কানাডার কয়েকটি প্রদেশে সময় পরিবর্তনের নিয়ম বন্ধ, স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ
· Prothom Alo
কানাডার কয়েকটি প্রদেশে বছরে দুইবার ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা এগিয়ে নেওয়া ও পিছিয়ে দেওয়ার প্রচলিত নিয়ম বন্ধ হতে যাচ্ছে ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে। তবে স্থায়ীভাবে ডে-লাইট সেভিং টাইম (ডিএসটি) চালু রাখার এই সিদ্ধান্ত মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য কতটা উপযোগী, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ঘুম ও জৈবিক ঘড়ি নিয়ে গবেষণাকারী বিশেষজ্ঞরা।
নতুন নিয়মের আওতায় যে প্রদেশ ও অঞ্চলগুলো আর সময় পরিবর্তন করবে না, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—ব্রিটিশ কলাম্বিয়া (অধিকাংশ এলাকা), আলবার্টা, ম্যানিটোবা, নর্থওয়েস্ট টেরিটরিজ। এ ছাড়া ইউকন ২০২০ সাল থেকে এবং সাসকাচুয়ানের অধিকাংশ এলাকা দীর্ঘদিন ধরে সময় পরিবর্তনের নিয়ম অনুসরণ করে না।
Visit h-doctor.club for more information.
অন্যদিকে অন্টারিও, কুইবেক ও আটলান্টিক প্রদেশের অধিকাংশ এলাকায় আগের নিয়ম বহাল রয়েছে। তারা ১ নভেম্বর ২০২৬ রোববার রাতে ঘড়ির কাঁটা ১ ঘণ্টা এগিয়ে এনেছে।
দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]
বিশেষজ্ঞদের মতে, সারা বছর ডে-লাইট সেভিং টাইম চালু থাকলে শীতকালে সকালে সূর্যের আলো পেতে দেরি হবে। এর ফলে মানুষের স্বাভাবিক জৈবিক ঘড়ি বা ‘সার্কাডিয়ান রিদম’ ব্যাহত হতে পারে। অনেক মানুষকে অন্ধকারে ঘুম থেকে উঠে কাজে বা স্কুলে যেতে হবে, যা ‘সামাজিক জেটল্যাগ’ তৈরি করে। গবেষকদের মতে, সকালের আলো দেরিতে পাওয়ার সঙ্গে ঘুমের ঘাটতি, স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও হৃদ্রোগের মতো স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে। উল্লেখ্য যে প্রদেশগুলো এ বছর ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তন করছে না সে এলাকার অনেক জায়গায় ডিসেম্বরে সূর্য উঠবে সকাল সাড়ে নয়টা থেকে ১০টার দিকে। অন্যদিকে কানাডার স্কুলগুলো শুরু হয় সকাল সাড়ে আটটায়। দোকানপাট খুলে যায় সকাল ৭টায়। ফলে সূর্য ওঠার তিন ঘণ্টা আগে মানুষ তাদের কাজ শুরু করবে।
কুইবেকেও নিয়ম পরিবর্তনের উদ্যোগ
এদিকে কুইবেক প্রদেশেও বছরে দুইবার সময় পরিবর্তনের নিয়ম বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রিমিয়ার পল সাঁ-পিয়ের প্লামন্ড জানিয়েছেন, তাঁর সরকার এ ব্যবস্থা বন্ধ করতে চায়। তবে প্রদেশটি সারা বছর কোন সময় অনুসরণ করবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কানাডার বিভিন্ন প্রদেশে ভিন্ন ভিন্ন সময়ব্যবস্থা চালু হওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্য, পরিবহন, বিমান চলাচল এবং আন্তপ্রাদেশিক যোগাযোগেও নতুন করে সময়সূচি সমন্বয়ের প্রয়োজন দেখা দেবে।