রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশন অতিক্রমের সময় ট্রেন থেকে পাথর নিক্ষেপ, গ্রেপ্তার ৪

· Prothom Alo

বরাবরই শোনা যায়, চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপে যাত্রীরা আহত হন। পাথর নিক্ষেপ করা ব্যক্তিরা খুব কমই ধরা পড়েন। এবার ঘটেছে উল্টো ঘটনা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রেলস্টেশন অতিক্রম করার সময় ট্রেন থেকেই পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এ অভিযোগে ট্রেনে অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করা হয়েছে। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের প্রতিবাদে ২১ সেপ্টেম্বর রাতে রাজশাহী রেলস্টেশনে ব্যাপক ভাঙচুর করেন শিক্ষার্থীরা। এর পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশন অতিক্রমের সময় ট্রেন থেকে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটছে। এ নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

Visit asg-reflektory.pl for more information.

গ্রেপ্তার চারজন হলেন কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার দক্ষিণ পদুয়া গ্রামের শহিদুল ইসলাম ওরফে বাপ্পি (২২), দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার ছোট কালাইঘাটি গ্রামের শফিকুল কামাল (২৭), রাজশাহী নগরের ভদ্রা জামালপুর এলাকার সবুজ আলী (৩৩) ও কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার চাঁদগ্রাম গ্রামের শরিফুল ইসলাম (৪৫)। তাঁরা রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী আন্তনগর ধূমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী ছিলেন। গতকাল সোমবার রাত ১১টা ২৫ মিনিটে ট্রেনটি বিশ্ববিদ্যালয় রেলস্টেশন অতিক্রম করে। তখন ট্রেন থেকে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

পাথরের আঘাতে স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা এক নারী আহত হন। পরে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খবর পেয়ে বাঘার আড়ানি স্টেশনে ট্রেনটি থামায় রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও রেলওয়ে পুলিশ। এরপর শহিদুল ইসলাম, শফিকুল কামাল ও সবুজ আলীকে ট্রেনের ছাদ থেকে এবং কামরা থেকে শরিফুলকে আটক করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে কয়েকটি পাথর জব্দ করার দাবি করেছে রেলওয়ে পুলিশ।

রাজশাহী রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমরা ফেসবুকে এর আগে এমন ঘটনা দেখেছি। রাতে খবর পাই, ট্রেনের ছাদে টিকিট ছাড়া অবৈধভাবে ভ্রমণ করা কয়েকজন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে অবস্থানরত যাত্রীদের লক্ষ্য করে পাথর ছুড়েছে। এরপর পুলিশের একটি দল আড়ানি স্টেশনে ধূমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেনে অভিযান চালায়। এ সময় ট্রেন থেকে চারজনকে আটক করা হয়।’

ওসি আরও বলেন, গ্রেপ্তার চারজনের বাড়ি বিভিন্ন জেলায়। তাঁরা কেন ঢাকার ট্রেনে উঠেছিলেন, সদুত্তর দিতে পারেননি। তাঁরা পাথর নিক্ষেপের বিষয়টিও স্বীকার করেননি। তবে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। চারজনের বিরুদ্ধে রেলওয়ে আইন-১৮৯০-এর ১১৩, ১২৭ ও ১২৯ ধারায় মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়।

রেলওয়ের সঙ্গে কয়েক দিন ধরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না। বিভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রায় শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে রেলপথ অবরোধ করছেন। সম্প্রতি রাজশাহী রেলস্টেশনে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। এরপর শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয় রেলস্টেশন অতিক্রমের সময় ট্রেন থেকে শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হচ্ছে। গতকাল রাতের ঘটনার আগে দুই দিন এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। ট্রেন থেকে ছোড়া পাথর গিয়ে লাগছে দোকানপাটে। সোমবার রাতে একটি পাথর এক দোকানের ফ্রিজে আঘাত করেছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. মাহবুবর রহমান বলেন, স্টেশনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে রাজশাহীর স্থানীয় মানুষের একটা মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব তৈরি হয়েছে। ওই ঘটনাকে পুঁজি করে কোনো মহল এসব করছে কি না, সন্দেহ তৈরি হয়েছে। কারণ, দেশের কোথাও আগে ট্রেন থেকে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা শোনা যায়নি। শুধু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনেই পাথর নিক্ষেপ করা হচ্ছে। এটা নিয়ে তাঁরা খুবই উদ্বিগ্ন।

Read full story at source