মহাকাশে নিখুঁত জ্যামিতিক নকশার খোঁজ
· Prothom Alo

মহাবিশ্বের অসীম শূন্যতা যেন এক অদৃশ্য ক্যানভাস। মানুষ যখন স্কেল ও কম্পাস নিয়ে নিখুঁত নকশা তৈরিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় পার করে দেয়, মহাকাশে তখন দেখা মিলে নিখুঁত সব জ্যামিতিক নকশার কাঠামো। গভীর মহাকাশে এমনই এক নিখুঁত জ্যামিতিক কাঠামোর সন্ধান পেয়েছে ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ইএসএ)।
হাবল স্পেস টেলিস্কোপে ধারণ করা ছবিতে পেগাসাস নক্ষত্রমণ্ডলীর এলএল পেগাসি নক্ষত্রকে ঘিরে তৈরি হওয়া একটি অস্বাভাবিক প্রাক্–গ্রহ নীহারিকা বা প্রি–প্ল্যানেটারি নেবুলার সন্ধান পাওয়া গেছে, যা আইআরএএস ২৩১৬৬+১৬৫৫ নামে পরিচিত। এই অবিশ্বাস্য মহাজাগতিক দৃশ্যটির বিষয়ে ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা জানিয়েছে, ছবিতে একটি নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে অত্যন্ত পাতলা ও আশ্চর্যজনকভাবে নিয়মতান্ত্রিক একটি সর্পিল বা স্পাইরাল প্যাটার্ন তৈরি হতে দেখা গেলেও মূল নক্ষত্রটি নিজে ঘন ধূলিকণার আস্তরণের পেছনে লুকিয়ে রয়েছে। এই স্পাইরাল প্যাটার্নটি নির্দেশ করে নেবুলার এই নিখুঁত আকৃতির পেছনে একটি নিয়মিত পর্যায়বৃত্ত বা পিরিয়ডিক উৎস রয়েছে।
Visit een-wit.pl for more information.
ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এই সর্পিল বা স্পাইরাল তৈরি করা উপাদান প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৫০ হাজার কিলোমিটার বেগে বাইরের দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এই ছড়িয়ে পড়ার গতি ও স্পাইরালের স্তরগুলোর মধ্যবর্তী দূরত্ব হিসাব করে দেখেছেন, এর প্রতিটি স্তর বা শেল তৈরি হতে প্রায় ৮০০ বছর করে সময় লেগেছে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই নিখুঁত স্পাইরাল বা সর্পিল আকৃতিটি তৈরি হওয়ার মূল কারণ হলো এলএল পেগাসি আসলে একটি বাইনারি বা যুগল নক্ষত্র ব্যবস্থা। এখানে একটি নক্ষত্র অনবরত তার ভেতরের উপাদান বা গ্যাস মহাশূন্যে হারাচ্ছে এবং অন্য একটি সঙ্গী নক্ষত্র তাকে কেন্দ্র করে কক্ষপথে ঘুরছে। স্পাইরালের এই স্তরগুলোর মধ্যকার দূরত্ব মূলত এই যুগল নক্ষত্র দুটির একে অপরকে প্রদক্ষিণ করার কক্ষপথীয় সময়কেই সরাসরি প্রতিফলিত করে, যা বিজ্ঞানীদের হিসাবে প্রায় ৮০০ বছর।
আইআরএএস ২৩১৬৬+১৬৫৫ বিজ্ঞানীদের একটি নক্ষত্রের মৃত্যুর প্রাথমিক ধাপকে খুব কাছ থেকে দেখার বিরল সুযোগ করে দিয়েছে। আমাদের সূর্যের চেয়ে অর্ধেক থেকে শুরু করে আট গুণ বেশি ভরের নক্ষত্রগুলো তাদের জীবনের শেষ সময়ে কোনো বড় ধরনের সুপারনোভা বিস্ফোরণের মাধ্যমে ধ্বংস হয়ে যায় না। তারা এক রাজকীয় বিদায়ের অভিজ্ঞতা লাভ করে। মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার সময় এই নক্ষত্রগুলো খুব আলতো করে তাদের গ্যাসের বাইরের স্তরগুলোকে মহাশূন্যের শূন্যতায় ছেড়ে দেয়। এই প্রসারিত হতে থাকা গ্যাসের স্তরগুলোই পরবর্তী সময়ে জলরঙের নাটকীয় পেইন্টিং বা ছবির মতো উজ্জ্বল কাঠামো হিসেবে ধরা দিয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি