বসা থেকে দাঁড়ালেই মাথা ঘোরে? জেনে নিন এর কারণ ও প্রতিকার
· Prothom Alo

সোফা বা বিছানা থেকে হঠাৎ উঠে দাঁড়ালেই কি চারপাশ অন্ধকার হয়ে আসে? কিংবা মাথা ঝিমঝিম করে, যা কয়েক সেকেন্ড পর আবার ঠিক হয়ে যায়?
এই অভিজ্ঞতা অনেকেরই হয়। কারও আবার নামাজে সেজদা দিয়ে উঠতে গেলে মাথা ঘোরে। কারও রাতে ঘুম থেকে উঠে টয়লেটে যাওয়ার সময় মাথা ঝিমঝিম করে। ডাক্তারি ভাষায় এই অবস্থাকে বলা হয় ‘অর্থোস্ট্যাটিক হাইপোটেনশন’ কিংবা শরীরের অবস্থান পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে হঠাৎ রক্তচাপ কমে যাওয়ার সমস্যা। আপাতদৃষ্টিতে এটি সামান্য মনে হলেও এটি আপনার শরীরের রক্তচাপ ও স্নায়ুতন্ত্রের সমন্বয়হীনতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত।
Visit biznow.biz for more information.
কেন এমন হয়?
আমরা যখন বসা বা শোয়া অবস্থা থেকে হঠাৎ উঠে দাঁড়াই, তখন অভিকর্ষজ বল বা গ্রাভিটির টানে শরীরের রক্ত নিচের দিকে জমা হতে চায়। এর ফলে হার্ট থেকে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলের পরিমাণ সামান্য সময়ের জন্য কিছুটা কমে যায়। সুস্থ শরীরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্নায়ুতন্ত্র এই পরিস্থিতি দ্রুত সামাল দেয়। এটি হৃৎস্পন্দন বাড়িয়ে দেয় এবং রক্তনালিকে সংকুচিত করে মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখে। কিন্তু যখন এই সমন্বয় প্রক্রিয়ায় দেরি হয়, তখনই মাথা ঘোরার মতো অনুভূতি তৈরি হয়।
মঙ্গল গ্রহের জন্য রোভার তৈরির বড় প্রতিযোগিতায় ইউআইইউ এবার তৃতীয়মূল কারণগুলো কী
১. ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা: রক্তে পানির পরিমাণ কমে গেলে রক্তচাপ কমে যায়, যা এই সমস্যার প্রধান কারণ।
২. রক্তস্বল্পতা ও ডায়াবেটিস: শরীরে আয়রনের অভাব কিংবা দীর্ঘমেয়াদি ডায়াবেটিস স্নায়ুর কার্যক্ষমতা কমিয়ে এই সমস্যা তৈরি করতে পারে।
৩. ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্রোগ কিংবা মানসিক রোগের কিছু ওষুধ অনেক সময় রক্তচাপ দ্রুত কমিয়ে দেয়।
৪. স্নায়বিক রোগ: পারকিনসন বা মাল্টিপল সিস্টেম অ্যাট্রোফির মতো স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে স্নায়ুতন্ত্র রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সময় নেয়।
৫. কানের সমস্যা: আমাদের শরীরের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণকারী হিসেবে কান কাজ করে। কানের কোনো সমস্যা দেখা দিলেও এই সমস্যা হতে পারে।
প্রতিকারে আপনার করণীয়
ধীরে সুস্থে ওঠা: বসা বা শোয়া থেকে এক ঝটকায় উঠে দাঁড়াবেন না। প্রথমে কয়েক সেকেন্ড বসে পা নড়াচড়া করুন, তারপর ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ান। বিছানা ছাড়ার আগে কয়েক মিনিট বিছানার এক পাশে পা ঝুলিয়ে বসে থাকা ভালো অভ্যাস।
পর্যাপ্ত পানি পান: সারা দিন শরীরকে হাইড্রেটেড রাখুন। শরীরে লবণের ঘাটতি থাকলেও রক্তচাপ কমে যেতে পারে, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী লবণ-পানির ভারসাম্য বজায় রাখুন।
পেশির ব্যায়াম: দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হলে এক জায়গায় স্থির না থেকে পায়ের আঙুলের ওপর ভর দিয়ে একটু ওঠানামা করুন। এটি পায়ের রক্তকে ওপরের দিকে ঠেলে দিতে সাহায্য করে।
খাবারের নিয়ম: একবারে খুব বেশি ভারী খাবার না খেয়ে অল্প অল্প করে বারবার খাওয়ার চেষ্টা করুন।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
যদি মাথা ঘোরার সঙ্গে সঙ্গে আপনি অজ্ঞান হয়ে যান, চোখে ঝাপসা দেখেন, বুকে ব্যথা অনুভব করেন কিংবা এটি যদি নিয়মিত হতে থাকে, তবে অবহেলা করবেন না। একজন নিউরোলজিস্ট বা মেডিসিন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে রক্তচাপ পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় স্নায়বিক পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া জরুরি।
সচেতনতা এবং জীবনযাত্রায় সামান্য পরিবর্তনই পারে আপনাকে এই আকস্মিক অস্বস্তি থেকে মুক্তি দিতে।
লেখক: ডা. হিমেল বিশ্বাস, ক্লিনিক্যাল স্টাফ, নিউরোলজি বিভাগ, স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেড, ঢাকা।