মার্কিন মুলুকে সফর কাহিনি-পর্ব ৪ : ঘটনার ঘনঘটা!

· Prothom Alo

দেখতে দেখতে মার্কিন দেশে দুই সপ্তাহ শেষ। সফর আগামীকাল শেষ হবে। দেশে ফেরার আগে কিছু জিনিসপাতি আর উপহার কেনার জন্য শপিং ছাড়া তেমন কোনো কাজ রাখিনি আজকে। নাক ডাকিয়ে ঘুম শেষে সহযাত্রীর আত্মীয়ের বাসায় সকালে উঠে মুখরোচক নাশতা শেষে গেলাম বিশালাকার বিস্তৃত শপিং মলে, এসব শপিং মল আমাদের নিউমার্কেটের আরও বড় সংস্করণ। বিশাল জায়গাজুড়ে। আমাদের দেশের মতো বহুতল ভবনের চিরচেনা মল থেকে আলাদা, আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিং না হয়ে এখানে বিস্তৃত পার্কিং। আর এখানে এত ব্র্যান্ড যে কোনটা ফেলে কোনটায় যাব? আর দামও সস্তা। এরা অনেক অনেক মূল্যহ্রাস দিয়ে রেখেছে।

এটা–সেটা কিনে আমরা গেলাম কস্টকোতে, এটার বিশালতা চিন্তার বাইরে।

Visit saltysenoritaaz.com for more information.

এসব বাজারসদাই শেষে বাসায় এসে বিশ্রাম করতে করতে সন্ধ্যা হয়ে গেল। আজ রাতে কোরিয়ান বুফে বারবিকিউ রেস্তোরাঁতে বিদায়ী দাওয়াত। কোরিয়ানরাও যে মাংসের ভক্ত, সেটা এতটা জানা ছিল না, এরা আপনার টেবিলে ইলেকট্রিক তাওয়া দিয়ে যাবে, আর আপনি বসানো ট্যাবে অর্ডার করবেন, সেগুলো ওয়েটাররা একটার পর একটা অনবরত আর অফুরন্ত আনতেই থাকবে, যতক্ষণ আপনি খেতে পারবেন। আপনি সস আর অন্যান্য সাজানো উপাদান দিয়ে সেসব উত্তপ্ত তাওয়াতে রান্না করে খেয়ে নেবেন। সঙ্গে থাকবে মিষ্টান্ন, আইসক্রিম, সুসি আর কত কি? এসো নিজে বানাই ধরনের খাওয়াদাওয়ার এ বিষয়টা ভীষণ মজার, পিকনিক ধরনের, বিশেষ করে পুরা পরিবার নিয়ে যখন আপনি যাবেন। এ রকম মজার অভিজ্ঞতা ভাষায় প্রকাশ করাটাতে ঘাটতি থেকেই যাবে। আমরাও সেদিন দলবল নিয়ে গেছিলাম।

মার্কিন মুলুকে সফর কাহিনি—২য় পর্ব

খাওয়াদাওয়া করতে করতে অনেক রাত হয়ে গেল, রাতে ফিরে দিলাম ঘুম, সকালে চায়না ইস্টার্নের ফ্লাইট। আজকের দিনটায় একেবারে নাটকীয়তা ছিল না। আগামীকালটা যে কী ভীষণ নাটকীয় হবে, তা ছিল আমাদের ধারণারও বাইরে।

পরদিন, সুন্দর সকাল।

সবকিছু গুছিয়ে মালপত্র গাড়িতে উঠিয়ে আমরা রওয়ানা দিলাম লসঅ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, এটাকে এরা LAX বলে। আমাদের গাড়িতে নিয়ে যাবে সহযাত্রীর দুই মামাতো বোন। থাউজ্যান্ড ওকস শহর থেকে যাওয়ার পথটা যদি ফ্রি ওয়ে দিয়ে যাই, তাহলে সবার অফিসগামী গাড়ির ভিড়ে পড়ার সম্ভাবনা, আর তাই আমরা পাহাড়ি পথ দিয়ে চলে গেলাম একদম উপকূলঘেষা সড়কে।

নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]

গত পরশু সান লুইস অবিস্পো থেকে যে নৈসর্গিক ট্রেনে এসেছিলাম, এ শহরের পাশের অক্সনার্ড উপশহরটা হয়েই ট্রেনটি লসঅ্যাঞ্জেলেস ঢুকেছিল। আমরা উপকূল হয়ে মেলিব্যুসহ সুন্দর সব বালুকাবেলা দেখতে দেখতে ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই বিমানবন্দরে পৌঁছে গেলাম। এখানে ভীষণ দাবানল হয়। বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে তার ক্ষতচিহ্ন দেখতে দেখতে গেলাম। বিমানবন্দরে মামাতো বোনদের বিদায় দিয়ে বোর্ডিং পাস নেওয়ার সারিতে দাঁড়িয়ে যখন আমাদের পালা এল, জানা গেল যে সাংহাই আর কুনমিং এ যে সময়টুকু যাত্রাবিরতি দিয়ে যে টিকিট কাটা হয়েছে, তা আমাদের দেশের জন্য প্রযোজ্য না, আমাদের দেশের জন্য ২৪ ঘণ্টা আর অন্য দেশগুলোর জন্য দুই বা তিন দিনের ট্রানজিট ভিসা। তাহলে? মালপত্র তো চলে গেছে বিমানের পেটে, আমাদের তো বোর্ডিং পাস দিলই না, বরঞ্চ দুই ঘণ্টা অপেক্ষায় রেখে মালপত্র ফেরত দিয়ে বিদায় করে দিল। তাদের আচরণ ভদ্র থেকে মুহূর্তে রুদ্র হয়ে গেল।

মার্কিন মুলুকে সফর কাহিনি—পর্ব ৩: ক্যালিফোর্নিয়া, ক্যালিফরনিকেসন

আমরা এত অনুনয় বিননয় করেও কাজ হয়নি। আমরা এজেন্সি থেকে টিকিট কিনেছি বলে তারা পরের ফ্লাইটে বা টিকিটের ট্রানজিট সময় কমিয়ে নতুন টিকিট দিতেও রাজি হয়নি। আমাদের মাথায় তো আকাশ ভেঙে পড়ল, এখন কী হবে?

আমি বিমানবন্দরের এ প্রান্ত হতে ও প্রান্তে উদ্ভ্রান্তের মতো সাফা–মারওয়া করেই যাচ্ছিলাম। ভাগ্য ভালো বলে সে সময় কাতার এয়ারের কিছু কর্মকর্তা কিছু দূরে তাঁদের বোর্ডিং ডেস্কে দাঁড়িয়ে ছিলেন, আমি গিয়ে তাঁদের আমাদের এ দুর্ভোগের কথা বললাম সবিস্তারে। দয়াপরবশ হয়ে তাঁরা আমার বাতিল হওয়া টিকিট দেখে এক বিকল্প টিকিট দিল। আগামীকাল সকালে মার্কিন দেশের আমেরিকান এয়ারলাইনসে নিউইয়র্ক, সেখান থেকে কাতার এয়ারলাইনসে দোহা, দোহায় এক দিনের যাত্রাবিরতি দিয়ে ঢাকা। সাংহাই না দেখতে পেলেও, দোহা তো পাব। আমি কখনোই দোহা দেখিনি।

আমাদের দেহে জান ফিরে এল। মাথা ঠান্ডা হওয়াতে আমরা দেরিতে হলেও সেই মামাতো বোনদের কল করলাম। তারা বাসাতে প্রায় পৌঁছে গেছিল, তাদের গাড়ি ঘুরিয়ে আমাদের বিমানবন্দর থেকে তুলে নিতে নিতে দুপুর। মনের মধ্যে আমাদের তখন ঈদ ঈদ ভাব চলে এসেছে। বড় বাঁচা বেঁচে গেছি। এই আনন্দে আমরা তাই বাসায় ফেরার পথে সুন্দর একটা সাগরতীরে নামলাম। এই বালুকাবেলার নাম ভেনিস বিচ, বিখ্যাত এই সাগরতট, লসঅ্যাঞ্জেলেস অনেক ট্রেন্ডি শহর, এদের জীবনশৈলী আর মান আমেরিকাতে বিখ্যাত। এই বিচে ঘুরেফিরে হাওয়া খেয়ে আমরা ভিয়েতনামি বা কোরিয়ান এক রেস্তোরাঁতে হানা দিলাম। সেখানে দুপুরের খাবার খেয়ে আবারও বিখ্যাত এক শপিং মলে গেলাম। নর্ডস্টর্ম, এখানে সব বড় ব্র্যান্ডের জিনিস মূল্যহ্রাসে বিক্রি হয়। এত্ত এত্ত জিনিসের মধ্যে আমি মোটামুটি অনেক কিছু কিনে ফেললাম। মন ভালো বলে কথা, কীভাবে এসব লাগেজ এ জায়গা হবে, আল্লাহ জানে।

বিকালে এসে বিশ্রাম নিতে নিতে সন্ধ্যা, রাতে অল্প স্বল্প খেয়ে আল্লাহ আল্লাহ করতে করতে ঘুমাতে গেলাম। কাল আবার না উল্টা পালটা কিছু হয়?

পরদিন হালকা নাশতা করে আবারও LAX বিমানবন্দরে নেমে সেই লাগেজ নিয়ে অনেক কুস্তি করে ১০০ ডলার দন্ডি দিয়ে ইমিগ্রেশন শেষে লাউঞ্জে গিয়ে শুনি যে এখানে প্রায়োরিটি পাস অচল। ভীষণ মন খারাপ ১০০ ডলারের জন্য আর সঙ্গে যোগ হলো এই লাউঞ্জের সমস্যা।

তাই অপেক্ষার পর বিফলমনোরথে বিমানে উঠে দিলাম ঘুম। বিমানটা যদিও ছয় ঘণ্টার পথ, নিউইয়র্ক সময়ে এগিয়ে বলে আমরা সন্ধ্যার দিকে JFK তে নামলাম। এখানেও দেখি লাউঞ্জ নিয়ে উৎপাত। এখানেও প্রায়োরিটি পাস অচল। মেজাজ খারাপ।

বেশি দামে অল্প কিছু খেয়ে আর নামকাওয়াস্তে এক গেমিং শপ থেকে প্রায়োরিটি পাসের কল্যাণে অল্প কিছু খাবারদাবার নিয়ে বিমানের জন্য অপেক্ষা করলাম। এখন কথা হচ্ছে চায়না ইস্টার্ন এর টাকা ফেরতের কি হবে? এই লেখা পর্যন্ত টাকাটা ফেরত পাইনি, ইউএস এয়ারলাইনস এ অবশ্য অভিযোগ করা মাত্রই ১০০ ডলার অবশ্য ফেরত পেয়েছি। আমি কানে ধরেছি যে চায়না ইস্টার্ন এ আর জীবনে টিকিট কাটব না। সস্তার দশ অবস্থা আর কাকে বলে।

যা–ই হোক, JFK তে বেশ অনেকক্ষণ অলস বসে বিরক্ত হয়ে ডিউটি ফ্রি স্টোর থেকে তাদের চাপাচাপিতে বেশ অনেক সুগন্ধি কিনে ফেললাম। মনটাও বেশ ফুরফুরে হয়ে গেছে ততক্ষণে। নিউইয়র্ক থেকে দোহাগামী বিমানে ওঠার মুহূর্তে সাংহাই আর কুনমিং এর বদলে দোহা দেখব বলে আমরা বেশ উত্তেজিত।

সারা বিমানে অনেক সিট খালি, আমরা দুজন পরপর মাঝের তিনটা করে সিট দখল করে সটান হয়ে দিলাম ঘুম।

