যুক্তরাজ্যে চীনা গাড়ির জনপ্রিয়তা বাড়ছে, কারণ কী
· Prothom Alo

বছর কয়েক আগেও ব্রিটেনের রাস্তায় চীনা গাড়ি তেমন একটা দেখা যেত না। সেই দৃশ্য এখন পাল্টে গেছে। লন্ডনের সড়কে বিওয়াইডি, গিলির মতো চীনের ব্র্যান্ডের গাড়ি এখন নিয়মিত চোখে পড়ছে।
Visit bettingx.club for more information.
কম দাম, আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত মানের কারণে ব্রিটিশ ক্রেতাদের একটি অংশ চীনে তৈরি গাড়ির দিকে দ্রুত ঝুঁকে পড়ছেন। এর মধ্যে বৈদ্যুতিক গাড়িও আছে। ইউরোপে যতগুলো বড় বাজার আছে, তার মধ্যে যুক্তরাজ্য এখন চীনা গাড়ির জন্য অন্যতম সম্ভাবনাময় বাজার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
এই পরিবর্তনেরই একজন সাক্ষী ইজি উডরো। মাত্র চার সপ্তাহ আগে তিনি একটি চীনা গাড়ি কিনেছেন। লন্ডনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের শহর মেইডস্টোনের লিপসকম্ব কার্স নামের বিক্রয়কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে ইজি উডরো বলেন, ‘গাড়িটি চালাতে দারুণ, খুব আরামদায়ক, একেবারেই শব্দ হয় না। গাড়ি নির্মাণের মান ও ফিনিশিং চমৎকার। ব্যবহার করে দেখছি, প্রযুক্তিগত সুবিধাগুলোও বেশ ভালো।’
চীনের গিলি ব্র্যান্ডের এই বিক্রয়কেন্দ্র চালু হয়েছে এক বছরের কম সময় আগে। এর মধ্যে ক্রেতাদের সাড়া মিলেছে।
কত গাড়ি বিক্রি হয়
অটোমোটিভ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মোবিলিটি গ্লোবালের তথ্য বলছে, ২০১৫ সালে যুক্তরাজ্যের বাজারে চীনা গাড়ি বিক্রি হয়েছিল মাত্র ৩৮৪টি। ৫ বছর পর ২০২০ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২৫ হাজার ৩০২-এ। গত বছর বিক্রি ২ লাখ ৮৫ হাজার ছাড়িয়ে যায়। অর্থাৎ এক দশকে এই বাজার বড় হয়েছে কয়েক শ গুণ।
লিপসকম্ব এখন গিলির মাত্র দুটি মডেল বিক্রি করছে। তাতেই আকৃষ্ট হয়েছেন ক্রিস ও ট্রেসি স্মিথের মতো অনেক ক্রেতা। ক্রিস স্মিথ বলেন, দামের তুলনায় এই গাড়িগুলো অনেক বেশি সুবিধা দিচ্ছে। একই দামে অন্য অনেক প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডের গাড়ির চেয়ে বেশি ফিচার পাওয়া যায়। অথচ অনেক নামী ব্র্যান্ড বেশি দাম নিয়েও কম সুবিধা দিচ্ছে।
অটোমোটিভ গবেষণাপ্রতিষ্ঠান বেঞ্চমার্কের বিশ্লেষক উইল রবার্টস বলেন, কয়েক বছর আগেও যুক্তরাজ্যে চীনা গাড়ি ছিল কৌতূহলের বিষয়। এখন বিষয়টি নিয়মিত ঘটনা হয়ে গেছে, অর্থাৎ রাস্তায় প্রতিনিয়তই চীনা গাড়ি দেখা যায়।
উইল রবার্টসের ভাষায়, ‘প্রথম যখন লন্ডন ব্রিজে বিওয়াইডির গাড়ি দেখি, তখন বিষয়টি বড় ঘটনা ছিল। কিন্তু এখন এগুলো এতটাই সাধারণ হয়ে গেছে যে আলাদা করে আর নজরেই পড়ে না।’
চীনের গাড়ি রপ্তানি বাড়ছে কেন
চীনের গাড়িশিল্পের এই উত্থানের পেছনে রয়েছে অভ্যন্তরীণ বাজারের ধীরগতি। নতুন গাড়ির চাহিদা কমে যাওয়ায় কোম্পানিগুলো এখন রপ্তানিতে জোর দিচ্ছে।
চায়না অ্যাসোসিয়েশন অব অটোমোবাইল ম্যানুফ্যাকচারার্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে চীনের খুচরা বাজারে গাড়ি বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৬ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে গাড়ি রপ্তানি বেড়েছে ৭২ শতাংশ।
ইউরোপজুড়েই চীনা গাড়ির বিক্রি বাড়ছে। তবে যুক্তরাজ্যের বাজার তাদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, দেশটি প্লাগ-ইন হাইব্রিড বৈদ্যুতিক গাড়িতে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেনি, ইউরোপীয় ইউনিয়ন যেটা করেছে।
বিশ্লেষক উইল রবার্টসের ভাষায়, যুক্তরাজ্যের বাজারে দ্রুত বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি) প্রসার হচ্ছে। বলা যায়, ইভির দ্রুত সম্প্রসারণশীল বাজারগুলোর একটি হচ্ছে যুক্তরাজ্য। একই সঙ্গে তুলনামূলক কমদামি গাড়ির চাহিদাও আছে। ফলে চীনা কোম্পানিগুলোর জন্য এটি বড় সুযোগ হিসেবে এসেছে।
দামের দিক থেকেও চীনা ব্র্যান্ডগুলো এগিয়ে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, জার্মানিতে তৈরি নতুন ফক্সভাগেন টিগুয়ান প্লাগ-ইন হাইব্রিডের দাম যুক্তরাজ্যে ৪৩ হাজার পাউন্ডের কিছু বেশি। অন্যদিকে চীনে তৈরি বিওয়াইডি সিল ইউয়ের দাম প্রায় ১০ হাজার পাউন্ড কম।
অবশ্য এই প্রতিযোগিতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আপত্তি জানিয়ে আসছে পশ্চিমা গাড়ি কোম্পানিগুলো। যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত ‘বিগ থ্রি’সহ অনেক প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ, চীন সরকারের ভর্তুকির কারণে কোম্পানিগুলো অস্বাভাবিক কম দামে গাড়ি বিক্রি করতে পারছে। তবে সেই অভিযোগ চীনা গাড়ির রপ্তানি বৃদ্ধির গতি কমাতে পারেনি।
জেনারেল মোটরসের (জিএম) সাবেক পরিচালনা পর্ষদের সদস্য জন ম্যাকনিল সিএনবিসিকে বলেন, দাম ও প্রযুক্তি—দুই দিক থেকেই চীনা গাড়িগুলো ইউরোপীয় বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। এসব গাড়ির দাম যেমন প্রতিযোগিতামূলক, তেমনি এসব গাড়িতে এমন প্রযুক্তি আছে, অনেক ইউরোপীয় ব্র্যান্ডের গাড়িতেও যা নেই।
লিপসকম্ব কার্সের পরিবেশক জন পান্ডা-নোয়ার মতে, কম দামের কারণে হয়তো ক্রেতারা বিক্রয়কেন্দ্রে আসেন, তবে তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন গাড়ির মান দেখে। ক্রেতারা সামনাসামনি গাড়ি দেখে এর নকশা, নির্মাণের মান ও ফিনিশিং দেখে প্রকৃত অর্থেই মুগ্ধ হয়ে যান।