শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের দাবি
· Prothom Alo

দেশের শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার ও মানোন্নয়নে আগামী জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অন্তত ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা। সম্প্রতি পরিচালিত এক জরিপে অংশ নিয়ে ৬২ শতাংশ শিক্ষার্থী এই মতামত দিয়েছেন। শিক্ষার্থীরা মনে করেন, বর্তমান শিক্ষা বাজেট দেশের প্রকৃত চাহিদা ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য যথেষ্ট নয়।
Visit playerbros.org for more information.
শিক্ষা নিয়ে কাজ করা সংগঠন শিক্ষা অধিকার সংসদ কর্তৃক পরিচালিত এক জরিপে এই দাবি উঠে এসেছে। শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জরিপের ফলাফল প্রকাশ করে সংগঠনটি। পরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
শিক্ষা অধিকার সংসদের সদস্যসচিব ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহনেওয়াজ খান জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, জরিপে দেশের বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৫০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৬১ দশমিক ১ শতাংশ স্নাতক এবং ৩৬ শতাংশ স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী ছিলেন।
জরিপে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন বলে জানান শাহনেওয়াজ খান। শিক্ষার্থীরা মনে করেন, প্রাথমিক স্তরের ভিত্তি শক্তিশালী না হলে শিক্ষার অন্য স্তরে কাঙ্ক্ষিত গুণগত পরিবর্তন সম্ভব নয়। পাশাপাশি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার আধুনিকায়নের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
জরিপে শিক্ষার মানোন্নয়নে মেধাভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ এবং শিক্ষকদের জন্য সম্মানজনক ও আকর্ষণীয় বেতনকাঠামো নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় শিক্ষার বৈষম্য কমাতে দক্ষ শিক্ষক পদায়নকে কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চাহিদা মোকাবিলায় কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিক্ষা এবং স্টেম (বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত) খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বানও জানানো হয়েছে।
জরিপে বাজেট বাস্তবায়নের প্রধান বাধা হিসেবে দুর্নীতি, অর্থের অপচয়, পরিকল্পনার অভাব, প্রশাসনিক জটিলতা, রাজনৈতিক প্রভাব এবং দুর্বল তদারকির বিষয়গুলো উঠে এসেছে। শিক্ষার্থীদের মতে, শুধু বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না, শিক্ষা খাতে অর্থের স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও সুশাসনভিত্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।