ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা

· Prothom Alo

বিশ্বজুড়ে বাড়ছে নার্স, ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার ও কারিগরি পেশাজীবীদের চাহিদা। অথচ বাংলাদেশ থেকে বিদেশে যাওয়া কর্মীদের বড় অংশই স্বল্পদক্ষ। দক্ষ জনশক্তির এই ঘাটতি দূর করতে পারলে বদলে যেতে পারে কর্মসংস্থান, প্রবাসী আয় ও দেশের অর্থনীতির চিত্র।

Visit michezonews.co.za for more information.

জাপান, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে নার্স, ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার ও কারিগরি কর্মীর চাহিদা বাড়ছে। অথচ বাংলাদেশ থেকে বিদেশে যাওয়া কর্মীদের বড় অংশই স্বল্পদক্ষ। প্রশিক্ষণ ও ভাষাগত দক্ষতা বাড়াতে পারলে খুলতে পারে ভালো বেতনের চাকরির নতুন পথ।

জাপান ২০২৯ সালের মার্চের মধ্যে ১৬ খাতে প্রায় ৮ লাখ ২০ হাজার বিদেশি দক্ষ কর্মী নেবে। আন্তর্জাতিক চাহিদার একটি অংশও বাংলাদেশ পূরণ করতে পারলে দেশের শ্রমবাজারে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

বাংলাদেশের লাখো তরুণ প্রতিবছর পড়াশোনা শেষ করে চাকরির বাজারে প্রবেশ করছেন। তাঁদের অনেকের হাতে শিক্ষাগত সনদ থাকলেও নেই কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতা। অন্যদিকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দক্ষ কর্মীর সংকট ক্রমেই বাড়ছে। কোথাও প্রয়োজন নার্স, কোথাও ইলেকট্রিশিয়ান, আবার কোথাও প্লাম্বার, ওয়েল্ডার কিংবা বয়স্ক মানুষের সেবায় প্রশিক্ষিত কর্মী। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের এই চাহিদা বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করেছে। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগানোর মতো প্রস্তুতি কতটা আছে?

বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য সামনে এসেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রাথমিক হিসাবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের অর্থনীতির আকার প্রায় ৫০১ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ। আগামী আট বছরে অর্থনীতির আকার দ্বিগুণ করতে হলে বিনিয়োগ, উৎপাদন ও রপ্তানি বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রয়োজন বিপুলসংখ্যক দক্ষ কর্মী।

অর্থনীতিবিদ ও শ্রমবাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আলোচনায় তাই গুরুত্ব পাচ্ছে কারিগরি শিক্ষা। কারণ, শুধু শিক্ষিত জনসংখ্যা নয়, উৎপাদনশীল ও দক্ষ জনশক্তিই হতে পারে অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম চালিকা শক্তি।

বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে ১১ লাখ ২৮ হাজার কর্মী বিদেশ গেছেন। তাঁদের ৪৩.৪৭ শতাংশ স্বল্পদক্ষ এবং ৩৪.৪৬ শতাংশ আধা দক্ষ। বিদেশে যাওয়া প্রতি ১০০ কর্মীর মধ্যে ৭৮ জনই স্বল্পদক্ষ বা আধা-দক্ষ।
বেসরকারি চাকরিতে বেতন ‘আলোচনা সাপেক্ষে’, দর-কষাকষি কীভাবে করবেন চাকরিপ্রার্থীরা

বিশ্বজুড়ে দক্ষ কর্মীর চাহিদা—

বিশ্বের উন্নত ও উন্নয়নশীল অনেক দেশ এখন দক্ষ কর্মীর সংকটে পড়েছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ, শিল্প উৎপাদন ও কারিগরি পেশায় এই সংকট প্রকট।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ২০২৫ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বিশ্বে নার্সের ঘাটতি ছিল প্রায় ৫৮ লাখ। ২০৩০ সালে এই ঘাটতি কমে ৪১ লাখে নামতে পারে। তবে আফ্রিকা ও পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে সংকট বেশি থাকবে। অন্যদিকে উচ্চ আয়ের অনেক দেশে বিপুলসংখ্যক নার্স অবসরের কাছাকাছি পৌঁছেছেন।

