মহাকাশে ৮৪টি উজ্জ্বল বস্তুর সন্ধান, বিজ্ঞানীদের দলে রয়েছেন এক বাংলাদেশিও

· Prothom Alo

বিশাল মহাকাশের অন্তহীন অন্ধকারে লুকিয়ে আছে নানা ধরনের রহস্য। সেই রহস্য উন্মোচনে দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণা করছেন বিজ্ঞানীরা। এবার মহাকাশে আমাদের নিকটবর্তী গ্যালাক্সিগুলো পর্যালোচনা করে ৮৪টি রহস্যময় বস্তুর সন্ধান পেয়েছেন বিভিন্ন দেশের একদল বিজ্ঞানী।

Visit betsport.cv for more information.

বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, নাসার চন্দ্র এক্স–রে অবজারভেটরির সংগ্রহ করা তথ্য বিশ্লেষণ করে রহস্যময় বস্তুগুলোর সন্ধান পাওয়া গেছে, যা এত দিন মানুষের চোখের আড়ালে ছিল। নতুন এই আবিষ্কারের বিষয়ে আলাবামা বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুস্তফা মুহিবুল্লাহ বলেন, ‘যে বিষয়টি আমাদের সবচেয়ে বেশি অবাক করেছে, তা হলো শনাক্ত করা কঠিন হলেও এগুলো অত্যন্ত উজ্জ্বল হতে পারে।’

বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, বস্তুগুলো সূর্য থেকে লাখ লাখ গুণ বেশি শক্তি নির্গমন করতে পারে। কিন্তু এত দিন বস্তুগুলোকে আলাদা করে চিহ্নিত করা যায়নি। অদ্ভুত বস্তুগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে ‘হাইপারসফট এক্স–রে সোর্স’। বস্তুগুলো থেকে নির্গত এক্স–রে রশ্মির শক্তির পরিমাণ খুবই কম। এগুলোর বেশির ভাগ বিকিরণ অতিবেগুনি রশ্মি হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর আন্তনাক্ষত্রিক গ্যাস এই অতিবেগুনি রশ্মিকে শুষে নেয়। ফলে টেলিস্কোপে কেবল কম শক্তির এক্স–রে রশ্মি পৌঁছাতে পারে।

এ বিষয়ে মুস্তফা মুহিবুল্লাহ জানান, এই হাইপারসফট জনসংখ্যার একটি অংশ যদি গ্যাস সংগ্রহকারী শ্বেত বামন হয়, তবে তা নিখোঁজ পর্যবেক্ষণের ঘাটতি পূরণে সহায়তা করবে। ভবিষ্যতে আরও উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে এই বস্তুগুলোর তাপমাত্রা পরিমাপ করা সম্ভব হবে। এক্স–রে ও অতিবেগুনি রশ্মির সাহায্যে যুগপৎ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এদের আসল রূপ স্পষ্ট হবে। মহাকাশের কোলজুড়ে লুকিয়ে থাকা এই অদ্ভুত বস্তুগুলো গ্যালাক্সির অনেক অজানা রহস্য উন্মোচন করবে।

অ্যান্ড্রোমিডা ও এম১০১–সহ ছয়টি গ্যালাক্সির প্রতিটিতে ৭ থেকে ২১টি এমন উৎস পাওয়া গেছে। এই ঝাপসা বিন্দুগুলো টেলিস্কোপের কোনো ত্রুটি নয়, তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা করেছেন বিজ্ঞানীরা। বারবার একই অবস্থানে এই বস্তুগুলোর উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। জেমস ওয়েব কিংবা অন্যান্য টেলিস্কোপেও এদের কিছু সংকেত ধরা পড়েছে। আর তাই বস্তুগুলো আসলে কী, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে নানা কৌতূহল কাজ করছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, শনাক্ত করা বস্তুগুলোর মধ্যে কয়েকটি মৃত নক্ষত্রের অবশিষ্টাংশ বা শ্বেত বামন থাকতে পারে। আবার কিছু বস্তু হতে পারে নিউট্রন তারা কিংবা ব্ল্যাক হোল। শ্বেত বামন তারা আশপাশের অন্য নক্ষত্র থেকে গ্যাস টেনে নিজের ওজন বাড়াতে থাকে। একসময় বিশাল বিস্ফোরণের মাধ্যমে এই নক্ষত্রগুলোর ধ্বংস ঘটেছে। এই মহাজাগতিক বিস্ফোরণগুলোর আগের অবস্থা সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা এত দিন অন্ধকারে ছিলেন। হাইপারসফট উৎসগুলোর আবিষ্কার সেই হারানো যোগসূত্র খুঁজে পেতে সাহায্য করতে পারে।

সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট

Read full story at source