ঘুমাতে ঘুমাতে আর একটু পর পর আসা খানাপিনা খেতে খেতে দোহা এসে পৌঁছলাম।

পুরা বিমানবন্দর একদম খালি। ভৌতিক অবস্থা। কিছুসময় অপেক্ষার পর আমাদের হোটেল–সমেত ট্রানজিট ভিসা দিলো। আমরা ইমিগ্রেশনের বাইরে এসে হোটেলওয়ালাদের বাসে চড়ে দোহায় পৌঁছলাম। বিমানবন্দরের বাইরেটা বেশ গরম। রাত ১০টা, এভাবে আরব্য রজনীটা নষ্ট করার মানেই হয় না। আমরা এক সহকর্মীকে কল করে তার দোহা প্রবাসী বন্ধুদের আমাদের রাত্রীকালে দোহা সফরের ফরমাশ দিলাম।

সত্যি সত্যি এরা আমাদের দোহা দেখাতে সেই মধ্যরাতে দেবদূতের মতো হাজির হলো।

শোনাব এখন আরব্য রজনীর সেই সফরনামা।

রাত প্রায় ১১টা। আমরা আছি শহরের একদম মাঝখানে। পাশের কাতার জাদুঘর। আমাদের হোটেল থেকে সেই সহকর্মীর দোহাপ্রবাসী বন্ধুরা গাড়িতে তুলে নিয়ে দোহার পুরাতন পোতাশ্রয়, মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র, জাহাজঘাটা, এসব জায়গায় নিয়ে গেল। আপনারা বিশ্বাস করবেন না, এসব জায়গাগুলোকে সামান্য মেরামত আর সংস্কার করে কি সুন্দর করেছে, সেখানে গলি উপগলিগুলোকে একেবারে অনন্য রূপ দিয়েছে। জায়গাটার নাম মিনা। আপনারা যদি দোহা যান, তবে দেখবেন কমিউনিটি সেন্ট্রিক ট্যুরিজম কাকে বলে। আমাদের পুরান ঢাকার সুন্দর সুন্দর সব ভবনগুলো যদি সংস্কার করে সাজিয়ে গুছিয়ে এ রকম করা যেত, তাহলে লাখ লাখ লোক শুধু দেখতেই আসতো। আহসান মঞ্জিল আর নর্থব্রুক হলো আর রূপলাল হাউস মেরামতের পর কি রোশনাই হয়েছে। এরকম শত শত ভবন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে চোখের সামনে। দুঃখগুলো রাখি কোথায়? সোনারগাঁওতে যে মেরামতযজ্ঞের মাধ্যমে কত ভবনের জৌলুশ ফেরত এসেছে, সেটা কেন পুরান ঢাকায় করছি না? কেন বুড়িগঙ্গার দুই পাড় সুন্দর করে বাঁধিয়ে অবৈধ ভবন আর স্থাপনা সরিয়ে সুন্দর করছি না। আপনি তাদের পুরা জাহাজঘাটার অধুনা স্থাপত্য দেখলে অবাক হবেন, আমরা কি সদরঘাট সুন্দর করতে পারি না? আমাদের কি স্থপতির অভাব? আমাদের স্থপতিরা পৃথিবী কাঁপিয়ে বেড়ায়, আর দেশে আমাদের স্থাপনার বেহাল দশা। সিডনিতে বা নিউইয়র্কে এসব পুরোনো জাহাজটা সংস্কার করে নদীভিত্তিক যোগাযোগ আকর্ষণীয় করা হয়েছে। আর আমরা নদীমাতৃক হয়ে নদীতে ময়লা ফেলে, কলুষিত করে, অবৈধ দখল করে সব কটি মেরেই ফেলছি, আর এতে সহায়তা করছে সরকারি সংস্থা টাকাপয়সা খেয়ে। যত্তসব।

আপনি বিশ্বাস করবেন না, এসব জায়গা কী সুন্দরভাবে গোছানো, সেখানে সাগরপাড়ে বিশাল খোলা ময়দান করা হয়েছে, তখন বোধহয় রাত ১২টা বা ১টা, দুনিয়ার পরিবার–পরিজন নিয়ে স্থানীয়, প্রবাসী সবাই খাবারদাবার হুঁকা নিয়ে পার্কে অলিতে–গলিতে বসে রাতটা উপভোগ করছে, বাচ্চারা দৌড়ে বেড়াচ্ছে আর বাবা মা দাদা–দাদি বসে খানা খাচ্ছে বা হুঁকা টানছে। আর আমাদের দেশে রাতে বের হলে মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তা করতে করতে জান বের হয়ে যাবে।

