বিশ্বকাপ নিয়ে বানানো ভিডিও, অংশ নিয়েছেন শতাধিক শিক্ষার্থী
· Prothom Alo

বিশ্বকাপ এলে ক্যাম্পাসগুলোর চেহারাই বদলে যায়। ক্লাসরুমের আলোচনায় জায়গা করে নেয় মেসি, নেইমার, এমবাপ্পে, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। হলের করিডরে শুরু হয় তর্ক, রাতভর ম্যাচ দেখা, জয়ের উল্লাস কিংবা হারের হতাশা। বন্ধুত্বের মধ্যেও তৈরি হয় আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল বিভাজন। ফুটবল শুধু একটি খেলা থাকে না; হয়ে ওঠে শিক্ষার্থীদের জীবনযাপনের অংশ।
Visit mchezo.life for more information.
বিশ্বকাপের এই চেনা উন্মাদনাকেই ক্যামেরাবন্দী করেছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা। নোবিপ্রবি চলচ্চিত্র সংসদের উদ্যোগে নির্মিত ফ্ল্যাশমব ও ক্যাম্পেইন ভিডিওতে উঠে এসেছে বিশ্বকাপ মৌসুমে বাংলাদেশের ক্যাম্পাসগুলোর চেনা সব দৃশ্য।
ভিডিওর শুরুতেই দর্শক দেখতে পান রঙিন এক প্রাঙ্গণ। কারও গায়ে আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সি, কারও গায়ে ব্রাজিলের হলুদ। ফ্রান্স, স্পেন, জার্মানি, পর্তুগাল কিংবা অন্যান্য দেশের পতাকা ও জার্সিও বাদ নেই। বিভিন্ন দেশের পতাকা একসঙ্গে উড়ছে, শিক্ষার্থীরা নাচছেন, গাইছেন, খেলছেন…পুরো ক্যাম্পাসই শামিল ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থে’।
এআইয়ের পর আসছে এজিআই, ডিজাইনাররা কি ডাইনোসর হয়ে যাবেহলে একসঙ্গে বসে বন্ধুরা বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখছে, কেউ আবার ক্লাসের ফাঁকে মোবাইলে ম্যাচের আপডেট দেখতে গিয়ে শিক্ষকের কাছে ধরা পড়ছে, পরক্ষণে শিক্ষকও শামিল হয়ে যাচ্ছেন খেলার উন্মাদনায়—ভিডিওজুড়েই এমন ছোট ছোট ঘটনা।
নোবিপ্রবি চলচ্চিত্র সংসদের সভাপতি মো. নাহিদ পারভেজ বলেন, ‘বিশ্বকাপ শুধু একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট নয়, আমাদের মতো তরুণদের জন্য এটি একটা অন্য রকম আবেগ। সেই আবেগ, উচ্ছ্বাস ও ক্যাম্পাসজীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতাগুলোকেই সৃজনশীলভাবে তুলে ধরতে চেয়েছি আমরা। এই ভিডিওর মাধ্যমে দেখাতে চেয়েছি, বাংলাদেশের তরুণেরা ফুটবলকে কতটা গভীরভাবে অনুভব করে।’
শতাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে তৈরি ফ্ল্যাশমবে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া প্রায় সব দেশের পতাকা ও জার্সি ব্যবহার করা হয়েছে। ‘ওয়েভিং ফ্ল্যাগ’ গানের সুর দৃশ্যগুলোকে করেছে আরও উৎসবমুখর।
ভিডিওর শেষটা এমন—অনেক পতাকার ভিড়ে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা নিয়ে ছুটছে একজন। হঠাৎই সে হোঁচট খায়, পড়ে যায়। আরেক শিক্ষার্থী এসে তার কাঁধে হাত রাখে, সাহস দেয়। নাহিদ পারভেজ বলেন, ‘আমাদের ভিডিওর শেষ দৃশ্যটি আসলে এই পুরো কাজটির মূল বার্তা। বাংলাদেশ এখনো বিশ্বকাপ খেলে না। কিন্তু স্বপ্ন দেখতে তো বাধা নেই। আমরা বিশ্বাস করি, একদিন হয়তো আমাদের পরের প্রজন্ম কিংবা তারও পরের প্রজন্ম বিশ্বকাপের মঞ্চে বাংলাদেশের পতাকা দেখতে পাবে। বিশ্বকাপে আমরা আজ অন্য দেশের পতাকা হাতে উল্লাস করি। কিন্তু নিজের দেশের পতাকা উঁচু করে ধরার আনন্দটাই তো সবচেয়ে বড়। সেই স্বপ্নটাই আমরা তুলে ধরতে চেয়েছি।’
ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিপুল সাড়া মিলেছে। শুধু নোবিপ্রবির শিক্ষার্থীরাই নন, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা ভিডিওটির প্রশংসা করেছেন। নোবিপ্রবি চলচ্চিত্র সংসদের ফেসবুক পেজে ইতিমধ্যে ভিডিওটি ১০ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে। শেয়ার করেছেন সাড়ে পাঁচ হাজার মানুষ।
ব্রাজিলের খেলা দেখবে বলে ঢাকা থেকে এসেছে বন্ধু আর তাঁর বাবাও