সাভারে একটি পোশাক কারখানায় দুই দিনে অর্ধশত শ্রমিক অসুস্থ, কারণ অজানা
· Prothom Alo

ঢাকার সাভার উপজেলার আশুলিয়ায় তৈরি পোশাকের একটি কারখানার প্রায় অর্ধশত শ্রমিক দুই দিনে অসুস্থ হয়ে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁরা শ্বাসকষ্ট ও মাথাব্যথার সমস্যায় ভুগছিলেন। তবে শ্রমিকেরা কী কারণে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন, তা প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি।
Visit esporist.org for more information.
আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আশুলিয়ার কাঠগড়া আমতলা এলাকার ম্যাগপাই কম্পোজিট টেক্সটাইল লিমিটেডে ২০-২৫ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে কারখানার গাড়ি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় অসুস্থ শ্রমিকদের দ্রুত স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। গতকাল সোমবারও একই সমস্যা নিয়ে ১০-১২ জন শ্রমিক হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। দুই দিনে প্রায় অর্ধশত শ্রমিকের অসুস্থ হয়ে পড়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
সাব্বির হোসেন সিদ্দিক, জ্যেষ্ঠ মহাব্যবস্থাপক, ম্যাগপাই কম্পোজিট টেক্সটাইল লিমিটেডকারখানার অন্য শ্রমিকদের জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তাঁদের কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না, কোনো দুর্গন্ধ পেয়েছেন বা পাচ্ছেন কি না; তাঁরা বলেছেন যে তাঁদের কোনো সমস্যা হচ্ছে না। চিকিৎসককে কেউ কেউ বলেছেন, সকালে নাশতা করেননি। আমরা এ ঘটনার কারণ জানার চেষ্টা করছি।শ্রমিক ও কারখানার কর্মকর্তারা জানান, আজ সকালে নির্ধারিত সময়ে কারখানায় আসেন শ্রমিকেরা। সকাল ৯টার দিকে হঠাৎ শ্রমিকদের কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। পর্যায়ক্রমে ২০-২৫ জন অসুস্থ হন। তাঁদের প্রথমে কারখানার মেডিকেল সেন্টার ও পরে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অনেকেই প্রাথমিক চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাসায় চলে যান। গতকাল দুপুরে একইভাবে কয়েকজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন বলে জানান কারখানাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদেরও তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
অসুস্থ হয়ে পড়া কয়েকজন শ্রমিক দাবি করেন, সুইং সেকশনের কাপড় বা সিট নাড়াচাড়া করার সময় একধরনের গন্ধ বা গরম হাওয়া আসার পরপরই তাঁরা অসুস্থ বোধ করতে থাকেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সুইং বিভাগের এক শ্রমিক বলেন, ‘সকালে কাজে আসার পর হঠাৎ মেশিনের ভেতর থেকে একটা গন্ধ পাই। এর পর থেকে আমাদের নিশ্বাস নিতে কষ্ট হতে থাকে। হাত-পা অবশ হয়ে আসে, বমি বমি ভাব হচ্ছিল, মাথা ঘুরে পড়ে যাই। পরে কারখানার মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকের কাছে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।’
কারখানার অগ্নিনিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. নাহিদ বলেন, ‘সকালে আমরা গেটে কর্মীদের চেক করছিলাম। যাঁদের শরীর একটু খারাপ ছিল, তাঁদের বসিয়ে রাখা হয়েছিল এবং বলা হয়েছিল, আপনারা বিশ্রাম নিন, সুস্থ হয়ে তারপর ডিউটি করবেন। এরপর সবকিছু স্বাভাবিকভাবেই চলছিল। সকালে হঠাৎ ফ্লোর থেকে একের পর এক কর্মী আমাদের মেডিকেল সেন্টারে আসতে শুরু করেন। আমরা তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিই। যাঁদের সমস্যা বেশি ছিল, তাঁদের হাসপাতালে পাঠানো হয়। এখন মোটামুটি সবাই সুস্থ আছেন, ভালো আছেন।’
শ্রমিকদের অসুস্থতার বিষয়টি তুলে ধরে ম্যাগপাই কম্পোজিট টেক্সটাইল লিমিটেডের ফটকের বিপরীতে এক চা–দোকানি বলেন, ‘গতকাইল দুপুর সাড়ে ১২টায় শুরু হইছে, আধা ঘণ্টা ভইরা অসুস্থ মানুষ নামাইছে। আইজ আবার হইছে সকাল ৯টা থিকা দুপুর ১২টা পর্যন্ত। আইজ আমার কাছে মনে হয় যে ৫০ জনের বেশি হাসপাতালে গেছে। গতকাইল থিকে আজকে বেশি অসুস্থ হইছে।’
সাভার ল্যাবজোন হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক আবদুল আহাদ জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গার্মেন্টস থেকে একসঙ্গে অনেক রোগী হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিতে আসেন। তাঁদের প্রধান সমস্যা ছিল শ্বাসকষ্ট। কয়েকজনের বমি এবং কারও কারও মাথা ঘোরার উপসর্গ ছিল। প্রাথমিকভাবে যতটুকু সম্ভব, চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। যাঁদের অবস্থা তুলনামূলক বেশি খারাপ ছিল, তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এখন বেশির ভাগ রোগীর অবস্থাই স্থিতিশীল। যাঁরা ভালো আছেন, তাঁদের পর্যায়ক্রমে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। ল্যাবজোন হাসপাতালে প্রায় ২০ জন রোগী এসেছেন।
কারখানার জ্যেষ্ঠ মহাব্যবস্থাপক (এইচআর, অ্যাডমিন ও কমপ্লায়েন্স) সাব্বির হোসেন সিদ্দিক প্রথম আলোকে জানান, গতকাল ও আজ মিলিয়ে কিছু শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের কারখানায় এবং পরে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। অসুস্থ শ্রমিকদের সংখ্যা সব মিলিয়ে ২৫-৩০ হতে পারে। এখানে এক হাজারের বেশি শ্রমিক কাজ করেন। তিনি বলেন, ‘কারখানার অন্য শ্রমিকদের জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তাঁদের কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না, কোনো দুর্গন্ধ পেয়েছেন বা পাচ্ছেন কি না; তাঁরা বলেছেন যে তাঁদের কোনো সমস্যা হচ্ছে না। চিকিৎসককে কেউ কেউ বলেছেন, সকালে নাশতা করেননি। আমরা এ ঘটনার কারণ জানার চেষ্টা করছি।’
গত চার দিনে আশুলিয়ার বিভিন্ন কারখানায় বেশ কিছুসংখ্যক শ্রমিক একই ধরনের অসুস্থতা নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১–এর কর্মকর্তারা।
আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১–এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, গত চার দিনে আশুলিয়ার বেশ কয়েকটি কারখানায় কিছু শ্রমিক মাথা ঘোরানো, বমি বমি ভাব নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। চিকিৎসা নেওয়া শ্রমিকদের সঙ্গে এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে অসুস্থতার প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে কেউ সুনির্দিষ্ট কারণ জানাতে পারেননি। প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা চলছে। একই কারণে আজ লুসাকা নামে একটি কারখানায় ছুটি দেওয়া হয়েছে।