এসব ভাবতে ভাবতে আমরা দোহায় গতবারের ফুটবল বিশ্বকাপের সময় একেবারে নতুন করে বানানো উপশহর লুসাইল সিটিতে চলে এলাম।

কী সুন্দর সাজানো গোছানো, চিন্তার বাইরে। এ ধরনের ফুটবল বা অলিম্পিক কেন্দ্রিক উপশহর বা পড়ে থাকা জায়গার উন্নয়ন কীভাবে একটা শহর পালটে ফেলে তা বার্সেলোনা, লন্ডন আর দোহা দেখলে বোঝা যায়।

লুসাইল সিটি দেখে তো আমরা থতমত খেয়ে গেলাম। এর সাগরের পাশ দিয়ে বানানো ওয়াকওয়ে দিয়ে অনেক দূর হেঁটে গেলাম। সেখানে মেয়ে বাচ্চারা ছোট ইলেকট্রিক স্কুটিতে দৌড়ে বেড়াচ্ছে নির্দ্বিধায়। রাতের মোহকে আরও মোহনীয় করতে ছোট ছোট স্ট্রিট ফুড কার্ট আর দোকানগুলোয় খাবার বিক্রি করছে আমাদের দেশ থেকে যাওয়া প্রবাসীরা।

আমরাও তাদের কাছ থেকে স্থানীয় খাবার খেলাম, আর শেষে চা নেওয়ার সময় তারা জানাল যে ইরান মার্কিন যুদ্ধের আগে নাকি রাতের দোহা আরও জমজমাট ছিল।

তাদের সঙ্গে কথোপকথন শেষে আমরা হাজির হলাম শহরের উপকণ্ঠের এক তুর্কি খাবারের দোকানে। সেখানেও দেশি ভাই। কিন্তু তারা বেশির ভাগ ওয়েটার, কিন্তু রাঁধুনি বা ম্যানেজার সব ফিলিপিনো বা ভারতীয়। কেন যে আমরা উচ্চ দক্ষতার লোক পাঠাই না, এ লোকগুলো গায়েগতরে খেটে কি অল্পই না রোজগার করে। দুঃখ।

শেষমেশ রাতের দোহাকে বিদায় দিয়ে প্রায় ফজরের দিকে হোটেলে ফিরলাম।

প্রবাসী দুজনাকে বিদায় দিয়ে ঘুমাতে গেলাম।

এক ঘুমে সকাল পাড়। আমাদের ফ্লাইট দুপুরে। রাতে উপর্যুপরি খাওয়ার ফলে সকালের নাশতা খেলাম না।

গোসল করে হাত লাগেজ গুছিয়ে হোটেলের বাসে বিমানবন্দরে চলে এলাম আগেই।

বিমানবন্দরে লোকজন একদম কম। লোকের চেয়ে ডিউটি ফ্রি স্টোরের বিক্রয় কর্মী বেশি। আমরা কিছু কিনব না, কিনব না বলেও বেশ কিছু সুগন্ধি আর চকলেট কিনে ফেললাম। যদিও মার্কিন দেশ হতে স্যুটকেসভর্তি চকলেট কেনা হয়েছে।

বিমানটা ঠিকঠাক সময়ে ছেড়ে ঢাকার দিকে রওয়ানা দিল। এ বিমানেও সিট খালি। এটাতেও জানালা–সমেত দুটা সিট দখল করে আধো ঘুম আধো জাগা হয়ে ঢাকায় এসে নামলাম রাতে।

চিরচেনা ঢাকা বিমানবন্দরে হইচই আর মালামাল অব্যবস্থাপনা ডিঙিয়ে নিরাপদে পৌঁছলাম বাসায়। আর এভাবে শেষ হয়ে গেল এক বৈপরীত্যে ভরা মার্কিন মুলুকে সফর।

Read full story at source