যশোরে জেজেআই ও বেঙ্গল টেক্সটাইলের কারখানা থেকে কাটা হচ্ছে ১ হাজার ৩০০ গাছ

· Prothom Alo

যশোরের অভয়নগর উপজেলার রাজঘাটে অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল যশোর জুট ইন্ডাস্ট্রিজের (জেজেআই) ২৯৬টি গাছ বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে গাছগুলো বিক্রি করার জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে পাটকল কর্তৃপক্ষ।

এ ছাড়া উপজেলার নওয়াপাড়ায় রাষ্ট্রায়ত্ত বস্ত্রকল বেঙ্গল টেক্সটাইল মিলসের অভ্যন্তরে ১ হাজার ২৭টি বিভিন্ন প্রজাতির গাছ বিক্রি বা হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Visit betsport24.es for more information.

যশোর জুট ইন্ডাস্ট্রিজের প্রকল্পপ্রধান কালাম মল্লিক গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর যশোর সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তাকে একটি চিঠি দেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মিলের উন্নয়ন প্রোগ্রাম বা বিজনেস প্ল্যান বাস্তবায়নের জন্য মিলে থাকা নষ্ট, ক্ষতিগ্রস্ত, পরিপক্ব গাছ কর্তন বা অপসারণপূর্বক নিলামে বিক্রির ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করে স্থানীয় বন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিয়ম মোতাবেক বিক্রির ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। চিঠিতে পাটকলের পরিপক্ব, ঝড়ে পড়া ও মারা যাওয়া ২৯৬টি গাছের প্রাক্কলিত মূল্য ও গাছ বিক্রির অনুমোদন প্রদানের অনুরোধ করা হয়।

সে অনুযায়ী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা পাটকলের পরিপক্ব, ঝড়ে পড়া ও মারা যাওয়া ২৯৬টি গাছের প্রাক্কলিত মূল্য নির্ধারণ করে গত ফেব্রুয়ারি পাটকলের প্রকল্পপ্রধানকে চিঠি দেন। তবে ওই গাছ বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়নি বলে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জানান। চিঠি পাওয়ার পরপরই গাছগুলো বিক্রির দরপত্র আহ্বান করা হয়।

জানতে চাইলে যশোর জুট ইন্ডাস্ট্রিজের প্রকল্পপ্রধান মো. কালাম মল্লিক প্রথম আলোকে বলেন, ‘পরিপক্ব, মরা এবং ঝড়ে পড়া ২৯৬টি গাছ বিক্রি করা হবে। এ জন্য কার্যক্রম চলমান। গাছগুলোর মূল্য নির্ধারণ এবং বিক্রির জন্য বন বিভাগের অনুমতি নেওয়া হয়েছে। এরপর বিজেএমসি দুটি জাতীয় এবং একটি স্থানীয় সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে গাছগুলো বিক্রির দরপত্র আহ্বান করেছে। দরপত্র জমা পড়েছে। পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য বিজেএমসিতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। বিষয়টি বিজেএমসির বোর্ডে পাস হবে। বোর্ড যদি মনে করে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন লাগবে, সে ক্ষেত্রে অনুমোদন দেওয়ার পর গাছগুলো বিক্রি করা হবে।’

এদিকে গত ২৮ সেপ্টেম্বর বেঙ্গল টেক্সটাইল মিলসের ব্যবস্থাপক আতিকুর রহমান মিলের অভ্যন্তরে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের মার্কিং, পরিমাপ নিরূপণ, মূল্য নির্ধারণ ও গাছগুলো বিক্রির ছাড়পত্র প্রদানের জন্য যশোর সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তাকে একটি চিঠি দেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বেঙ্গল টেক্সটাইল মিলসের অভ্যন্তরে বিভিন্ন প্রজাতির ৭২৪টি গাছ আছে। পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) মাধ্যমে পরিচালনার নিমিত্তে টেন্ডারে প্রাপ্ত পার্টির কাছে মিলটি হস্তান্তর করা হবে। সে ক্ষেত্রে টেন্ডারে প্রাপ্ত পার্টির নিকট গাছগুলো হস্তান্তর অথবা বিক্রি করা হবে। চিঠিতে বস্ত্রকলের অভ্যন্তরে ৭২৪টি গাছ সরেজমিন পরিদর্শন করে মার্কিং, পরিমাপ নিরূপণ ও মূল্য নির্ধারণ করে গাছগুলো বিক্রির ছাড়পত্র প্রদানের অনুরোধ করা হয়।

যশোর জুট ইন্ডাস্ট্রিজের (জেজেআই) ২৯৬টি গাছের মধ্যে রয়েছে মেহগনি, রেইনট্রি, শীলকড়ই, সেগুন, আকাশমণি, কৃষ্ণচূড়া ও শিশু

