অনলাইনে সৌন্দর্য বিষয়ক সবকিছু অন্ধভাবে অনুসরণ করা ঠিক নয়: কানিজ আলমাস খান

· Prothom Alo

প্রথম আলোর শুরু থেকেই ‘নকশা’র সঙ্গে যুক্ত কানিজ আলমাস খান। নিজের কাজে দীর্ঘ পথচলায় দেখেছেন সৌন্দর্যচর্চার বদলে যাওয়া ধারা, মানুষের রুচি ও পছন্দের পরিবর্তন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রয়া মুনতাসীর

Visit esporist.com for more information.

আপনি যখন কাজ শুরু করেছিলেন, সেই সময়ের সঙ্গে সৌন্দর্যসেবায় এখনকার গ্রাহকদের চাহিদার কী পরিবর্তন দেখছেন?

এখন আমরা অনেক বেশি যন্ত্র ব্যবহার করি। সেবাগুলোয় যেখানে সম্ভব, সেখানেই নানা ধরনের যন্ত্র ও প্রযুক্তি যুক্ত হয়েছে। মেকআপে এখন এয়ারব্রাশ ব্যবহার করা হয়। ত্বকের যত্নেও বিভিন্ন ধরনের যন্ত্র ও সরঞ্জাম ব্যবহৃত হচ্ছে। পণ্যের পরিবর্তন এসেছে, সেবার ধরন বদলেছে, নতুন নতুন সেবাও যুক্ত হয়েছে।

তবে আমার মনে হয়, যে কাজটি করছেন, সেটি সম্পর্কে ভালোভাবে জানা জরুরি। আন্তরিকতার সঙ্গে যদি আরও একটু পেশাদারত্ব ও ভালোবাসা যুক্ত হয়, তাহলে সেবার মানও বাড়বে।

জরুরি পরিস্থিতির জন্য খাবার-পানি মজুত করতে বলছে বিভিন্ন দেশ, কিসের আশঙ্কা

এখন তো অনলাইন থেকে সৌন্দর্যচর্চার নানা পরামর্শ পাওয়া যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কতটা সতর্ক থাকা প্রয়োজন?

অনেক সময় দেখা যায়, চুলের কোনো তেল বা পণ্য সম্পর্কে বলা হচ্ছে, ১০ দিন, ১৫ দিন কিংবা এক মাস ব্যবহার করলেই মাথায় নতুন চুল গজাবে। বাস্তবে এগুলো সম্ভব নয়। এসব পণ্যের বিষয়ে আরও নজরদারি থাকা প্রয়োজন।

অনলাইনে প্রশিক্ষণমূলক ভিডিও, বিভিন্ন কৌশল ও পরামর্শ থেকে অনেক কিছু শেখা যায়। তবে সবকিছু অন্ধভাবে অনুসরণ করা ঠিক নয়। বেশির ভাগ সৌন্দর্যবিশেষজ্ঞ যখন কোনো টিউটোরিয়াল দেখান, তখন তাঁরা নিজেদের পছন্দের পণ্য ব্যবহার করেন এবং সেই পণ্যের ভিত্তিতেই ভালো-মন্দের কথা বলেন। সেখান থেকে তাঁদের কৌশল ও কাজের ধরন শেখা যেতে পারে। কিন্তু পণ্যের ক্ষেত্রে নিজের বিবেচনাবোধ কাজে লাগাতে হবে।

আপনি একসময় নিয়মিত কনেদের সাজাতেন। তখনকার কনে আর এখনকার কনেদের সাজে কী পরিবর্তন দেখছেন?

