চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ট্রেনে এসি বগি কি রেলের কথার কথা

· Prothom Alo

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে আন্তনগর ট্রেনে এসি ও উন্নত মানের বগি সংযোজনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার দেড় মাস পরও তা বাস্তবায়নে অগ্রগতি নেই; বরং ওই বগি দিয়ে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে নতুন বিশেষ ট্রেন চালুর আলোচনা হওয়ায় পরিকল্পনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বর্তমানে পুরোনো কোচে চলা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের ট্রেনগুলোতে এসি ও কেবিন–সুবিধা নেই। যাত্রীসেবা বাড়ার বদলে এই রুটে সেবা কমছে। পর্যটননির্ভর এই রুটের সম্ভাবনাও পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

Visit tr-sport.click for more information.

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে চলাচলরত আন্তনগর ট্রেনে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) বগিসহ উন্নত মানের কোচ সংযোজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল রেলওয়ে। দেড় মাস পার হলেও এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। আদৌ এসব উন্নত মানের বগি যুক্ত করা হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

কবে নাগাদ নতুন বগি নিয়ে এই রুটের আন্তনগর ট্রেনগুলো চলাচল করবে, তা–ও স্পষ্ট করছে না রেলওয়ে। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দেরি হওয়ার কারণও জানাচ্ছেন না রেলের কর্মকর্তারা। উল্টো রেলওয়ে এসি বগি দিয়ে চট্টগ্রামের পরিবর্তে ঢাকা থেকে একটি বিশেষ ট্রেন পরিচালনার পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে। এ কারণে যাত্রীদের অনেকের আশঙ্কা, এসি বগি সংযোজনের পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত রেলের কথা কথা হিসেবে রয়ে যাবে কি না।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, রেলওয়ের নতুন নির্মিত রেললাইন কক্সবাজার রুটে আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালের ১ ডিসেম্বর। প্রথম দিকে ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত দুই জোড়া বিরতিহীন ট্রেন দেওয়া হয়। কক্সবাজার ও পর্যটক এক্সপ্রেস নামের এই দুটি ট্রেন শুধু চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয়।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে চলাচল করে দুই জোড়া আন্তনগর ট্রেন। এই রুটে যাত্রীচাহিদা বাড়লেও ট্রেনগুলোর সবগুলো বগি পুরোনো এবং মানসম্মত নয়। বিশেষ করে এসি বগি ও কেবিন–সুবিধা না থাকায় অনেক যাত্রী এই রুটে ট্রেন ভ্রমণে আগ্রহ হারাচ্ছেন। পর্যটননির্ভর এই রুটে উন্নত মানের সেবা না থাকায় রাজস্ব আয়ের সম্ভাবনাও পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলরত মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আসা নতুন বগি সংযোজন করা হয়। মহানগর ট্রেন থেকে খুলে নেওয়া এসি বগিসহ সব কোচ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের ট্রেনে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়। বগিগুলো ২০২০ সালে ইন্দোনেশিয়া থেকে আনা হয়েছিল। ইন্দোনেশিয়ায় নির্মিত এসব বগি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের ট্রেনে সংযোজন করলে যাত্রীসেবার মান উন্নত হতো।

দেড় মাস আগে সিদ্ধান্ত

চাহিদা থাকলেও প্রথম এক বছরের বেশি সময়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে কোনো নিয়মিত ট্রেন দেয়নি রেলওয়ে। মাঝে একটি বিশেষ ট্রেন চালু করলেও ইঞ্জিন ও বগিসংকটে একপর্যায়ে তা বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবির মুখে ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে দুই জোড়া নিয়মিত ট্রেন চালু করে রেল।

একটিমাত্র রেক দিয়ে (ইঞ্জিন ও একাধিক কোচ মিলে একটি রেক) এই চার ট্রেন চালানো হয়। এতে প্রায়ই সময়সূচি বিঘ্নিত হয় এবং দেরি হওয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়।

রেলওয়ের এক নথিতে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের আন্তনগর ট্রেনে নতুন উন্নত মানের বগি সংযোজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল গত ৯ মার্চ। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলরত মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আসা নতুন বগি সংযোজন করা হয়। মহানগর ট্রেন থেকে খুলে নেওয়া এসি বগিসহ সব কোচ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের ট্রেনে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়। বগিগুলো ২০২০ সালে ইন্দোনেশিয়া থেকে আনা হয়েছিল। ইন্দোনেশিয়ায় নির্মিত এসব বগি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের ট্রেনে সংযোজন করলে যাত্রীসেবার মান উন্নত হতো। বর্তমানে দীর্ঘদিনের পুরোনো বগি দিয়ে চালানো হচ্ছে এই রুটের ট্রেন।