জাপানেও স্বাস্থ্যসেবা ও বয়স্ক মানুষের পরিচর্যায় কর্মীর চাহিদা বাড়ছে। দেশটির শিল্পোদ্যোগী সংগঠন এনবিসিসির হিসাবে, আগামী বছরগুলোতে চার লাখের বেশি নার্সিং কর্মীর প্রয়োজন হতে পারে। বাংলাদেশি নারীদের জন্যও এই খাতে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে।

শুধু স্বাস্থ্যসেবা নয়, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও জার্মানির মতো দেশেও ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, ওয়েল্ডার, কার্পেন্টার ও শীতাতপনিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তিবিদদের চাহিদা রয়েছে।

জাপান ২০২৯ সালের মার্চের মধ্যে ১৬টি খাতে প্রায় ৮ লাখ ২০ হাজার বিদেশি দক্ষ কর্মী নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল। নির্মাণ, শিল্প উৎপাদন, কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও বয়স্কসেবা এসব খাতের মধ্যে রয়েছে। যদিও পরবর্তী নীতিগত পরিবর্তনে এই লক্ষ্যমাত্রা সংশোধিত হতে পারে।

এই আন্তর্জাতিক চাহিদার একটি অংশও বাংলাদেশ পূরণ করতে পারলে দেশের শ্রমবাজারে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

বিদেশে যাচ্ছেন লাখো কর্মী, দক্ষ কতজন—

বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক মানুষ কাজের সন্ধানে বিদেশে যান। তাঁদের পাঠানো অর্থ দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসী আয় রেকর্ড ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

কিন্তু বিদেশগামী কর্মীদের দক্ষতার চিত্র ভিন্ন বাস্তবতা তুলে ধরে।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১১ লাখ ২৮ হাজার কর্মী বিদেশে গেছেন। তাঁদের মধ্যে ৪৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ স্বল্পদক্ষ এবং ৩৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ আধা দক্ষ। দক্ষ কর্মী ছিলেন মাত্র ১৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। পেশাজীবীর হার ছিল আরও কম, ২ দশমিক ৯৪ শতাংশ।

অর্থাৎ বিদেশে যাওয়া প্রতি ১০০ জন কর্মীর মধ্যে প্রায় ৭৮ জনই স্বল্পদক্ষ বা আধা-দক্ষ।

দক্ষতার এই ঘাটতির প্রভাব পড়ে কর্মীদের আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগে। প্রশিক্ষিত কর্মীরা সাধারণত তুলনামূলক ভালো বেতনের চাকরির জন্য প্রতিযোগিতা করতে পারেন। অন্যদিকে স্বল্পদক্ষ কর্মীদের কম মজুরি, সীমিত পেশাগত উন্নতি এবং কর্মক্ষেত্রে বেশি ঝুঁকির মুখোমুখি হতে হয়।

ফলে বিদেশে কর্মী পাঠানোর সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি তাঁদের দক্ষতা বৃদ্ধিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সম্ভাবনা আছে, প্রস্তুতিতে ঘাটতি—

বাংলাদেশের জন্য জাপানের শ্রমবাজার বড় সম্ভাবনা তৈরি করেছে। দেশটিতে আগামী কয়েক বছরে বিপুলসংখ্যক দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন হতে পারে। তবে সম্ভাবনা ও বাস্তব প্রস্তুতির মধ্যে ব্যবধানও রয়েছে।

এনবিসিসির সঙ্গে সমঝোতা স্মারকে পাঁচ বছরে এক লাখ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্য থাকলেও ২০২৬, ২০২৭ ও ২০২৮ সালে নিয়োগের পরিকল্পনা যথাক্রমে ২ হাজার, ৬ হাজার ও ১৮ হাজার। অন্যদিকে সরকারের নিজস্ব লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে জাপানে ৫০ হাজার কর্মী পাঠানো।