রুপ বিশেষজ্ঞ কাজিন আলমাস খান জানালেন, সাজের ধরনে পরিবর্তন এসেছে

আমরা যখন কাজ শুরু করেছিলাম, তখন ক্লায়েন্টদের চাহিদা ছিল একটু উজ্জ্বল বা বেশি ফুটিয়ে তোলা সাজ। অনেক সময় সাজ শেষ হওয়ার পর মনে হতো, কিছুটা বেশি করে ফেলা হয়েছে। অবশ্য তখনো বিভিন্ন ধরনের ক্লায়েন্ট ছিলেন। কেউ খুব স্বাভাবিক সাজ পছন্দ করতেন, সেখানে সামান্য কিছু বিষয় ফুটিয়ে তুলতে চাইতেন। কেউ মাঝামাঝি ধরনের সাজ চাইতেন।

এখন সবাই স্বাভাবিক সাজ পছন্দ করেন। আমার মনে হয়, সৌন্দর্য সম্পর্কে মানুষ আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন হয়েছেন। অতিরিক্ত মেকআপ করলে নিজের স্বাভাবিক চেহারাটাই হারিয়ে যেতে পারে—এই বিষয় মানুষ এখন বুঝতে পারছেন।

স্বাভাবিক সাজ মানে কিন্তু মেকআপের কোনো ধাপ বাদ দেওয়া নয়। সব ধাপই অনুসরণ করা হয়, তবে প্রতিটি ধাপে পণ্যের ব্যবহার থাকে পরিমিত। এখন এমন অনেক পণ্য আছে, যেগুলো পাতলা করে বা প্রয়োজন অনুযায়ী মিশিয়ে ত্বকে ব্যবহার করা যায়। ফলে ত্বকের ওপর খুব পাতলা একটি প্রলেপ তৈরি করা সম্ভব। এসব সুবিধার কারণেও সাজের ধরনে পরিবর্তন এসেছে। সব মিলিয়ে কাজের ধরন ও কনের চাহিদা—দুই ক্ষেত্রেই অনেক পরিবর্তন হয়েছে।

ছিল ঘিয়ের ব্যবসা, এখন তৈরি করে ১৮৫ রকম মিষ্টি, চার প্রজন্মের গল্পে বিক্রমপুর মিষ্টান্ন ভান্ডার

আগের প্রজন্মের সঙ্গে জেনারেশন জেডের সৌন্দর্যচর্চার কী পার্থক্য চোখে পড়ে?

প্রথম আলোর শুরু থেকেই ‘নকশা’র সঙ্গে যুক্ত রূপবিশেষজ্ঞ কানিজ আলমাস খান

এখনকার তরুণীরা সাজ একটু কম করেন, কিন্তু ত্বকের যত্নের বিষয়ে অনেক বেশি সচেতন। আগে অনেক মেয়েকেই দেখেছি, ঠিকমতো সানস্ক্রিন ব্যবহার করতেন না। বাইরে থেকে বাসায় ফিরে রাতে মুখ পরিষ্কার করে ময়েশ্চারাইজার বা টোনার ব্যবহারের অভ্যাসও সবার ছিল না।

এখন দেখি, তাঁরা সানস্ক্রিন ব্যবহার করছেন। চোখে আইলাইনার, ঠোঁটে লিপস্টিক ও ব্লাশঅন পছন্দ করছেন।

সবাইকে নিয়ে তো বলতে পারব না, তবে বেশির ভাগকেই দেখি ত্বক পরিষ্কার করে টোনার, ময়েশ্চারাইজার ও আন্ডার আই ক্রিম ব্যবহার করছেন। চুল ভালোভাবে আঁচড়ে, বেঁধে ঘুমাতে যাচ্ছেন। এখনকার মেয়েরা অনেক বেশি বুঝেশুনে সৌন্দর্যচর্চা করছেন।

পণ্যের ক্ষেত্রেও একটা পরিবর্তন দেখছি। আগে হয়তো একটি তরুণীর পক্ষে টোনার, ময়েশ্চারাইজার বা মুখ পরিষ্কারের পণ্য—সবকিছু কেনা সম্ভব হতো না। এখন অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবকেরাও সন্তানদের এসব পণ্য কিনতে সাহায্য করছেন। বাবা-মায়েরাও চান, শুরু থেকেই সন্তানের ত্বক ভালো থাকুক। তাই তাঁরা ত্বকের যত্নের বিভিন্ন ধাপ অনুসরণ করতে উৎসাহ দিচ্ছেন।

পারসোনায় অনেক তারকা সাজসজ্জা করেছেন। তাদের সাজানোর সময় কোনো চাপ অনুভব করতেন?

