৫২তম জন্মদিনে ঐশ্বরিয়ার সেরা সব ফ্যাশন মুহূর্ত

· Prothom Alo

সময় কারও জন্য থেমে থাকে না। বয়সের সঙ্গে বদলায় মানুষের চেহারা, সৌন্দর্য আর উপস্থিতির ধরন। তবে কিছু মানুষের আবেদন যেন সময়ের সঙ্গে আরও পরিণত হয়। বলিউড অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া রাই তেমনই একজন। ক্যারিয়ারের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব ও ফ্যাশন স্টাইল দিয়ে মুগ্ধ করে চলেছেন তিনি। বিশেষ করে কান চলচ্চিত্র উৎসবের লালগালিচায় তাঁর উপস্থিতি ঘিরে প্রতি বছরই তৈরি হয় বাড়তি উন্মাদনা। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এই উৎসবে ভারতের অন্যতম পরিচিত মুখ তিনি। রেড কার্পেটের পোশাক থেকে শুরু করে এয়ারপোর্ট লুক —ঐশ্বরিয়ার প্রতিটি উপস্থিতিই থাকে ভক্ত ও ফ্যাশনপ্রেমীদের আলোচনায়। আজ এই সাবেক বিশ্বসুন্দরীর ৫২তম জন্মদিন। জন্মদিনে ফিরে দেখা যাক তাঁর কিছু আইকনিক ফ্যাশন লুক, যেগুলো আজও ফ্যাশনপ্রেমীদের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে আছে।

Visit michezonews.co.za for more information.

