হোঁচট খেয়ে শুরু, বিশ্বজয়ে শেষ আর্জেন্টিনার
· Prothom Alo

২০২২ বিশ্বকাপের যাত্রাটা শুরু হয়েছিল ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় চমক দিয়ে। ২০১০ সালের ২ ডিসেম্বর যখন ফিফার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সেপ ব্ল্যাটার আয়োজক হিসেবে কাতারের নাম ঘোষণা করলেন, তখন পুরো বিশ্ব থমকে গিয়েছিল। অস্ট্রেলিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং আমেরিকার মতো ফুটবল পরাশক্তিদের বিডকে পেছনে ফেলে মরুভূমির ছোট দেশ কাতারের বিজয়ী হওয়ার ঘটনাটি অনেকের মনেই সন্দেহের তির গেঁথে দিয়েছিল। প্রথম আরব দেশ হিসেবে বিশ্বকাপ আয়োজনের সেই গৌরব যেমন ছিল অনন্য, তেমনি এর সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছিল একের পর এক বিতর্ক।
Visit betsport.cv for more information.
বিশ্বকাপ যত ঘনিয়ে আসছিল, কাতারকে ঘিরে সংকটের মেঘ তত ঘনীভূত হচ্ছিল। একদিকে চারদিক থেকে দুর্নীতির অভিযোগ, অন্যদিকে কাতারের প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ। জুন-জুলাইয়ের ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় খেলা অসম্ভব ছিল বলে ফিফা বদলে ফেলে বিশ্বকাপের নিয়ম। গ্রীষ্মকালীন টুর্নামেন্ট থেকে বিশ্বকাপ পরিণত হয় শীতকালীন এক টুর্নামেন্টে। প্রায় শত বছরের রীতি ভেঙে বিশ্বকাপ আয়োজন করা হয় নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে। শুধু তা–ই নয়, নিয়মিত ফুটবল মৌসুমের মাঝখানে বিরতি দিয়ে শুরু করা হয় বিশ্বকাপের আসর। পুরো ফুটবল–বিশ্বকে রীতিমতো ধাক্কা দিয়ে যায় বিশ্বকাপের আসর।
বিশ্বকাপের বাকি আর ৫০ দিন, ৪৮ দলের মহাযজ্ঞে স্বাগতকাতার বিশ্বকাপের পোস্টার।সেই সঙ্গে ছিল শ্রমিকদের অধিকার ইস্যু। বিশ্বকাপের সময় নতুন স্টেডিয়াম তৈরি করতে গিয়ে শ্রমিকদের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে আগেও । কিন্তু কাতার ছাড়িয়ে গিয়েছিল সব রেকর্ড। অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার ও জীবনহানি নিয়ে বেশ সরব হয়েছিল অনেকে। মানবাধিকার ইস্যু আর রাজনৈতিক অস্থিরতার দোলাচলে অনেকেই কাতার থেকে বিশ্বকাপ সরিয়ে নেওয়ার দাবি তুলেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সবকিছুকে পেছনে ফেলে সব শঙ্কা কাটিয়ে পর্দা ওঠে এক ঐতিহাসিক আসরের।
প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে যুক্ত হয় ‘সেমি-অটোমেটেড অফসাইড’ এবং বলের ভেতর থাকা বিশেষ সেন্সর প্রযুক্তি। রেফারিং নিয়ে কোনো ভুলের সুযোগই রাখেনি ফিফা। বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছিল বাছাইপর্বেই। ইউরো চ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল আসরে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়। অন্যদিকে মূল আসরে এসে ‘বিশ্বজয়ের অভিশাপ’ থেকে মুক্তি পায় ফ্রান্স। ১৮ বিশ্বকাপের পর আবারও ফাইনালের দেখা পায় তারা।
সবাইকে অবাক করে বিশ্বকাপের ‘সারপ্রাইজ প্যাকেজ’ হয়ে ওঠে মরক্কো। ক্রোয়েশিয়া আর বেলজিয়ামকে টপকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া মরক্কো নকআউট পর্বে স্পেন আর পর্তুগালকে বিদায় করে দিয়ে ইতিহাস গড়ে। প্রথম আফ্রিকান ও আরব দেশ হিসেবে সেমিফাইনালে পৌঁছে মন জয় করে দেয় পুরো বিশ্বের ফুটবল-ভক্তদের। যদিও তাদের স্বপ্নযাত্রা শেষ হয় সেমিফাইনালে ফ্রান্সের কাছে পরাস্ত হয়ে।
যেভাবে বিশ্বকাপের স্বপ্ন দেখছে আয়ারল্যান্ডমরক্কো প্রথমবারের মতো খেলেছিল বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল।আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হয়েছিল অঘটন দিয়ে। প্রথম পর্বেই সৌদি আরবের কাছে ২-১ গোলের হার দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করে লিওনেল মেসির দল। প্রচণ্ড চাপে পড়ে যায় দলটি। কিন্তু সেখান থেকেই ঘুরে দাঁড়ায় আর্জেন্টিনা, এমনভাবেই ঘুরে দাঁড়িয়েছিল যে পুরো টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনাকে আটকানোর কেউ ছিল না। নকআউটের প্রতিটি ম্যাচে আর্জেন্টিনার ত্রাণকর্তা হয়ে ওঠেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। বিশেষ করে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে সেই কোয়ার্টার ফাইনালের টাইব্রেকারে তাঁর জোড়া সেভ এবং ফাইনালে শেষ মুহূর্তের অবিশ্বাস্য সেভ আর্জেন্টিনাকে পৌঁছে দেয় ৩৬ বছরের কাঙ্ক্ষিত স্বপ্নের চূড়ায়।
২১ শতকের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে জমজমাট ফাইনাল দেখেছিল কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে। ম্যাচের একটা সময় পর্যন্ত মনে হচ্ছিল, হেসেখেলেই যেন জিতে যাবে আর্জেন্টিনা। ৭০ মিনিট পর্যন্ত গোলমুখে কোনো শট ছিল না ফ্রান্সের, ২-০ গোলে এগিয়ে মেসি-দি মারিয়ারা। সেখান থেকেই ফিনিক্স পাখির মতো জেগে উঠলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। দুই মিনিটে ২ গোল করে ম্যাচ টেনে নিলেন অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেও পূরণ করলেন হ্যাটট্রিক।
ইতালি কি এবার বিশ্বকাপের টিকিট পাবে?ফ্রান্সের হয়ে ফাইনালে একাই খেলেছিলেন এমবাপ্পে।ম্যাচের শেষ মিনিটে কোলো মুয়ানি মিস না করলে হয়তো ফাইনালটাও জিতে নিতেন তিনি। কিন্তু ৩-৩ গোলে ড্র হওয়া ফাইনাল পৌঁছে গেল টাইব্রেকারে। সেখানে গিয়ে নায়ক হয়ে উঠলেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। কিংসলে কোমানের পেনাল্টি থামিয়ে ৩৬ বছর পর আর্জেন্টিনাকে এনে দিলেন বিশ্বকাপের স্বাদ। ৩৫ বছর বয়সে এসে ক্যারিয়ারের একমাত্র অপূর্ণতা পূরণ হলো লিওনেল মেসির। বিশ্বকাপ জিতে লিওনেল মেসি পৌঁছে গেলেন অনন্য এক উচ্চতায়, যেখানে তাঁকে স্পর্শ করার মতো নেই কেউ।
ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যে প্রভাব পড়েছে