তারকাদের সাজানোর সময় সব সময় তাঁদের পরিচিত চেহারা বা লুক থেকে একটু বের করে আনতে চাইতাম। প্রত্যেকেরই একটা নিজস্ব ইমেজ থাকে। মানুষ তাঁদের একেকভাবে দেখেন। কারও পোশাক, সাজ, চুলের ধরন কিংবা মেকআপের মধ্য দিয়ে একটি নির্দিষ্ট পরিচিতি তৈরি হয়। আমি চেষ্টা করতাম, সেই পরিচিত লুকের বাইরে গিয়ে কীভাবে তাঁকে একটু অন্যভাবে উপস্থাপন করা যায়।

সে জন্য কখনো চোখের ভ্রুর আকারে, চোখের মেকআপে পরিবর্তন করার চেষ্টা করতাম, ঠোঁটের সাজ বদলাতাম। কনট্যুরিংয়ের মাধ্যমেও চেহারায় কিছুটা পরিবর্তন আনার চেষ্টা করতাম। কারও মুখ গোল হলে কনট্যুরিং দিয়ে একটু ধারালো বা শার্প লুক আনার চেষ্টা করতাম। চুলের সাজও বদলাতাম। কারণ, হেয়ারস্টাইলের ওপর পুরো চেহারার অনেক কিছু নির্ভর করে। পোশাকের সঙ্গে মানানসই করে সাজের পরিবর্তন তো করতেই হতো। তবে সব সময় মাথায় থাকত, তাঁর পরিচিত লুক থেকে কীভাবে একটু ভিন্ন কিছু করা যায়।

প্রথম আলো ও মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত আমরা সঙ্গে থেকেছি। পুরস্কারের মঞ্চে তারকাদের সাজ, পোশাক, চুলের ধরন—সবকিছুতেই একটু ভিন্নতা আনার সুযোগ থাকত।

শীতলক্ষ্যা থেকে গভীর রাতে ডাঙায় উঠে আসত যে রহস্যময় মাছ

প্রথম আলোর শুরু থেকেই নকশার সঙ্গে আপনার কাজের সম্পর্ক। এত বছর ধরে এই পথচলাকে কীভাবে দেখেন?

রূপবিশেষজ্ঞ কানিজ আলমাস খান জানালেন, নকশার মাধ্যমে তিনি সারা দেশের মানুষের কাছে পৌঁছাতে পেরেছেন

প্রথম আলোর শুরুর সঙ্গে সঙ্গে আমার কাজও শুরু হয়েছিল। এক-দুটি বাদে প্রায় সব নকশাতেই তখন কাজ করেছি। মাসে চারটি নকশা হলে হয়তো দুটিতে থাকতাম, কখনো তিনটিতে। আবার বিশেষ কোনো আয়োজন থাকলে চারটিতেই কাজ করা হয়েছে।

নকশার সঙ্গে আমার সম্পর্কটা অনেকটা নিজের কাজের মতো। ক্যানভাস–এর কাজ যেমন আমি নিজের কাজ মনে করে করি, নকশার ক্ষেত্রেও ঠিক তেমনই অনুভব করেছি। মনে হতো, এটা আমারই কাজ। মঙ্গলবারের নকশায় আমার কাজ আছে, সেটা আমাকে করতেই হবে। অনেক সময় সেভাবেই প্রস্তুতি রাখতাম। অন্য কাজ থাকলে বলতাম, ওই দিন আমার জন্য রেখো না, নকশার কাজ আছে।

নকশা আমার পরিচিতি বাড়িয়েছে, পাঠকদের কাছে, যাঁরা আমাকে ভালোবাসেন, তাঁদের কাছে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে। নকশার মাধ্যমে আমি সারা দেশের মানুষের কাছে পৌঁছাতে পেরেছি। এ জন্য আমি সব সময় কৃতজ্ঞ। এমন একটি পত্রিকার সঙ্গে এত দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করতে পারাটাও অনেক বড় ব্যাপার। এখনো মনে হয়, নকশা আমাকে ভালোবাসে। এত বছর পরও তারা আমাকে দূরে সরিয়ে দেয়নি।

একটু একটু করে চমৎকার এই খামারবাড়ি গড়ে তুলেছে কানিজ আলমাস খানের পরিবার

Read full story at source