২০০২ সালে ‘দেবদাস’ সিনেমার প্রচারণায় প্রথমবার কান চলচ্চিত্র উৎসবের লালগালিচায় পা রাখেন ঐশ্বরিয়া। নীতা লুল্লার নকশা করা ঝলমলে হলুদ-সোনালি শাড়িতে সেদিন নজর কেড়েছিলেন তিনি। পশ্চিমা পোশাকের ভিড়ে ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় শাড়িতে তাঁর উপস্থিতি ছিল একেবারেই ব্যতিক্রমী। ২০০৪ সালে ঐশ্বরিয়া হাজির হন সাহসী কাট-আউট গাউনে। উদ্বোধনী আয়োজনে তাঁর এই রিভিলিং গাউন লুকটি নিয়ে সে সময় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা হয়। অনেকেই এটিকে তাঁর অন্যতম বিতর্কিত কান লুকগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেন।কান চলচ্চিত্র উৎসবের লালগালিচায় ঐশ্বরিয়ার সবচেয়ে স্মরণীয় লুকগুলোর কথা উঠলে সবার আগে মনে পড়ে ২০১৭ সালের সেই নীল বলগাউনটির কথা। অপূর্ব এই সাজে যেন রূপকথার রাজকন্যা হয়ে ধরা দিয়েছিলেন তিনি। ফ্যাশনপ্রেমীদের কাছে লুকটি পরিচিত হয়ে আছে ঐশ্বরিয়ার ‘সিন্ডারেলা মোমেন্ট’ হিসেবে।২০১৯ সালে তিনি রেড কার্পেটে ছড়িয়ে দেন ঝলমলে রাজকী আভা। পরেছিলেন লেবানিজ ডিজাইনার জ্যঁ-লুই সাবাজির মেটালিক গোল্ড গাউন। একদিকে স্ট্রাকচার্ড হাই-শোল্ডার অ্যাসিমেট্রিক্যাল স্লিভ এবং অন্যদিকে গভীর প্লাঞ্জিং নেকলাইন পুরো লুকটিকে দিয়েছে সাহসী ও আধুনিক আবেদন।ডিজাইনার গৌরব গুপ্তের বার্থ অব ভেনাস গাউনে কান-এ বিশ বছর সেলিব্রেট করেছিলেন ২০২২ সালে এই বিশ্ব সুন্দরী। স্ট্রাকচার্ড এই প্যাস্টেল মভ গাউনটির কথা ভোলা যায় না। যা তৈরি করতে সময় লেগেছিল প্রায় ৩,৫০০ ঘণ্টা।২০২৩ সালের কান চলচ্চিত্র উৎসবে ঝলমলে সবুজ গাউনে নজর কেড়েছিলেন ঐশ্বরিয়া। ভ্যালেন্তিনোর স্প্রিং ২০২৩ কালেকশনের এই পোশাকটি ছিল সবুজ সিকুইনের কাজে সাজানো কেপ গাউন।কান অভিষেকের দুই দশক পূর্তিতে লালাগালিচায় তাঁকে দেখা যায় ডলচে অ্যান্ড গাবানার চোখধাঁধানো কালো ও ফুলেল গাউনে ।২০২২ সালে কান চলচ্চিত্র উৎসবে উজ্জ্বল হট পিঙ্ক প্যান্টস্যুটে নজর কেড়েছিলেন ঐশ্বরিয়া। ভ্যালেন্তিনোর ফল/উইন্টার ২০২২ কালেকশনের এই পোশাকে মাথা থেকে পা পর্যন্ত একই রঙের ব্যবহার লুকে এনেছিল সাহসী ও প্রাণবন্ত আবেদন। গ্ল্যামারাস গাউনের বাইরে এমন উজ্জ্বল পাওয়ার ড্রেসিংয়েও যে তিনি সমান স্বচ্ছন্দ, তা বুঝিয়ে দিয়েছিলেন এই বলিউড তারকা।দুবাইভিত্তিক বিলাসবহুল ডিজাইনার লেবেল সোফি কতুরের অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে তৈরি বিশাল হুড তোলা গাউনে কানের রানি । ২০২৩ সালে এই পোশাকে বেশ সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন ঐশ্বরিয়া। অনেকে তাঁকে ফয়েলে প্যাঁচানো শর্মা রোলের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন মন্তব্যে।২০২৫ সালে কানের রানির দেখা মেলেনি প্রথমেই। প্রথম লুকে ভারতের গ্লোবাল ডিজাইনার মনীষ মালহোত্রার ডিজাইন করা চোখজুড়ানো আইভরি অনসম্বলে একেবারে ট্র্যাডিশনাল লুকে এসেছিলেন তিনি ।বেনারসী শাড়ি, ম্যাচিং ওড়না আর রুবি পাথরের চোখধাঁধানো গয়নার সঙ্গে সিঁদুর নজর কেড়েছে তাঁর।জেদ্দায় রেড সি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের আরেকটি আয়োজনে কালো সিল্কের গাউনে হাজির হয়েছিলেন ঐশ্বরিয়া।শুধু কান চলচ্চিত্রই না, যেকোনো উৎসবের সাজেই ঐশ্বরিয়া এগিয়ে । এখানে সাবেকি আভিজাত্যে ধরা দিয়েছিলেন তিনি। মণীশ মালহোত্রার নকশা করা আইভরি রঙের এমব্রয়ডারি করা আনারকলি পোশাকে তাঁকে দেখাচ্ছে অপূর্ব। পশ্চিমা গাউনের বাইরে এমন ঐতিহ্যবাহী পোশাকেও যে সমান নজরকাড়া হয়ে ওঠা যায়, তা-ই যেন দেখিয়েছেন তিনি।রেড সি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী আয়োজনে ভিনটেজ লুকে হাজির হয়েছিলেন ঐশ্বরিয়া। ডলচে অ্যান্ড গাবানার সাদা এমব্রয়ডারি করা ফিশটেল গাউনের সঙ্গে ছিল কালো লেসের নকশা। এর ওপর পরেছিলেন একই ব্র্যান্ডের অলংকরণ করা কালো ব্লেজার। ঐতিহ্যবাহী পোশাকের পাশাপাশি পশ্চিমা ফ্যাশনেও সমান সাবলীল ঐশ্বরিয়া। মণীশ মালহোত্রার নকশা করা কাস্টম-মেড নীল পাওয়ার স্যুটে ধরা দিয়েছিলেন ভিন্ন এক মেজাজে। ভারতীয় সাজে আবারও অভিনেত্রী। এথনিক লুকে বেছে নিয়েছেন লাল ও সোনালি কাজ করা সালোয়ার কামিজ সেট। সঙ্গে জুটি হয়েছে অ্যান্টিক সোনার গয়না।

Read full story at source