতে পারবে না। আক্রান্ত হলে হাসপাতালে আসতে চায় না। এ জন্য রোগ ছড়িয়ে প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। তবে এবারে প্রকোপে কয়েকজনের মৃত্যু হওয়ায় অধিকাংশ পাড়াবাসী টিকা দিতে এসেছেন।
ইউএইচএফপিও মো. হানিফও ম্রোদের টিকা না নেওয়ার প্রবণতা সম্পর্কে জানিয়েছেন, এখনো মিয়ানমার সীমান্তবর্তী ছোট ছোট দুটি পাড়াবাসী টিকা দিতে রাজি হয়নি। তাদের কীভাবে টিকার আওতায় আনা হবে, জনপ্রতিনিধিদের, বিশেষ করে ম্রো নেতাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, দুর্গমে থাকা ম্রোদের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানো কঠিন। চিকিৎসাসেবা নেওয়ার জন্যও তারা আগ্রহী নয়। এ জন্য দু-একজন আক্রান্ত হলেই চিকিৎসা নিতে এলে ছড়িয়ে পড়ত না। স্বাস্থ্যসচেতনতাও তাদের খুবই দুর্বল। এই অবস্থা দূর করতে হলে শিক্ষিত ম্রোদের থেকে স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে প্রশিক্ষণ দিতে হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।