ঈদ উপলক্ষে আফগানিস্তানে ওপর হামলা স্থগিতের ঘোষণা পাকিস্তানের
· Prothom Alo

পাকিস্তান প্রতিবেশী আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। এদিকে বুধবার কাবুলের একটি মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রে হামলায় নিহত কিছু মানুষের গণজানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার ওই কেন্দ্রে হামলায় শতশত মানুষ নিহত হন।
Visit fish-roadgame.online for more information.
আফগান তালেবান সরকার জানিয়েছ, ওই হামলায় ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং ২৬৫ জন আহত হয়েছে। পবিত্র রমজান মাস শেষ হওয়ার কয়েকদিন আগে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
পাকিস্তান দাবি করেছে, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রকে লক্ষ্যবস্তু বানায়নি। বরং তারা ‘নির্ভুলভাবে সামরিক স্থাপনা এবং সন্ত্রাসী অবকাঠামো’ লক্ষ্যবস্তু করেছিল। কিছু চরমপন্থী গোষ্ঠী প্রায়ই সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে হামলা চালায়। পাকিস্তান অভিযোগ তুলেছে, কাবুলের তালেবান সরকার এই গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় দিচ্ছে।
বুধবার রাতে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেন, বুধবার রাত ১২টা থেকে সোমবার রাত ১২টা পর্যন্ত আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে দেশটির সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে।
তারার আরও বলেন, পবিত্র রমজানের সমাপ্তি উপলক্ষে ‘ভ্রাতৃপ্রতিম মুসলিম দেশ’ সৌদি আরব, কাতার এবং তুরস্কের অনুরোধে এই বিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে তারার বলেছেন, যদি পাকিস্তানের ভেতরে সীমান্ত পেরিয়ে আক্রমণ, ড্রোন আক্রমণ বা কোনো সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটে, তবে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে তাদের সামরিক অভিযান অবিলম্বে পুনরায় তীব্রতার সাথে শুরু হবে।
এদিকে বুধবার আফগানিস্তানের তালেবান সরকারও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ।
সোমবার ২ হাজার শয্যাবিশিষ্ট কাবুলের ওমিদ মাদকাসক্তি চিকিৎসা হাসপাতালে বিমান হামলা হয়। তিন সপ্তাহের ধরা চলা যুদ্ধে এই একটি হামলাতেই সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
এক সময়ের মিত্র থেকে শত্রুতে পরিণত হওয়া ইসলামাবাদ গত বছর অভিযোগ তোলে, কাবুলের সরকার পাকিস্তানজুড়ে হামলা চালানো উগ্রপন্থী আশ্রয় ও সমর্থন দিচ্ছে। তবে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
চীনসহ বিভিন্ন দেশের মধ্যস্থতায় প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে সংঘাত কমে এসেছিল। তবে গত মাসে আবারও উত্তেজনা বেড়ে যায়, যখন পাকিস্তান সরাসরি আফগান তালেবানকে লক্ষ্যবস্তু করা শুরু করে। এর আগে ইসলামাবাদ শুধু সীমান্ত অঞ্চলে থাকা পাকিস্তান তালেবানের স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল।