হামের চিকিৎসার জন্য জরুরি ফিল্ড হাসপাতাল নির্মাণের দাবি ছাত্র ইউনিয়নের একাংশের
· Prothom Alo

দেশে হামে সাড়ে তিন শর বেশি শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমসহ দোষী ব্যক্তিদের বিচার দাবি করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন (একাংশ)। একই সঙ্গে চিকিৎসাব্যবস্থা রাষ্ট্রীয়করণ এবং হামের চিকিৎসার জন্য জরুরি ফিল্ড হাসপাতাল নির্মাণের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
রোববার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এসব দাবি জানানো হয়।
Visit lej.life for more information.
ছাত্র ইউনিয়নের (একাংশ) কেন্দ্রীয় সভাপতি তামজীদ হায়দার চঞ্চলের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শিমুল কুম্ভকারের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মেঘমল্লার বসু, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক ফাইজান আহমেদ অর্ক, ঢাকা মহানগর শাখার আহ্বায়ক আসিফ জামান, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহসভাপতি কে এম আবদুল্লাহ নিশাত প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে তামজীদ হায়দার চঞ্চল বলেন, চিকিৎসাব্যবস্থাকে সম্পূর্ণরূপে রাষ্ট্রীয়করণের আওতায় আনতে হবে এবং চিকিৎসা ব্যবসা নির্মূল করতে হবে। দেশের জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ফিল্ড হাসপাতাল নির্মাণের বিষয়ে ডাকসু নেতাদের ভূমিকার নিন্দা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, জনগণের স্বাস্থ্য নিয়ে ব্যবসা করা চলবে না। কোনো বেসরকারি হাসপাতালের ব্যবসায়িক স্বার্থে জনগণের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন করা যাবে না। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বাণিজ্য সম্পূর্ণরূপে দূর করতে তিনি ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের আহ্বান জানান।
হামে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় দোষী ব্যক্তিদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের (একাংশ) নেতা-কর্মীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ১০ মে ২০২৬ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মেঘমল্লার বসু বলেন, শিশুমৃত্যুর ঘটনায় বর্তমান সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে অদ্ভুত মিল দেখা যাচ্ছে। এমনকি সংসদ অধিবেশনেও শিশুমৃত্যু নিয়ে কোনো যথাযথ উদ্যোগ বা আলোচনা দেখা যায় না। তিনি বলেন, ইউনিসেফ হামের সংকট ও শিশুমৃত্যুর বিষয়ে ইউনূস সরকারকে সতর্ক করেছিল। কিন্তু মুহাম্মদ ইউনূস ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টা এত শিশুর মৃত্যু ঠেকাতে কোনো পদক্ষেপ নেননি। এই কাঠামোগত হত্যাকাণ্ডের মূল কান্ডারি ইউনূস সরকার এবং বর্তমান সরকারকেও এর দায় নিতে হবে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক ফাইজান আহমেদ অর্ক বলেন, ‘পুরোনো জালিমদের পতনের পর নতুন জালিম আসে, কিন্তু আমরা এই লুপ (বৃত্ত) থেকে বের হতে পারছি না। শিক্ষা খাতের পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতেরও বাণিজ্যিকীকরণ ঘটেছে। সাড়ে তিন শ শিশুর মৃত্যুর অন্যতম কারণ স্বাস্থ্য খাতের এই বাণিজ্যিকীকরণ।’
সমাবেশ শেষে ছাত্র ইউনিয়নের নেতা-কর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি রাজু ভাস্কর্য থেকে শুরু হয়ে কলাভবন, ডাকসু ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার প্রদক্ষিণ করে আবার রাজু ভাস্কর্যে এসে শেষ হয়।