এই পরিসংখ্যান দেখায়, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে সুযোগ থাকলেই তা কাজে লাগানো যায় না। প্রয়োজন নির্দিষ্ট পেশায় প্রশিক্ষণ, ভাষাগত দক্ষতা, আন্তর্জাতিক মানের সনদ এবং বিদেশি নিয়োগদাতাদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ।

জাপানে কাজ করতে চাইলে শুধু কারিগরি দক্ষতা যথেষ্ট নয়। অনেক পেশায় জাপানি ভাষা ও নির্দিষ্ট দক্ষতা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। জার্মানিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও ভাষা ও পেশাগত যোগ্যতার স্বীকৃতি গুরুত্বপূর্ণ।

ফলে বিদেশের বাজার মাথায় রেখে প্রশিক্ষণব্যবস্থা সাজানোর প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে।

দেশের শিল্পেও দক্ষ কর্মীর সংকট—

দক্ষ জনশক্তির অভাব শুধু বিদেশের শ্রমবাজারে নয়, বাংলাদেশের শিল্প খাতেও রয়েছে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ২০১৬ সালের একটি গবেষণায় দেখা যায়, দেশের প্রায় ১৩ শতাংশ পোশাক কারখানায় বিদেশি বিশেষজ্ঞ কর্মরত ছিলেন। তাঁদের বেতন-ভাতা বাবদ বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশের বাইরে যাওয়ার বিষয়টিও গবেষণায় উঠে আসে।

যদিও বিদেশি কর্মীদের পেছনে মোট ব্যয়ের নির্ভরযোগ্য হালনাগাদ সরকারি হিসাব নেই, গবেষণাটি দেশের শিল্প খাতে বিশেষায়িত দক্ষতার ঘাটতির একটি চিত্র তুলে ধরে।

পোশাকশিল্পে উন্নত যন্ত্রপাতি পরিচালনা, উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তিনির্ভর কাজে দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন। একই চাহিদা রয়েছে অন্যান্য শিল্পেও।

দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকে এসব কাজে উপযুক্ত জনবল তৈরি করা গেলে বিদেশি বিশেষজ্ঞের ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি স্থানীয় তরুণদের জন্য ভালো কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

প্রাথমিকে শিক্ষকতায় প্রকৌশলী-চিকিৎসক–এমফিল-পিএইচডিসহ ৩০ ধরনের ডিগ্রিধারীরা

সনদের চেয়ে দক্ষতায় গুরুত্ব—

পেশাগত ক্যারিয়ার কাউন্সেলর মো. হাসান ইমাম খান প্রযুক্তিকে দেখেন ব্যবহারিক জ্ঞানের প্রয়োগ হিসেবে। তাঁর মতে, সঠিক সময়ে, সঠিক উদ্দেশ্যে ও সঠিক পদ্ধতির প্রয়োগই প্রযুক্তি।

বিষয়টি বোঝাতে তিনি কৃষিকাজ ও রান্নার উদাহরণ দিয়েছেন। একজন কৃষক বীজ ভিজিয়ে বপন করেন কিংবা একজন গৃহিণী সময় বাঁচাতে প্রেসার কুকার ব্যবহার করেন। উভয় ক্ষেত্রেই তাঁরা বাস্তব সমস্যার সমাধানে প্রযুক্তিগত জ্ঞান প্রয়োগ করছেন।

মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রেও একই যুক্তি প্রযোজ্য। শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান নয়, সেই জ্ঞান বাস্তবে কাজে লাগানোর সক্ষমতা তৈরি করা জরুরি।

বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ শিক্ষাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষাকে অনেক ক্ষেত্রেই কম মর্যাদার বিকল্প হিসেবে দেখা হয়। ফলে বহু তরুণ উচ্চশিক্ষার সনদ অর্জন করলেও শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা অর্জন করতে পারছেন না।

