আবার কেন মিরপুরে এমন উইকেট
· Prothom Alo

ম্যাচের আগের দিন মিরপুরের উইকেট দেখে একটু অবাকই হয়েছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক রোস্টন চেজ। তখনো উইকেটে ঘাস আছে। তা দেখে গিয়ে একটা পরিকল্পনাও সাজিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু ম্যাচের দিন সকালে মাঠে এসে দেখেন ঘাস প্রায় নেই।
Visit asg-reflektory.pl for more information.
নিজের পরিকল্পনাও তিনি বদলে ফেলেন সঙ্গে সঙ্গে। পেসার খেমার রোচকে বাইরে রেখে শেষমুহূর্তে একাদশে নেন বাঁহাতি স্পিনার জশুয়া বিশপকে। তিন স্পিনার দুই ইনিংস মিলিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে এনে দিয়েছেন ১৬ উইকেট। অথচ বাংলাদেশের তিন স্পিনার নাঈম হাসান–তাইজুল ইসলাম–মেহেদী হাসান মিরাজ মিলে নিতে পেরেছেন মাত্র ৮ উইকেট।
এ বছর টেস্টে বাংলাদেশ যতটুকু সাফল্য, তার বেশির ভাগ পেসারদের হাত ধরে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সিরিজে সেই পরিকল্পনায় পরিবর্তন এসেছে। মিরপুরের উইকেট স্পিনারদের সাহায্য করেছে, বাংলাদেশের একাদশেও ছিল তিন স্পিনার। অথচ এই সুবিধাটা কি না প্রতিপক্ষই বেশি কাজে লাগিয়েছে!
কী কারণে এমন পরিবর্তন? ম্যাচ–পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক নাজমুল হোসেনের উত্তরটা এ রকম—‘প্রতিপক্ষের শক্তির জায়গাগুলো কী, আমাদের কোন জায়গায় ভালো করার সুযোগ আছে, প্রতিপক্ষের দুর্বলতা কোথায়—এসব বিষয় বিবেচনা করেই কন্ডিশন (উইকেট) তৈরি করা হয়েছে।’
রোস্টন চেজ দ্বিতীয় ইনিংসে নিয়েছেন পাঁচ উইকেটএই সিরিজটা জিতলে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলার দৌড়ে ভালোভাবেই টিকে থাকত বাংলাদেশ। স্পিন–সহায়ক উইকেট বানিয়ে প্রতিপক্ষকে ধসিয়ে দেওয়ার লোভই কি এমন উইকেট বানাতে অনুপ্রাণিত করল? নাজমুল বলছেন ভিন্ন কথা, ‘(টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের) পয়েন্ট টেবিল চিন্তায় আসেনি। প্রতিপক্ষের শক্তি–দুর্বলতা চিন্তা করেই কন্ডিশনটা বানানো হয়েছে।’
ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে ১৭০ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল বাংলাদেশ। এর আগে বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে অলআউট হয়েছে ১৪২ রানে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনারদের বল যেভাবে ঘুরেছে, তাতে আশায় বুক বেঁধেছিল বাংলাদেশও। এই রানই হয়তো যথেষ্ট হয়ে যাবে জয়ের জন্য।
‘মিথ্যা বলব না, হতাশ লাগে’— আম্পায়ারস কল পক্ষে না আসা প্রসঙ্গে নাজমুলঅথচ ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাত্র ২ উইকেট নিতে পেরেছে বাংলাদেশ। সেটিও নিয়েছেন দুই পেসার। নতুন বলে স্পিনারদের হাতে বল তুলে দিলেও অধিনায়কের আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি মিরাজ ও তাইজুল। তাহলে স্পিন উইকেট বানিয়ে কী লাভ হলো? নাজমুলের জবাব, ‘অতীতে স্পিনাররাই আমাদের অনেক ম্যাচ জিতিয়েছেন। তাই তাঁদের ওপর সেই আস্থাটা আগে যেমন ছিল, এখনো আছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এবার সেটা কাজে আসেনি। তবে আমার মনে হয় না, কন্ডিশন তৈরির ক্ষেত্রে আমরা খুব বেশি ভুল করেছি।’
ক্যারিবীয়দের স্পিনে হিমশিম খেয়েছেন তাইজুলরাবোলিংয়ে ব্যর্থতার অন্য একটা ব্যাখ্যাও আছে তাঁর কাছে, ‘আমার কাছে মনে হয় যে লেংথটা আমাদের বোলাররা খুব ভালোভাবে ধরতে পারিনি। লেংথটা একটু এলোমেলো ছিল।’ নাজমুলের কথায় স্পষ্ট, পিচ থেকে যে সুবিধাটা নেওয়ার কথা ছিল, তার স্পিনাররা সেটা পারেননি।
বাংলাদেশের স্পিনাররা না পারলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ যে পেরেছে, সেটি তো ফলেই স্পষ্ট। ম্যাচ–পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত বদলানোর কথা জানিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক চেজ বলেন, ‘উইকেটে ঘাস থাকলেও নিচের অংশটা আমার কাছে শুষ্ক মনে হয়েছিল। তাই ওপরের ঘাস ছেঁটে ফেলার পর উইকেট স্পিনারদের জন্য আরও বেশি সহায়ক হবে বলে ভেবেছিলাম। সে কারণেই আমরা বিশপকে দলে নিয়েছিলাম। আমার মনে হয়, সেও ম্যাচে ভালো প্রভাব রাখতে পেরেছে। তাই আমি বলব, উইকেটের চরিত্র আমরা ঠিকভাবেই বুঝতে পেরেছি।’
চার দিনও লাগল না বাংলাদেশের হারতে