ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলা যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে, বলছেন মার্কিন বিশেষজ্ঞরা
· Prothom Alo

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলা যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে বলে মনে করছেন মার্কিন বিশেষজ্ঞরা। এক খোলাচিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন আন্তর্জাতিক আইন–বিশেষজ্ঞ এমন অভিমত প্রকাশ করেছেন।
Visit asg-reflektory.pl for more information.
এমন সময়ে খোলাচিঠিটি প্রকাশ করা হলো, যখন কিনা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পানি পরিশোধনের কেন্দ্রগুলোয় হামলার হুমকি দিয়েছেন।
যুদ্ধ নিয়ে আগে ভিন্ন ভিন্ন সময়সীমা ও লক্ষ্য উল্লেখ করা ট্রাম্প গত বুধবার এক টেলিভিশন ভাষণে বলেন, ইরান যদি ওয়াশিংটনের শর্ত মেনে না নেয়, তাহলে এই যুদ্ধ আরও তীব্র হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ইরানের জ্বালানি ও তেল অবকাঠামোর ওপর হামলার আশঙ্কাও রয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত খোলাচিঠিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীগুলোর কর্মকাণ্ড বিবেচনা করে এবং জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্যগুলো শুনে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘিত হয়ে থাকতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ১০০ জনের বেশি আন্তর্জাতিক আইন–বিশেষজ্ঞ ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন। তাঁদের মধ্যে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়, স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরাও আছেন।
চিঠিতে গত মার্চের মাঝামাঝি সময়ে ট্রাম্পের করা একটি বক্তব্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ওই সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘নিছক আনন্দের জন্য’ ইরানে হামলা চালাতে পারে।
মার্চের শুরুর দিকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের একটি বক্তব্যের কথাও খোলাচিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের ‘ফালতু নিয়মগুলো’ মেনে চলে না।
জাস্ট সিকিউরিটি সাময়িকীর ওয়েবসাইটে খোলাচিঠিটি প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বিশেষজ্ঞরা বলেন, তাঁরা ‘স্কুল, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র এবং বসতবাড়িতে হামলার ঘটনা নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তাঁরা যুদ্ধের প্রথম দিনেই ইরানের একটি স্কুলে হামলার ঘটনাও উল্লেখ করেন।
মার্কিন সামরিক বাহিনী বলেছে, তারা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মেয়েদের স্কুলে হওয়া ওই হামলার ঘটনায় চলমান তদন্ত মার্চ মাসে আরও বিস্তৃত করেছে। এর আগে তদন্তের তথ্যের বরাতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ হামলার জন্য সম্ভবত মার্কিন বাহিনীই দায়ী। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট বলেছে, ওই হামলায় ১৭৫ জন নিহত হয়েছেন।
গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে ‘অত্যন্ত কঠোর’ হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহে আমরা তাদের ওপর অত্যন্ত কঠোরভাবে হামলা চালাব। আমরা তাদের আবার প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে নিয়ে যাব। তাদের জন্য সেটাই উপযোগী।’
যুক্তরাষ্ট্রের একটি শীর্ষস্থানীয় মুসলিম অধিকার সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, যুদ্ধ চলাকালে ট্রাম্পের দেওয়া বক্তব্যগুলো মানুষের জন্য অবমাননাকর।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর জবাবে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোয় অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালায় ইরান। ইরান ও লেবাননে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় কয়েক হাজার মানুষ নিহত এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।