চার ধরনের যোগাযোগসুবিধা, তবু বড় শিল্প গড়ে ওঠেনি

· Prothom Alo

যশোর জেলার ব্যবসা-বাণিজ্যের সংকট ও সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাধারণ সম্পাদক তানভীরুল ইসলাম সোহান। তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন প্রথম আলোর যশোর প্রতিনিধি মনিরুল ইসলাম।

Visit fish-roadgame.online for more information.

এত যোগাযোগসুবিধা থাকার পরও যশোর প্রত্যাশিত শিল্প ও বাণিজ্যকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারেনি কেন?

তানভীরুল ইসলাম সোহান: যশোর প্রাচীন শহর। অবকাঠামোগত সম্ভাবনা ও ভৌগোলিক সুবিধার দিক থেকে এটি অনন্য। তবে বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার জন্য নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ অপরিহার্য। কিন্তু যশোরে সেই নিশ্চয়তা নেই। ফলে ভারী শিল্পের বিনিয়োগকারীরা এখানে আকৃষ্ট হননি।

নওয়াপাড়া নদীবন্দরকে কার্যকর করতে কী করতে হবে? 

তানভীরুল ইসলাম: ভৈরব নদের নাব্যতাসংকট ও অবকাঠামোগত আধুনিকায়নের অভাব নওয়াপাড়া নদীবন্দরের প্রধান সমস্যা। বন্দরসংলগ্ন একটি সেতুর পিলারের গোড়ায় বালু ও পলি জমায় এ নদের নাব্যতা কমেছে। ফলে মোংলা থেকে নওয়াপাড়ায় পণ্যবাহী কার্গো আসতে পারছে না। তাই আধুনিক প্রযুক্তিতে নিয়মিত ড্রেজিং করতে হবে। সেই সঙ্গে আধুনিক ক্রেন ও পণ্য খালাসের সুবিধা এবং ঘাট ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে অভ্যন্তরীণ পণ্য পরিবহনের খরচ ৪০-৫০ শতাংশ কমবে।

যশোর বিমানবন্দর কার্যকর করতে কী উদ্যোগ প্রয়োজন?

তানভীরুল ইসলাম: যশোর থেকে কক্সবাজারে বিমান চলাচলের সময় সেখান থেকে চিংড়ির প্রচুর রেনুপোনা যশোরে আনা হতো। পরে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ এখান থেকে রেনুপোনা নিয়ে যেতেন। ওই পথে ফ্লাইট বন্ধ হওয়ায় রেনুপোনা আসা অনেক কমেছে। যশোর-ঢাকা পথেও বিমান চলাচল সীমিত হয়েছে। আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি, যশোর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তর করা হোক। এ অঞ্চলে প্রচুর শাকসবজি, ফুল ও পোনা মাছ উৎপাদিত হয়। কার্গো সুবিধাসহ আন্তর্জাতিক বা আঞ্চলিক হাব হিসেবে বিমানবন্দরটি গড়ে তোলা গেলে কৃষি ও পচনশীল পণ্য সরাসরি বিদেশে রপ্তানি সম্ভব হবে। 

এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেছেন কী?

তানভীরুল ইসলাম: যশোরের সংসদ সদস্য এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সঙ্গে দেখা করে মৌখিকভাবে বিষয়গুলো জানিয়েছি। তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপস্থিতিতে নির্বাচনী জনসভায় বিষয়টি উপস্থাপন করেছিলেন।

প্রস্তাবিত কনটেইনার টার্মিনালের অগ্রগতি কত দূর?

তানভীরুল ইসলাম: যশোরের রূপদিয়ায় সমন্বিত কনটেইনার টার্মিনাল স্থাপনের দাবি দীর্ঘদিনের। রেলওয়ে বাংলাদেশের মহাপরিচালক একবার স্থানটি পরিদর্শন করেছেন। এরপর আর অগ্রগতি হয়নি। টার্মিনালটি হলে ভারত-বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ পণ্য পরিবহনে বড় পরিবর্তন আসবে, খরচও কমবে। বেনাপোলে জায়গার সংকট থাকায় যশোরে টার্মিনাল হলে খুলনা ও মোংলাও সুবিধা পাবে। চট্টগ্রাম থেকে রেলপথে আসা কনটেইনার কমলাপুর স্টেশনে খালাসের পর আবার জাহাজে ভারতে পাঠাতে হয়। যশোরে টার্মিনাল হলে এই অতিরিক্ত খরচ এড়ানো সম্ভব হবে। এতে দুই দেশের আমদানি-রপ্তানি ব্যয় কমবে। 

যশোরে অটোমোবাইল পার্ক ও নতুন ইপিজেডের অবস্থা কী?

তানভীরুল ইসলাম: সুতিঘাটায় অটোমোবাইল পার্কের জন্য জমি চিহ্নিত হলেও সরকারি অনুমোদন, তহবিল ও অবকাঠামোর অভাবে প্রকল্পটি থমকে যায়। দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর প্রকল্পটি পুনর্মূল্যায়ন ও একনেকের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। নতুন বিসিক স্থাপনে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত তৎপর রয়েছেন। অন্যদিকে যশোরের নতুন ইপিজেডের কাজ এগোচ্ছে। এতে স্থানীয় কাঁচামাল ও সস্তা শ্রম কাজে লাগবে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

পুরোনো বিসিক শিল্পনগর সচল করতে কী করা দরকার? 

তানভীরুল ইসলাম: গ্যাস না থাকায় বিদ্যুৎ দিয়ে উৎপাদন করতে হয়, ফলে খরচ বাড়ে। বিসিকের ব্যবসায়ীরা বন্ড সুবিধাও পান না। উচ্চ সুদের ঋণ নিয়ে অনেক উদ্যোক্তা দেউলিয়া হয়েছেন। তাই রুগ্​ণ শিল্প পুনর্বাসনে সহজ শর্তে ঋণ দিতে হবে। রাস্তাঘাটের অবস্থাও খারাপ; বৃষ্টিতে পানি জমে এবং ড্রেনেজ–ব্যবস্থা দুর্বল। বরাদ্দ বাড়িয়ে অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি।

Read full story at source