কারাবন্দী নোবেলজয়ী নার্গিস মোহাম্মদির স্বাস্থ্যের অবনতি, পরিবারের উদ্বেগ

· Prothom Alo

কারাবন্দী ইরানি মানবাধিকারকর্মী ও নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী নার্গিস মোহাম্মাদির শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। তাঁকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসা সুবিধাসম্পন্ন হাসপাতালে স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছে তাঁর পরিবার ও নোবেল শান্তি পুরস্কার কমিটি।

গত শুক্রবার পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, ৫৪ বছর বয়সী নার্গিসকে উত্তর-পশ্চিম ইরানের কারাগার থেকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তবে পরিবারের দাবি, তাঁকে অনেক দেরিতে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

Visit sport-tr.bet for more information.

গতকাল শনিবার নরওয়েতে বসবাসরত নার্গিসের ভাই বিবিসিকে বলেন, ‘হঠাৎ করে তাঁর রক্তচাপ অনেক কমে গেছে। চিকিৎসকেরা এখনো তা স্বাভাবিক অবস্থায় আনতে পারছেন না।’

নার্গিস মোহাম্মাদি ২০২৩ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান। ইরানি কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করায় গত ডিসেম্বরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গত মাসে তাঁর ভাই হামিদরেজা মোহাম্মাদি বলেন, উত্তর-পশ্চিম ইরানের জানজান কারাগারে হার্ট অ্যাটাক করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্য বন্দীরা তাঁকে অজ্ঞান অবস্থায় পান। হৃদযন্ত্র, ফুসফুস ও রক্তচাপের পুরোনো সমস্যা থাকা সত্ত্বেও কারা কর্তৃপক্ষ তাঁকে হাসপাতালে পাঠাতে অস্বীকার করে বলেও জানান হামিদরেজা।

হামিদরেজা মোহাম্মাদি বলেন, ‘এই মুহূর্তে তাঁর সমস্যা হলো নিম্ন রক্তচাপ ও হার্ট অ্যাটাক। তেহরানের কোনো হাসপাতালে নেওয়া হলে নার্গিসের পরিচিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা তাঁর চিকিৎসা করতে পারবেন।

একই দাবি তুলেছেন নোবেল শান্তি পুরস্কার কমিটির প্রধান ইয়ুর্গেন ওয়াটনে ফ্রিডনেস। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তিনি বলেছেন, মোহাম্মাদির জীবন এখনো ঝুঁকিতে রয়েছে।

নার্গিস মোহাম্মাদি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, জীবনে এ পর্যন্ত ১৩ বার গ্রেপ্তার হয়েছেন নার্গিস। মোট ৩১ বছরের কারাদণ্ড ও ১৫৪টি বেত্রাঘাতের সাজা হয়েছে তাঁর। ২০২১ সালে ‘রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণা’ ও ‘রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগে ১৩ বছরের সাজা ভোগ শুরু করেন তিনি। এসব অভিযোগ তিনি সব সময় অস্বীকার করে আসছেন।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে চিকিৎসার জন্য তেহরানের এভিন কারাগার থেকে সাময়িকভাবে মুক্তি পান নার্গিস। চিকিৎসার পাশাপাশি তাঁর আন্দোলনও চলতে থাকে। গত ডিসেম্বরে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে এক মানবাধিকারকর্মীর স্মরণসভায় বক্তৃতা দেওয়ার পর তাঁকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় মারধরের শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল বলে জানায় তাঁর পরিবার।

এরপর গত ফেব্রুয়ারিতে কারাবন্দী নার্গিসকে সাত বছরের বেশি সময়ের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। নার্গিসের আইনজীবী জানিয়েছেন, অপরাধ করার উদ্দেশ্যে সমবেত হওয়া এবং এতে যোগসাজশের অভিযোগে এই মানবাধিকারকর্মীকে এই সাজা দেওয়া হয়েছে।

Read full story at source