দেশের মধ্যে বাড়ল, বিদেশে কমল উড়োজাহাজের জ্বালানির দাম
· Prothom Alo

দেশে টানা কয়েক মাস কমানোর পর উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জ্বালানি তেল জেট ফুয়েলের দাম চার মাস ধরে বাড়ছে। এবার দেশের ভেতরে ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটারে বাড়ানো হয়েছে ৬ টাকা ৩২ পয়সা। এর আগে গত মাসে বাড়ানো হয় ১৭ টাকা ৬ পয়সা। তবে বিদেশের গন্তব্যে যেতে জেট ফুয়েলের দাম কমেছে।
আজ বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জেট ফুয়েলের নতুন দর ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন দর আজ দিবাগত রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে। গত বছরের মে মাস থেকে প্রতি মাসে দাম সমন্বয় করছে তারা।
Visit umafrika.club for more information.
বিইআরসির নতুন দর বলছে, দেশের ভেতরে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি লিটার ১৮৯ টাকা ৩ পয়সা। এটি আগে ছিল ১৮২ টাকা ৭১ পয়সা। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর আগে ফেব্রুয়ারিতে এর দাম ছিল ৯৫ টাকা ১২ পয়সা। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর গত মার্চে দুই দফায় প্রতি লিটারে বেড়েছিল মোট ১০৭ টাকা।
আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটারের দাম ১ দশমিক ১৮৮২ ডলার থেকে কমিয়ে ১ দশমিক ১৬৩৭ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিইআরসি সূত্র বলছে, দেশের মধ্যে জেট ফুয়েল বিক্রির ক্ষেত্রে দুই দফায় ভ্যাট প্রযোজ্য। এটি এত দিন ১৭ শতাংশ ধরে আদায় করা হয়েছে। এ হিসাব ঠিক ছিল না, সম্প্রতি তা সংশোধন করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে সতর্ক করা হয়েছে। তাই এ মাসে সাড়ে ২২ শতাংশ ভ্যাট ধরে হিসাব করা হয়েছে। এ কারণে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দাম কমলেও দেশের মধ্যে ভ্যাটের কারণে দাম বেড়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে ইরানে আক্রমণের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের সূত্রপাত। এরপর ইরান ওই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে হামলা শুরু করলে তেলসমৃদ্ধ ওই অঞ্চলের প্রায় পুরোটাজুড়ে যুদ্ধ বিস্তৃত হয়। দুই পক্ষের হামলায় লক্ষ্যবস্তু হয় জ্বালানি স্থাপনাগুলো। এতে জ্বালানির দাম অস্থির হয়ে ওঠে বিশ্ববাজারে। এরপর যুদ্ধবিরতি শুরু হলে দাম কমতে শুরু করে।
আগে জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণ করত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। তবে নির্বাহী আদেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম নির্ধারণের ধারা অন্তর্বর্তী সরকার বাতিল করে দেয়। এরপর ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফার্নেস অয়েল, জেট এ-১-এর দাম নির্ধারণের এখতিয়ার বিইআরসিকে দেওয়া হয়।
প্রজ্ঞাপনের পর ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ প্রথমবারের মতো জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণে গণশুনানি গ্রহণ করে বিইআরসি। এর পর থেকে প্রতি মাসে দাম সমন্বয় করা হচ্ছে।