বিএনপির সরোয়ারের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণার রায় স্থগিত চেয়ে আবেদনের শুনানি ১৯ জুলাই

· Prothom Alo

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন করেছেন একই আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী। আবেদনটি ১৯ জুলাই আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য নির্ধারণ করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব আজ সোমবার এ আদেশ দেন। চট্টগ্রাম-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিনের করা এ আবেদনে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে যোগ দেওয়া থেকে সরোয়ারকে বিরত রাখার আরজিও রয়েছে।

Visit extonnews.click for more information.

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় গত ১২ ফেব্রুয়ারি। নির্বাচন কমিশনে সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। প্রার্থিতা ফিরে পেতে সরোয়ার আলমগীর রিট করেন। হাইকোর্ট রুলসহ আদেশ দেন। নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর অংশ নেন। তবে নির্বাচনে তাঁর ফলাফল প্রকাশ সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তে স্থগিত ছিল। সরোয়ারের করা রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ৯ জুলাই রায় দেন হাইকোর্ট। তাঁর প্রার্থিতা বাতিলের নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষিত হয়।

হাইকোর্টের রায়ের পর চট্টগ্রাম-২ আসনে সরোয়ার আলমগীরকে বিজয়ী ঘোষণা করে ৯ জুলাই গেজেট প্রকাশ করে ইসি সচিবালয়। ওই সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম-২ আসন থেকে বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর শপথ নেন। এ অবস্থায় হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন গতকাল রোববার আপিল বিভাগে আবেদন করেন। আবেদনটি আজ চেম্বার আদালতের কার্যতালিকায় ১৩ নম্বর ক্রমিকে ওঠে।

আদালতে জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী। সরোয়ার আলমগীরের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও আইনজীবী নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম।

পরে জামায়াতের প্রার্থীর অন্যতম আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী প্রথম আলোকে বলেন, হাইকোর্টের ৯ জুলাই দেওয়া রায়ের কার্যকারিতা স্থগিতের পাশাপাশি জাতীয় সংসদের অধিবেশনে অংশ নেওয়া থেকে সরোয়ার আলমগীরকে বিরত রাখার প্রার্থনা নিয়ে আবেদনটি করা হয়। আদালত আবেদনটি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে আগামী রোববার (১৯ জুলাই) শুনানির জন্য নির্ধারণ করেছেন।

দুই প্রার্থীর আইনি লড়াই

নথিপত্র থেকে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থীর সরোয়ার আলমগীরের দাখিল করা মনোনয়নপত্র গত ২ জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তা গ্রহণ করেন। এ নিয়ে ইসিতে আপিল করেন ওই আসনের জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন। ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে তিনি এই আপিল করেন।

আপিল মঞ্জুর করে সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র গ্রহণের রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত বাতিল করে গত ১৮ জানুয়ারি রায় দেয় নির্বাচন কমিশন। অর্থাৎ নির্বাচন কমিশনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিল হয়।

এ নিয়ে নির্বাচনের আগে হাইকোর্টে রিট করেন সরোয়ার আলমগীর। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট রুল দিয়ে সরোয়ার আলমগীরকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি দিতে ও ‘ধানের শীষ’ প্রতীক বরাদ্দ দিতে নির্দেশ দেন। হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন। ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে আবেদনটি করেন তিনি।

লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে গত ৩ ফেব্রুয়ারি আদেশ দেন আপিল বিভাগ। আদেশে বলা হয়, যদি তিনি (সারোয়ার আলমগীর) নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে সফল হন, তবে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ (যতটুকু প্রার্থী হিসেবে তাঁর জন্য প্রযোজ্য) এ-সংক্রান্ত আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।

এরপর গত ৩১ মার্চ নিয়মিত আপিল করেন জামায়াতের ওই প্রার্থী। এই আপিলের ওপর গত ১৬ জুন আদেশ দেন আপিল বিভাগ। আপিল নিষ্পত্তি করে দেওয়া আদেশে আপিল বিভাগ দ্রুত, সম্ভাব্য দুই সপ্তাহের মধ্যে হাইকোর্টে রুল নিষ্পত্তি করতে বলেন। রুল নিষ্পত্তি হওয়া পর্যন্ত গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের দেওয়া আদেশ চলমান থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়। অর্থাৎ রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে ফলাফল প্রকাশ (যতটুকু প্রার্থী হিসেবে তাঁর জন্য প্রযোজ্য) স্থগিত থাকবে।

আপিল বিভাগের আদেশের পর সরোয়ার আলমগীরের রিটের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে ৯ জুলাই হাইকোর্ট রুল অ্যাবসলিউট (যথাযথ) ঘোষণা করে রায় দেন, যার বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে জামায়াতের প্রার্থী।

চট্টগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে সরোয়ার আলমগীরের শপথ

Read full story at source