রাজস্থানের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনোরকমে ‘মুখরক্ষা’ বিজেপির
· Prothom Alo

ভারতের রাজস্থান রাজ্যে ক্ষমতায় আছে বিজেপি। তবে রাজ্যে সদ্য সমাপ্ত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলটি যে ফলাফল করেছে, তাকে কোনোরকমে ‘মুখরক্ষা’ বলা যায়।
Visit milkshakeslot.online for more information.
প্রকাশিত ফলাফলের বরাতে হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, বিজেপি ৪ হাজার ১৭৯টি ওয়ার্ডে জিতেছে। আর কংগ্রেস ৩ হাজার ৬১৩টি ওয়ার্ডে জিতেছে। নির্দলীয় প্রার্থীরা ২ হাজার ২৭৩টি ওয়ার্ডে জয়ী হয়েছেন। বাকিগুলো পেয়েছে বিভিন্ন ছোট দল।
ফলাফলে দেখা যায়, রাজ্যের স্থানীয় সরকারের ৩০৯টি সংস্থার মধ্যে বিজেপি ৮৬টিতে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে এবং কংগ্রেস ৪৬টিতে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। বাকি ১৭৭টিতে কোনো দলই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। এর মধ্যে ৯৬টিতে কংগ্রেসের চেয়ে এগিয়ে আছে বিজেপি। আর ৬৯টিতে বিজেপির চেয়ে এগিয়ে কংগ্রেস। বাকি ১২টিতে দুই দল সমান অবস্থানে রয়েছে।
এএনআইয়ের খবরে বলা হয়, ৩০৯টি স্থানীয় সরকার সংস্থার নির্বাচনে বিজেপি পেয়েছে ৩৫ দশমিক ১৮ শতাংশ ভোট। ভোটের সংখ্যা ৩৭ লাখ ৩৫ হাজার ৫৬৭। অন্যদিকে কংগ্রেস পেয়েছে ৩৪ দশমিক ২৪ শতাংশ ভোট। কংগ্রেসের ভোটের সংখ্যা ৩৬ লাখ ৩৫ হাজার ৯৫২। অর্থাৎ প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের মধ্যে ভোটের ব্যবধান মাত্র শূন্য দশমিক ৯৪ শতাংশ। ভোটের সংখ্যার হিসাবে এই ব্যবধান ৯৯ হাজার ৬১৫।
স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মোট ২৭ দশমিক ৩৮ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। তাঁদের ভোটের মোট সংখ্যা ২৯ লাখ ৬ হাজার ৭৮৭। কোনো প্রার্থীকেই নয়, এমন ভোট পড়েছে ১ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। মোট ভোট ১ লাখ ৯ হাজার ৫২৩। এই ভোটের হার কয়েকটি ছোট দলের পাওয়া ভোটের চেয়ে বেশি।
অন্য দলগুলোর মধ্যে রাষ্ট্রীয় লোকতান্ত্রিক পার্টি (আরএলপি) পেয়েছে শূন্য দশমিক ৯৪ শতাংশ ভোট। আম আদমি পার্টি (এএপি) পেয়েছে শূন্য দশমিক ৪৬ শতাংশ ভোট। সিপিআই (এম) পেয়েছে শূন্য দশমিক ৩২ শতাংশ ভোট। বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি) পেয়েছে শূন্য দশমিক ২৮ শতাংশ ভোট। ভারত আদিবাসী পার্টি (বিএপি) পেয়েছে শূন্য দশমিক ১৩ শতাংশ ভোট।
রাজস্থানে ৯ ও ১১ সেপ্টেম্বর দুই দফায় ৩০৯টি স্থানীয় সরকার সংস্থায় ভোট অনুষ্ঠিত হয়। এগুলোর মধ্যে ১০টি পৌরনিগম, ৫১টি পৌরপরিষদ ও ২৪৮টি পৌরসভা। মোট ১০ হাজার ২৪৫টি ওয়ার্ডে ভোট হয়েছিল। গতকাল সোমবার রাত সাড়ে আটটা নাগাদ ১০ হাজার ২৪৪টি ওয়ার্ডের ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
স্থানীয় সরকার সংস্থার এই নির্বাচনে বিজেপি ‘হেভিওয়েট’ ব্যক্তিদের প্রচারে নামিয়েছিল। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, রাজ্য বিজেপির সভাপতি—সবাই প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু তাতে সেভাবে লাভ হয়নি দলটির, যেমন রাজস্থানের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজের জেলা ঝালওয়ারে ৪৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৯টিতেই জিতেছে কংগ্রেস।
রাজ্য বিজেপির সভাপতি মদন রাঠোরের পালি পৌরসভায় ৬৫ আসনের মধ্যে কংগ্রেস জিতেছে ২৯টি।
বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়ালের জেলা বিকানির। সেখানে বিজেপি হেরে গেছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াতের জেলা যোধপুরে বিজেপি ও কংগ্রেস সমান সমান (প্রতিটি ৪৪)। সেখানে বোর্ড গড়তে স্বতন্ত্র সদস্যদের সাহায্য নিতে হবে।
নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরের তুমুল বিক্ষোভে রাজস্থানের তরুণ ও শিক্ষার্থীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ ছিল। এই বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেওয়া ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) অন্যতম নেতা আশুতোশ রঙ্কার বাড়ি রাজস্থানে।
যন্তর মন্তরের বিক্ষোভের পর রাজস্থানে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলো। এই নির্বাচনে বিজেপির বিরুদ্ধে জেন–জিরা ভোট দিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বেকারত্ব, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও চাকরিহীনতার মতো বিষয়ের প্রভাব এই ভোটে পড়েছে বলে ধারণা বিরোধীদের।
রাজ্যে বামপন্থীদের প্রভাব অনেক কমে গিয়েছিল। কিন্তু তারা এই ভোটের মধ্য দিয়ে শক্তি সঞ্চার করেছে। বিকানির জেলার নোখা পৌরসভা সিপিআইএম দখল করেছে। অন্যদিকে বারান জেলার বারান পৌরসভায় জিতেছে আম আদমি পার্টি।
রাজস্থান রাজ্য কংগ্রেসের সভাপতি গোবিন্দ সিং দোতাসারা বলেছেন, আগের ভোটে বিজেপির চেয়ে ৮ শতাংশ ভোট কম পেয়েছিল কংগ্রেস। কিন্তু এবার এই ব্যবধান কমে ১ শতাংশের নিচে নেমেছে।
রাজস্থান রাজ্যসভার ভোট দুই বছর পর। কিন্তু রাজ্যের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিজেপির কোনোরকমে ‘মুখরক্ষার’ ফলাফল, আর বিরোধীদের উত্থান বিজেপিকে দুশ্চিন্তায় রাখবে।