সে অনুযায়ী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বস্ত্রকলের অভ্যন্তরে ১ হাজার ২৭টি গাছের প্রাক্কলিত মূল্য নির্ধারণ করে গত ফেব্রুয়ারি বস্ত্রকলের ব্যবস্থাপককে চিঠি দেন।
বেঙ্গল টেক্সটাইল মিলসের ব্যবস্থাপক আতিকুর রহমান বলেন, ‘বেঙ্গল টেক্সটাইল মিলস সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে (পিপিপি) ৩০ বছরের ইজারা দেওয়া হবে। এ জন্য সামাজিক বন বিভাগ থেকে গাছগুলোর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যে পার্টি মিলটি ইজারা নেবে, তাদের কাছে গাছ বিক্রি বা হস্তান্তর করা হবে।’

যশোর সামাজিক বন বিভাগ সূত্র জানায়, যশোর জুট ইন্ডাস্ট্রিজের (জেজেআই) ২৯৬টি গাছের মধ্যে রয়েছে মেহগনি, রেইনট্রি, শীলকড়ই, সেগুন, আকাশমণি, কৃষ্ণচূড়া ও শিশু। ২৯৬টি গাছের মধ্যে ৫২টি গাছ মরা ও ঝড়ে পড়া। এর মধ্যে ৩৮টি গাছ মরা এবং ঝড়ে পড়া গাছ ১৪টি। অবশিষ্ট ২৪৪টি গাছ বড় ও জীবিত।

অমিতা মন্ডল, যশোর সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা যশোর জুট ইন্ডাস্ট্রিজের (জেজেআই) ২৯৬টি গাছের এবং বেঙ্গল টেক্সটাইল মিলসের ১ হাজার ২৭টি গাছের মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। গাছগুলো বিক্রি বা কাটার কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

সূত্র জানায়, বেঙ্গল টেক্সটাইল মিলসের অভ্যন্তরে ১ হাজার ২৭টি গাছের মধ্যে রয়েছে নারকেল, সুপারি, জাম, নিম, মেহগনি, অরকরিয়া, রেইনট্রি, কাঁঠাল, আম, আমড়া, শীলকড়ই, বরই, বট, পুয়ে, আতা, সড়া, ডুমুর, লেবু, অর্জুন ও জলপাই। এর মধ্যে মরা গাছ ১৬টি। অবশিষ্ট ১ হাজার ১১টি গাছ জীবিত।

যশোর সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা অমিতা মন্ডল বলেন, যশোর জুট ইন্ডাস্ট্রিজের (জেজেআই) ২৯৬টি গাছের এবং বেঙ্গল টেক্সটাইল মিলসের ১ হাজার ২৭টি গাছের মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। গাছগুলো বিক্রি বা কাটার কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

বিজেএমসি সূত্র জানায়, ২০২০ সালের ১ জুলাই লোকসান ও উৎপাদন খরচের কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল যশোর জুট ইন্ডাস্ট্রিজ বন্ধ করে সরকার। অন্যান্য পাটকলের সঙ্গে যশোর জুট ইন্ডাস্ট্রিজকে ইজারা দেওয়ার জন্য ২০২১ সালের জানুয়ারিতে প্রথম আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়। দরপত্রের শর্ত—ইজারাদার শুধু পাট, পাটজাত পণ্য উৎপাদন করতে পারবেন। ২০২৩ সালে যশোর জুট ইন্ডাস্ট্রিজের ৩০ বছরের ইজারা পায় আকিজ গ্রুপ।

বিটিএমসি সূত্র জানায়, বেঙ্গল টেক্সটাইল মিলস ১৯৬২ সালে ১৬ দশমিক ৩২ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭২ সালে বস্ত্রকলটি জাতীয়করণ করা হয়। বেঙ্গল টেক্সটাইল মিলস বিটিএমসির একটি প্রতিষ্ঠান। ১৯৮৫ সালে বেঙ্গল টেক্সটাইল মিলস-২ প্রতিষ্ঠিত এবং ১৯৮৯ সালে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করে। ২০১০ সালে বেঙ্গল টেক্সটাইল মিলস-১ বন্ধ হয়ে যায়। বেঙ্গল টেক্সটাইল মিলস-২ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিকট ভাড়া দেওয়া হয়। সর্বশেষ ২০২১ সালের মার্চ মাস থেকে তিন বছরের জন্য বস্ত্রকলটি ভাড়া দেওয়া হয়। এরপর বস্ত্রকলটি আর ভাড়া দেওয়া হয়নি।

২০২৫ সালের ২৮ জানুয়ারি হাইকোর্ট এক রায়ে গাছ কাটার ক্ষেত্রে অনুমতি নিতে ঢাকা শহরসহ অন্যান্য জেলা শহর ও উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠন করতে নির্দেশ দেন। এই কমিটির অনুমতি ছাড়া ঢাকা শহরসহ অন্যান্য জেলা শহর ও উপজেলা পর্যায়ে গাছ কাটা যাবে না। তবে গ্রামাঞ্চলে ব্যক্তিমালিকানাধীন গাছ কাটার বিষয়টি এর আওতায় আসবে না।

Read full story at source