স্টেশন মসজিদের অজুখানা সংস্কার করল বন্ধুসভা, স্বস্তিতে মুসল্লিরা

· Prothom Alo

অজুখানার মেঝে, নালা, দেয়াল ও গ্রিলে দলা দলা শ্যাওলা। ময়লা মাটিতে বন্ধ হয়ে গেছে নালার মুখ। আটকে থাকা পানিতে বাসা বেঁধেছে মশা, মাছি ও কেঁচো। দুর্গন্ধে অজু করার সময় বসে থাকায় দায়।

এক দিন আগেও এই চিত্র ছিল জনাকীর্ণ কাঁচাবাজার–সংলগ্ন নাটোর রেলস্টেশন জামে মসজিদের অজুখানায়। বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই মসজিদে নামাজ আদায়ের জন্য আসেন ট্রেনের জন্য অপেক্ষমাণ যাত্রী, রেলকর্মী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। দশের প্রতিষ্ঠান হওয়ায় মসজিদ সংস্কারে কারোরই কোনো গরজ লক্ষ করা যায়নি।

Visit raccoongame.org for more information.

নাটোর বন্ধুসভার একটি ভালো কাজ।

বিষয়টি নজরে আসে নাটোর বন্ধুসভার সদস্যদের। প্রথম আলোর ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘একটি ভালো কাজ’–এর অংশ হিসেবে বন্ধুসভার সদস্যরা অজুখানাটি সংস্কারের উদ্যোগ নেন। ২৫ অক্টোবর সকাল থেকে সন্ধ্যা অবদি তাঁরা অজুখানা পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন করে সুন্দর মনোরম পরিবেশ ফিরিয়ে এনেছেন। এ কাজের জন্য মুসল্লিরাও কৃতজ্ঞতা জানান।

মসজিদের মুসল্লি আকবর আলী জানান, মসজিদের পাশের কাঁচা বাজারে তিনি তরিতরকারি বেচাকেনা করেন। সেই সুবাদে ১০ বছর ধরে স্টেশন মসজিদের অজুখানায় অজু করে নামাজ আদায় করেন। তিনি বলেন, ‘অজুখানা টাইলসের তৈরি। কিন্তু ময়লা মাটি ও শ্যাওলায় টাইলস ঢেকে গিয়েছিল। অজুর পানি বের হতে পারত না। পানি জমে দুর্গন্ধ ছড়াত। পানিতে মশা ভনভন করত। মশার অত্যাচারে মসজিদের পাশাপাশি আশপাশের দোকানে বসে থাকাও মুশকিল ছিল। বন্ধুসভার ছেলেরা সমস্যার সমাধান করি দিয়েছে। আল্লাহ ওদের ভালো করুক।’

নাটোর বন্ধুসভার একটি ভালো কাজ।

স্টেশন বাজারের অনিমেশ সাহা বলেন, ‘মসজিদের অজুখানা মশার প্রজননকেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। সেখানকার মশা তো আমাদেরও কামড়ায়। অজুখানা সংস্কারে এখন মশার হাত থেকে বাঁচতে পারব।’

মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও নাটোর স্টেশনের মাস্টার আসাদ হোসেন বলেন, ‘মসজিদে ভ্রাম্যমাণ মুসল্লির সংখ্যা বেশি। এ কারণে মসজিদের পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতার জন্য সময় দিতে পারে না। এ অবস্থায় বন্ধুসভার ছেলেরা অজুখানা পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন করে খুব ভালো করেছে। মুসল্লিরা তাঁদের জন্য দোয়া করবেন।’

Read full story at source