অপ্রতিম হত্যা: সন্দেহভাজন সিয়ামকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ
· Prothom Alo
কুমিল্লায় ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিম (১৩) হত্যা মামলায় আটক সন্দেহভাজন মো. সিয়াম (১৯) নামের এক তরুণকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এ নিয়ে মামলাটিতে চারজন গ্রেপ্তার হলেন। গ্রেপ্তার চার আসামির মধ্যে দুই কিশোরকে গাজীপুরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে; তারা হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এই দুই কিশোরের বয়স ১৫ ও ১৬ বছর।
রোববার রাতে তাদের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি ১৯ বছর বয়সী সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিনকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকছেন। আর ১৯ বছর বয়সী মো. সিয়ামকেও সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য, সিয়াম সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেননি; তবে হত্যার ঘটনা সম্পর্কে জানার পরও তা গোপন করেছিলেন।
Visit newsbetting.cv for more information.
রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান প্রথম আলোকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
পুলিশ কর্মকর্তা লুৎফর রহমান বলেন, হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত দুই কিশোরকে আদালতের আদেশ অনুযায়ী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হবে। তাদের গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। তবে কখন তাদের সেখানে পাঠানো হবে, তা কারা কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ নিশ্চিত করেনি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার এসআই মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, চার আসামিকে কুমিল্লা কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুই কিশোরকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর জন্য আদালত অনুমতি দিয়েছেন। অপর দুজন কুমিল্লা কারাগারে থাকবেন।
মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার হওয়া ১৯ বছর বয়সী মো. সিয়ামের বাড়ি কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানার সূধন্যপুর (নোয়াবাড়ি) এলাকায়।
জেলা পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, সন্দেহভাজন হিসেবে মো. সিয়ামকে আটক করা হয়েছিল। হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা তুহিন শুক্রবার অপ্রতিমকে খুনের পর ওই দিন রাত ৯টার দিকে প্রায় দেড় ঘণ্টা সিয়ামের সঙ্গে আড্ডা দিয়েছেন। তাঁরা সম্পর্কে বন্ধু। সিয়ামকে তুহিন হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত জানিয়েছিলেন। কিন্তু সিয়াম ওই সব কথা গোপন রাখেন। এ জন্য তাঁকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। এরপর গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ বিকেলে কুমিল্লা আদালতে প্রেরণ করা হয়। রাতে তিন আসামির সঙ্গে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গত শুক্রবার কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। পরদিন শনিবার দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের রহস্য অনেকটাই উন্মোচিত, দাবি পুলিশের, দুপুরে সংবাদ সম্মেলন