জাতিসংঘের মানবাধিকার কর্মকর্তা আলোর পাঠশালা পরিদর্শন করলেন

· Prothom Alo

রাজশাহী আলোর পাঠশালা পরিদর্শনে এসেছিলেন জাতিসংঘের মানবাধিকার কর্মকর্তা মো. জাহিদ হাসান। সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে এবং ইতিবাচক জীবনবোধের পাঠ দিতে ৪ আগস্ট শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় যোগ দেন বাংলাদেশে কর্মরত এই মানবাধিকার কর্মকর্তা।

Visit saltysenoritaaz.com for more information.

প্রথম আলো ট্রাস্ট পরিচালিত এই পরিদর্শনে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী থেকে প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক আবুল কালাম মুহাম্মদ আজাদ। বিদ্যালয়ে পৌঁছালে অতিথিদের উষ্ণ অভিবাদনে স্বাগত জানানো হয়।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপচারিতার শুরুতেই মো. জাহিদ হাসান জিজ্ঞেস করেন, ‘তোমরা কেমন আছো?’ শিক্ষার্থীরা যখন জানায় তারা ভালো আছে, তখন তিনি তাদের শুধরে দিয়ে ভালোবাসার সঙ্গে বলেন, ‘সবসময় বলবে—আমি খুব ভালো আছি।’ ইতিবাচক মনস্তত্ত্বের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি জানান, মানুষ যা চিন্তা করে, তার প্রভাব পড়ে মন ও আচরণে। তাই জীবনের প্রতিটা পরিস্থিতিতেই ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখা জরুরি।

জাতিসংঘের মানবাধিকার কর্মকর্তা মো. জাহিদ হাসান শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসী করা এবং ইতিবাচক জীবনবোধের বিষয়ে নানা দিকনির্দেশনা দেন।

একটি শিক্ষণীয় গল্পের মাধ্যমে তিনি শিক্ষার্থীদের বোঝান, অন্যের নেতিবাচক কথায় প্রভাবিত না হয়ে কীভাবে নিজের ওপর বিশ্বাস ও আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে হয়। তিনি উল্লেখ করেন, আলোর পাঠশালার শিক্ষার্থীরা নানা আর্থিক ও সামাজিক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে বড় হচ্ছে। তবে সামান্য সহানুভূতি, উৎসাহ ও ভালোবাসা পেলে এই শিশুরা অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারে।

প্রতিটি শিশুই অসীম সম্ভাবনাময় নক্ষত্র—উল্লেখ করে জাতিসংঘের এই কর্মকর্তা শিক্ষার্থীদের সবসময় নিয়মিত স্কুলে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘শিক্ষা শুধু বইয়ের জ্ঞান নয়, শিক্ষা একজন মানুষকে মানবিক, সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে। নিজেকে কখনো অযোগ্য মনে করবে না। অধ্যবসায় আর আত্মবিশ্বাস থাকলে সাফল্য আসবেই।’

রাজশাহী আলোর পাঠশালার শিক্ষকদের সঙ্গে মো. জাহিদ হাসান।

উপস্থিত শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘শিক্ষকতা একটি মহান ও মানবিক পেশা। শিক্ষার্থীদের কখনো নিরুৎসাহিত করবেন না। তাদের ইতিবাচক ভাষায় অনুপ্রেরণা দিলে তারা নিজেদের আত্মবিশ্বাসী হিসেবে গড়ে তুলতে পারবে।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজিনা খাতুন জানান, এ ধরনের গুণী ব্যক্তিদের আগমন শিক্ষার্থীদের মানসিক, নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে বড় ভূমিকা রাখে। জাতিসংঘের কর্মকর্তার এই সফর শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ও আশার সঞ্চার করেছে।

Read full story at source