ইমতিয়াজের খুশির দিন

· Prothom Alo

ইমতিয়াজের আজ খুশির সীমা নাই। অফিসে মিষ্টি বিলিয়েছে ১০ কেজি। প্রথমে ৫ কেজি আনিয়েছিল, খুশির চোটে আরও ৫ কেজি আনিয়েছে। পুরো অফিস হয়ে আছে রস রস। অফিসের কলিগরা বিস্মিত—কী হয়েছে কী ইমতিয়াজের?

Visit rouesnews.click for more information.

যেমনটা হয়, স্মোকিং জোন থেকে ব্যাপারটা শুরু হয়। পলাশ বলে প্রথমে, নতুন জায়গায় চাকরি পাইছে নিশ্চিত! ভালো প্যাকেজ। ফ্ল্যাট-গাড়ি সবই দিতেছে মেবি!

ফোঁস করে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে আরমান। বেচারা সাত মাস ধরে চাকরি বদল করতে চাচ্ছে। পারছে না। তার বউ বলেছে, ‘তুমি চাকরি কেন, প্যান্ট বদলেরও যোগ্যতা রাখো না!’

প্রথম প্রথম এসব কথা বিশ্বাস করত না আরমান, এখন করে। তার খুবই সন্দেহ হয়, একদিন সে সত্যি সত্যি প্যান্ট-শার্ট বদল করতে আর পারবে না। এককাপড়ে তখন চলে যাবে হিমালয়ের দিকে।

কিন্তু এরই মধ্যে রাইসা আলটপকা হয়ে ওঠে। বলে, ‘তোদের কি মাথা খারাপ! চাকরির যা বাজার, তাতে কেউ সেইটা পেয়ে মিষ্টি খাইয়ে জানাবে? বরং চুপ করে রিজাইন দিয়ে টুপ করে চলে যাবে। পরে ফেসবুকে দেবে বিরাট স্ট্যাটাস।’

কথা সত্য! গত মাসেও আমিন গেছে এইভাবে। কিন্তু প্রশ্ন তো থেকেই যায়, ইমতিয়াজের তাহলে হলোটা কী?

রহমত গাজী বলে, বিদেশ যাইতেছে। মানে পার্মানেন্টলি! ভালো করে খোঁজ নিয়ে দেখেন স্ত্রীকে নিয়ে রওনা-ফওনা দেবে আগামী মাসেই!

কিসের টানে বাংলাদেশে ?ট্রাম্প আরও যা কিছু করতে বাধ্য করতে পারেনবাংলা নাটকে বিসিএস ক্যাডারছাগল–কাণ্ড

ফোঁস করে আবার শ্বাস ফেলে আরমান। বেচারা দুই বছর ধরে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছে। শুধু চেষ্টা না, সে একেবারে উঠেপড়ে লেগে আছে। হেন কোনো দেশ নাই যে চেষ্টা করেনি। এম্বাসি এম্বাসি ঘুরে ঘুরে মাথার চুল পাতলা করে ফেলেছে। লাভ হয়নি। দেশে একটা করে খুন-ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে, সেসব খবরের লিংক তার বউ তাকে পাঠিয়ে লেখে, ‘দেখো, এখনো কি এই দেশে থাকতে চাও তুমি?’

আরমান উত্তর লেখে, ‘থাকতে চাই না। কিন্তু কোনো দেশ তো নিতেও চায় না!’

বউ লেখে, ‘তোমাকে আমার মা-ই জামাই হিসেবে নিতে চায় নাই, আর ওসব দেশ! তোমাকে আসলে কেউই চায় না—আমিও না!’

এ নিয়ে আরমানের দুঃখের শেষ নাই। অথচ এদিকে বলা নেই, কওয়া নেই, ইমতিয়াজ বিদেশে চলে যাচ্ছে? কোন দেশ? অস্ট্রেলিয়া নাকি নিউজিল্যান্ড? আহারে, যদি কানাডায়ও যায়... আরমান আর চিন্তা করতে পারে না।

এত দিন ননস্মোকার এইচআর ছিল। নতুন জন স্মোকার, তবে ভ্যাপারি। অর্থাৎ উনি ভেপ খান। খেতে খেতে সিগারেট যে কত খারাপ, এ ব্যাপারে আওয়াজ দেন। সবাই মিলে তাকে ধরা হলো, ইমতিয়াজের কাহিনি কী? সে কি জব সুইচার নাকি কান্ট্রি?

এইচআর বললেন, এ ব্যাপারে মিটিং ডাকা হয়েছে। বিকেল ৪টায়।

৪টায় সবাই গোছগাছ হয়ে এল। এমনকি সবচেয়ে লেটে সব জায়গায় পৌঁছান যিনি, তিনিও এলেন ঠিক সময়ে। ইমতিয়াজ রহস্যের উন্মোচন করা ছাড়া কাজে মন, ফোনে চোখ কিছুই দেওয়া যাচ্ছে না।

এইচআর বললেন, ‘ইমতিয়াজ ভাই, দুইবার মিষ্টি খাইয়েছেন। জাতি জানতে চায়, কেন? কী এমন সুখবর আছে, বলেন তো?’

‘জি, আমার স্ত্রী তার বাপের বাড়িতে গেছে।’

‘বাহ! ভালো খবর। স্ত্রী বাপের বাড়িতে গেলে স্বামীরা প্রথম কয়েক দিন খুশিই থাকে, কিন্তু তাই বলে ডাবল মিষ্টি?’

‘না না। স্ত্রী বাপের বাড়িতে গেছে, এ জন্য খুশি না তো।’

‘তাহলে?’

‘স্ত্রী তাদের বাড়ির স্টোররুমে ঢুকে পড়েছিল...’

কাশফুলের কাছে ক্ষমা চেয়ে পত্রকিসের টানে বাংলাদেশে ?ট্রাম্প আরও যা কিছু করতে বাধ্য করতে পারেনশাহবাগ ব্লকেড

‘আচ্ছা। কিন্তু এটা কীভাবে খুশির খবর হলো?’

‘না মানে, আসলে...’

ইমতিয়াজের চোখটা আবারও ভরে ওঠে খুশিতে। হড়বড়িয়ে বলে, ‘ওই স্টোররুমে আমার স্ত্রী পেয়েছে এক ড্রাম...’

‘কী পেয়েছে, গুপ্তধন? গোল্ড না ডায়মন্ড...?’

‘না না। সেসব পেলে কি আর খুশি হই এতটা? ডাবল মিষ্টি কি আর খাওয়াই!’

সবাই এবার একসঙ্গে বলে ওঠে, ‘তাহলে পেয়েছেটা কী?’

‘তেল! আমার স্ত্রী পেয়েছে এক ড্রাম তেল! তাদের পৈতৃক তেল! পূর্বপুরুষ রেখে গিয়েছিল!’

শুধু আরমান না, এবার ফোঁস করে দীর্ঘশ্বাস ফেলল সবাই। তেলপ্রাপ্তির এই খবর ইমতিয়াজের জন্য ডাবল খুশির হলেও অন্যদের জন্য বিশেষ ঈর্ষার। অবশ্য এই ঈর্ষার মধ্যেও একটা ছোট্ট আশা উঁকি দিয়েছে তাদের মনে—এই তেলের দাম বাড়ার দেশে, তারাও যদি কোনোভাবে পেয়ে যায় স্ত্রী-বাড়ির পৈতৃক তেল?

তারা সবাই যে-যার স্ত্রীকে যথেচ্ছ তেল দিয়ে টেক্সট দিয়ে বলল, ‘অনেক দিন তো যাও না, কাল একবার যাবে নাকি বাপের বাড়ি?’

বেদনা বধিরজীবনওয়াকআউট করার অধিকার যদি তাঁদেরও থাকতবিয়ে না করার ১০ উপকারিতা...১টা ফাউছিনতাই! এখানে স্যালুট দেওয়ার কোনো দরকার নেইপাটওয়ারীর ছাগল, প্রাডো এবং...বাংলা নাটকে বিসিএস ক্যাডার

Read full story at source