তাঁদের আমি পাগল করে দেব: কেন মোদি-শাহকে লক্ষ্য করে এমন কথা বললেন রাহুল

· Prothom Alo

ভোট চুরি ও ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে প্রকাশ্যে মুখোমুখি বিতর্কে অংশ নেওয়ার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। জবাবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছিলেন, ‘এসআইআর নিয়ে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকতে সরকার প্রস্তুত। রাহুল সংসদে আসুন বিতর্কে অংশ নিতে।’

Visit asg-reflektory.pl for more information.

অমিত শাহর পাল্টা এক পোস্ট দিয়ে রাহুল রাজনীতি জমিয়ে দিয়েছেন। অমিত শাহর পরপর দুই ধরনের বিতর্কের ক্লিপিং তুলে দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে রাহুল গান্ধী সরকারি ‘দ্বিচারিতার’ প্রমাণ দাখিল করে তীব্র কটাক্ষ করে বলেছেন, ‘তাঁদের আমি পাগল করে দেব।’

কেন পাগল করবেন ও কীভাবে পাগল করবেন, তা বোঝাতে এসআইআর নিয়ে অমিত শাহর দুটি মন্তব্য পাশাপাশি তুলে দিয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা। গতকাল শুক্রবার রাতে ‘এক্স’ যোগাযোগমাধ্যমে সেই পোস্ট দিয়ে রাহুলের মন্তব্য, ‘তাঁরা বিভ্রান্তিতে পড়ে গেছে।’

প্রধানমন্ত্রী মোদিকে খোলাখুলি বিতর্কে রাহুল আহ্বান জানিয়েছিলেন কয়েক দিন আগে। মোদির উদ্দেশে তিনি বলেছিলেন, ‘কোথায় বিতর্ক হবে, তা আপনি ঠিক করুন। কবে হবে, তা ঠিক করুন। বিতর্ক সভায় কাকে বিচারক হিসেবে চান, তা–ও ঠিক করুন। দরকার হলে মোহন ভাগবতকেই বিচারক নিযুক্ত করুন। সেই মঞ্চে আপনি থাকবেন, আমি থাকব, জনতা থাকবে, মিডিয়া থাকবে। কারা দেশপ্রেমী, কারা দেশদ্রোহী—সবকিছুর ফয়সালা সেখানেই হয়ে যাবে।’

রাহুল বলেছেন, কেন তাড়াহুড়া করে মন্ত্রিসভাকে লুকিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি হলো, কেন শিল্পপতি আদানির বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা যুক্তরাষ্ট্রে বন্ধ হয়ে গেল, কে বিদেশির কৃপায় টিকে রয়েছেন, সব জবাব পাওয়া যাবে। কতটা দুধ কতটা জল স্পষ্ট হয়ে যাবে।’

প্রধানমন্ত্রীর হয়ে সেই চ্যালেঞ্জেরই জবাব দিয়েছিলেন অমিত শাহ। হরিয়ানায় এক জনসভায় গত বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ‘খোলা ময়দানে কেন, রাহুল সংসদে আসুন। এসআইআর নিয়ে বিতর্কের জন্য প্রয়োজনে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকতে তাঁরা প্রস্তুত। সেখানেই বিতর্ক হোক।’

অমিত শাহর ওই জবাবই হয়ে ওঠে রাহুল গান্ধীর মোক্ষম অস্ত্র। গতকাল শুক্রবার রাতে ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে অমিত শাহকে উদ্দেশ করে এক পোস্টে রাহুল লিখেছেন, ‘মোদিজিকে বিভ্রান্ত করবেন না। আমার সঙ্গে খোলাখুলি বিতর্কে বসতে শুধু তাঁকে রাজি করান। যেকোনো মঞ্চে। যেকোনো সময়। ভয় পাবেন না।’

কেন বিভ্রান্তি, ওই পোস্টে রাহুল তা বিস্তারিতভাবে বুঝিয়েও দিয়েছেন। অমিত শাহর দুটি বিবৃতির ক্লিপিং রাহুল পাশাপাশি তুলে দিয়েছেন। দুটিই নির্বাচন কমিশনের এসআইআর–সংক্রান্ত। দুটি ক্লিপিংই সংসদে দেওয়া।

অমিত শাহর প্রথম ক্লিপিংটি ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর। এসআইআর নিয়ে আলোচনার দাবিতে উত্তাল সংসদে অমিত শাহ সেদিন বলেছিলেন, ‘এসআইআর নিয়ে সংসদে আলোচনা হতে পারে না। কারণ, চর্চা চলাকালে যেসব প্রশ্ন উঠবে, তার জবাব কে দেবে?’

অমিত শাহ সেদিন এটাই বলতে চেয়েছিলেন, জবাব দেওয়ার জন্য মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বা নির্বাচন কমিশনাররা সভায় থাকতে পারবেন না। তাঁরা সরকারের অধীনস্থ নন। তাই এসআইআর নিয়ে আলোচনা সংসদে সম্ভব নয়।

পরের ক্লিপিংটা গত ৫ নভেম্বরের, হরিয়ানার জনসভায় অমিত শাহর ভাষণ থেকে নেওয়া। সেখানে তিনি রাহুলকে সংসদীয় বিতর্কে বসার পাল্টা চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন। সেই ক্লিপিংয়ে শোনা যায়, রাহুলকে উদ্দেশ করে শাহ বলছেন, ‘আপনি মোদিজিকে চর্চার চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন? রাহুলজি, মোদিজির প্রয়োজন নেই। এসআইআর নিয়ে আলোচনার জন্য আমরা সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকতে তৈরি।’

সংসদে এসআইআর আলোচনা নিয়ে এই ‘দ্বিচারিতায়’ বিস্মিত রাহুল কৌতুক করে বলেছেন, ‘বিভ্রান্তিতে পড়ে গেছে।’

এক বছরের ব্যবধানে অমিত শাহর দুটি মন্তব্য তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে এসআইআর নিয়ে সরকারি ‘দ্বিচারিতা’ প্রকট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অন্যরা আলোচনায় নেমে পড়েন। গতকাল গভীর রাতে রাহুলকে আক্রমণ করে এক পোস্ট দেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশি। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের কারণে ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করার পর তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।

রাহুলের উদ্দেশে প্রহ্লাদ লিখেছেন, ‘বিভ্রান্ত আমরা নই। আপনি। যখন ভোটে জেতেন, তখন ঠিক আছে। যখন হেরে যান, তখন পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এই আপনার গণতন্ত্র। এখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আপনাকে সংসদে আসার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। এসআইআর নিয়ে বিশেষ অধিবেশন ডাকার প্রস্তাব দিয়েছেন। তাহলে দ্বিধা কেন? কেন এত নাটক?’

অমিত শাহর সমর্থনে বিজেপির নেতারা দাঁড়িয়েছেন ঠিকই, কিন্তু তাতে সংসদে এসআইআর আলোচনায় অনীহা নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য ও যুক্তি খারিজ হয় না। এখন আলোচনায় রাজি থাকলে তাঁর এক বছর আগের যুক্তি অসাড় প্রতিপন্ন হয়। রাহুল সেটাই প্রতিপন্ন করতে চেয়েছেন।

Read full story at source