নারীর বন্ধ্যত্বের কারণ ও সমাধান

· Prothom Alo

এক বছর বা তার বেশি সময় নিয়মিত স্বাভাবিক চেষ্টার পরও গর্ভধারণ না হলে তাকে বন্ধ্যত্ব (ইনফার্টিলিটি) বলা হয়। নারীর বয়স ৩৫ বছরের বেশি হলে ছয় মাস চেষ্টার পর গর্ভধারণ না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ক্ষেত্রে সমস্যার উৎস নারী, এক-তৃতীয়াংশ ক্ষেত্রে পুরুষ এবং বাকি ক্ষেত্রে উভয়ের সমস্যা বা অজানা কারণ দায়ী।

Visit forestarrow.rest for more information.

প্রতিবছর জুনকে বন্ধ্যত্ব সচেতনতা মাস হিসেবে পালন করা হয়।

কারণ

প্রতি মাসে ডিম্বাশয় থেকে একটি পরিপক্ব ডিম্বাণু নিঃসৃত না হলে বন্ধ্যত্ব দেখা দেয়। পলিএন্ডোক্রাইন মেটাবলিক ওভারিয়ান সিনড্রোম, থাইরয়েড বা প্রোল্যাকটিন হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা অপুষ্টিও এ সমস্যার কারণ। ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর মিলনস্থল ফেলোপিয়ান টিউব আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেলে বন্ধ্যত্ব দেখা দেয়। পেলভিক সংক্রমণ, যৌনবাহিত রোগ, এন্ডোমেট্রিওসিস ও জননাঙ্গের যক্ষ্মা এ টিউবের ক্ষতির অন্যতম কারণ।

জরায়ুর ভেতরের আবরণের মতো জরায়ুর বাইরে টিস্যু বৃদ্ধি পেয়ে ডিম্বাশয়, ফেলোপিয়ান টিউব ও আশপাশের অঙ্গপ্রত্যঙ্গে প্রদাহ ও আঠালো অবস্থা সৃষ্টি করে গর্ভধারণে বাধা দেয়। এটি এন্ডোমেট্রিওসিস রোগ হিসেবে পরিচিত। জরায়ুতে ফাইব্রয়েড, জন্মগত ত্রুটি, এন্ডোমেট্রিয়াল পলিপ, আশারম্যান সিনড্রোমও বন্ধ্যত্বের কারণ। নারীর বয়স বাড়ার সঙ্গে ডিম্বাণুর সংখ্যা, মান কমতে থাকে। ৪০ বছরের পর গর্ভধারণের সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।

অতিরিক্ত ওজন ও খুব কম ওজনও প্রজননক্ষমতা কমিয়ে দেয়। ধূমপান, মাদকাসক্তি, অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, অপর্যাপ্ত ঘুম, পরিবেশদূষণ ও বিষাক্ত রাসায়নিকের সংস্পর্শও বন্ধ্যত্বের কারণ।

সমাধান

সুষম খাদ্য গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ, ধূমপান ও মাদক বর্জন, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ডিম্বাণু উৎপাদন ও নিঃসরণ ওষুধ ব্যবহারে স্বাভাবিক করা যায়। ফাইব্রয়েড, পলিপ, এন্ডোমেট্রিওসিস বা টিউব-সংক্রান্ত কিছু সমস্যা অস্ত্রোপচারে ঠিক করা সম্ভব। প্রয়োজনে বিশেষভাবে প্রস্তুত করা শুক্রাণু সরাসরি জরায়ুতে দেওয়া যায়। এটি আইইউআই পদ্ধতি হিসেবে পরিচিত। আর যখন অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতিতে সফলতা না আসে, তখন আইভিএফ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প। এ পদ্ধতিতে শরীরের বাইরে ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর মিলন ঘটিয়ে ভ্রূণ তৈরি করে তা জরায়ুতে স্থাপন করা হয়।

  • ডা. শারমিন আব্বাসি, কনসালট্যান্ট, ইনফার্টিলিটি ইউনাইটেড মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল

Read full story at source