এই সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনও জরুরি। একজন দক্ষ ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার বা প্রযুক্তিবিদ দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন। তাঁদের কাজের সামাজিক ও অর্থনৈতিক মূল্যকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন।

কারিগরি শিক্ষায় পরিবর্তনের উদ্যোগ—

সরকারের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ধাপে ধাপে কারিগরি শিক্ষা চালুর ঘোষণা এসেছে। কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৮ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা। পাশাপাশি পাঁচ বছরের মধ্যে শিক্ষা খাতে ব্যয় জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

তবে বাজেট বরাদ্দ বাড়ানোই যথেষ্ট নয়। প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে আধুনিক যন্ত্রপাতি, দক্ষ শিক্ষক, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযোগ এবং বাস্তব কাজ শেখার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

জাপানের জন্য বয়স্কসেবা, নির্মাণ ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ; ইউরোপের জন্য নার্সিং ও কারিগরি পেশা; আর মধ্যপ্রাচ্যের জন্য বিদ্যমান কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা সাজানো যেতে পারে।

একই সঙ্গে প্রশিক্ষণের সঙ্গে বিদেশি ভাষা শিক্ষা যুক্ত করা জরুরি। আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য সনদ নিশ্চিত করতে পারলে বাংলাদেশের কর্মীদের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়বে।

কারিগরি শিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৫ সালে বিদেশগামী বাংলাদেশি কর্মীদের মাত্র ৫ দশমিক ৫ শতাংশ ছিলেন নারী। অথচ স্বাস্থ্যসেবা ও বয়স্ক মানুষের পরিচর্যার মতো পেশায় নারীদের কর্মসংস্থানের উল্লেখযোগ্য সুযোগ রয়েছে।

দক্ষতার সঙ্গে বদলাবে ভবিষ্যৎ?—

বাংলাদেশের সামনে এখন দুটি বাস্তবতা। একদিকে বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠী, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মীর ক্রমবর্ধমান চাহিদা। এই দুইয়ের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করা গেলে অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে।

তবে শুধু প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়িয়ে সেই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। প্রশিক্ষণ শেষে কতজন কাজ পাচ্ছেন, তাঁদের আয় কতটা বাড়ছে এবং অর্জিত দক্ষতা আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে কতটা গ্রহণযোগ্য হচ্ছে, সেসব বিষয়ও মূল্যায়ন করতে হবে।

২০২৫ সালে বিদেশগামী কর্মীদের মধ্যে দক্ষ ও পেশাজীবীর সম্মিলিত অংশ ছিল প্রায় ২২ শতাংশ। ২০৩০ সালের মধ্যে এই হার অন্তত ৪০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা যেতে পারে।

এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে বিনিয়োগ, রপ্তানি, অবকাঠামো ও নীতিগত সংস্কারের পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির বিকল্প নেই।

বিশ্ব যখন দক্ষ কর্মীর সন্ধান করছে, তখন বাংলাদেশের সামনে সুযোগ রয়েছে নিজের তরুণ জনগোষ্ঠীকে সেই চাহিদার উপযোগী করে গড়ে তোলার। যে তরুণ আজ সনদ নিয়ে চাকরির অপেক্ষায় আছেন, সঠিক প্রশিক্ষণ পেলে তিনিই হয়ে উঠতে পারেন একজন দক্ষ প্রযুক্তিবিদ, নার্স কিংবা শিল্পকর্মী।

সেই দক্ষ হাতই বদলে দিতে পারে একটি পরিবারের জীবন, দেশের শ্রমবাজার এবং দীর্ঘ মেয়াদে বাংলাদেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ এবং দক্ষ জাতি হিসেবে বিশ্ব দরবারে আমাদের গর্বিত পরিচয়।

লেখক: মো. রিদওয়ানুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর (ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট) অধ্যাপক ও মোছাব্বের হোসেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মন্টানায় পরিবেশবিজ্ঞান ও ন্যাচারাল রিসোর্স জার্নালিজমে অধ্যয়নরত

Read full story at source