রেলওয়ের পরিবহন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সৈকত ও প্রবাল এক্সপ্রেস ট্রেন ১৬টি কোচ নিয়ে চলাচল করে। এই পুরোনো বগিগুলো বাদ দিয়ে নতুন করে একটি এসি কেবিন, একটি নন-এসি কেবিন, তিনটি এসি চেয়ার (স্নিগ্ধা), আটটি শোভন চেয়ার, একটি পাওয়ার কার এবং দুটি গার্ড ব্রেক যুক্ত করার পরিকল্পনা ছিল। প্রতিটি ট্রেনে প্রায় সাড়ে সাত শ আসন রয়েছে।

যে কারণে অনিশ্চয়তা

রেলওয়ের দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, এসিসহ উন্নত মানের বগি দিয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে আন্তনগর ট্রেন চালানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। তবে এখন এসব বগি দিয়ে ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত একটি বিশেষ ট্রেন চালু হতে পারে। সপ্তাহের বৃহস্পতি থেকে শনিবার পর্যন্ত এই ট্রেন চালানোর আলোচনা চলছে। যদি এই সিদ্ধান্ত হয়, তাহলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে চলাচলরত আন্তনগর ট্রেনগুলো এখন যেসব বগি দিয়ে চলছে, সেভাবে চলাচল করবে।

ওই দুই কর্মকর্তা বলেন, মূলত রাজনীতিবিদদের চাপে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ঢাকা-কক্সবাজার রুটে চলাচলরত বিরতিহীন দুই জোড়া ট্রেন যাতে মধ্যবর্তী স্টেশনগুলোতে স্টপেজ দেওয়া হয়, সে জন্য স্থানীয় রাজনীতিবিদদের চাপ রয়েছে। কিন্তু এই দুই জোড়া ট্রেনের স্টপেজ দেওয়া সম্ভব নয়। তাই নতুন করে একটি বিশেষ ট্রেন চালানোর আলোচনা চলছে। ওই বিশেষ ট্রেন ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিভিন্ন স্টেশনে থামবে।

তবে রাজনীতিবিদদের নাম জানাতে রাজি হননি কর্মকর্তারা। রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. সবুক্তগীন প্রথম আলোকে বলেন, কক্সবাজার রুটে আরও উন্নত মানের সেবা দিতে চান তাঁরা। চাহিদা থাকায় ঢাকা থেকে আরও একটি ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কবে নাগাদ ট্রেন চালানো হবে, সে বিষয়ে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেবেন তাঁরা।

রেলওয়ের পরিবহন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সৈকত ও প্রবাল এক্সপ্রেস ট্রেন ১৬টি কোচ নিয়ে চলাচল করে। এই পুরোনো বগিগুলো বাদ দিয়ে নতুন করে একটি এসি কেবিন, একটি নন-এসি কেবিন, তিনটি এসি চেয়ার (স্নিগ্ধা), আটটি শোভন চেয়ার, একটি পাওয়ার কার এবং দুটি গার্ড ব্রেক যুক্ত করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্ত এ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের ট্রেন যাত্রীরা অভিযোগ করেন, যাত্রীদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে লাইন চালুর এক বছর পর চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে নিয়মিত ট্রেন দেয় রেলওয়ে। তবে আন্তনগর ট্রেন নাম দেওয়া হলেও সেখানে তেমন কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই। ট্রেনের বগিগুলোও অনেক পুরোনো। শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বগি ও কেবিন না থাকায় অনেক যাত্রী ট্রেনে যাতায়াতে আগ্রহ হারান। জনপ্রিয় ও যাত্রীচাহিদার শীর্ষে থাকা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসংবলিত কোচ দেওয়া হয়নি। এখন সিদ্ধান্ত হলেও তা বাস্তবায়নে গড়িমসি হতাশাজনক।

সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)-টিআইবির চট্টগ্রামের সভাপতি প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, কক্সবাজার রেললাইন করতে গিয়ে এই অঞ্চলের মানুষ জমি দিয়েছেন। নির্মাণকাজের কারণে তাঁদের নানা কষ্ট ও ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। তাই উন্নত মানের ট্রেন তাঁদের অধিকার। অথচ শুরুতে কোনো ট্রেন দেওয়া হয়নি। পরে দাবির মুখে নিয়মিত ট্রেন দেওয়া হলেও বগিগুলোর মান ভালো নয়। এই রুটে উন্নত মানের বগি থাকা খুবই জরুরি। কেননা চট্টগ্রাম নগর ও কক্সবাজারের প্রচুর মানুষ ভ্রমণ ও জরুরি কাজে দুই শহরে আসা-যাওয়া করেন। তাই প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে রেলওয়ের উচিত হবে উন্নত মানের বগি সংযোজন এবং ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি করা।

Read full story at source