কবে আসবে ভিকির সিনেমা, নিশো–মেহজাবীন কি থাকবেন
· Prothom Alo

৫ হাজার ৮০০ প্রতিক্রিয়া, ৪২৮ মন্তব্য। ৫ অক্টোবর দুই অভিনয়শিল্পী আফরান নিশো আর মেহজাবীন চৌধুরীর সঙ্গে ছবি পোস্ট করেছিলেন প্রযোজক শাহরিয়ার শাকিল। সেই ছবি নিয়েই এত আলোচনা। কারণও আছে। বছরখানেক ধরেই গুঞ্জন, শাহরিয়ার শাকিলের প্রযোজনায় ভিকি জাহেদের সিনেমায় প্রথমবার বড় পর্দায় জুটি হবেন নিশো ও মেহজাবীন। সিনেমার নাম হবে ‘পুলসিরাত’, এমন গুঞ্জনও শোনা গেছে। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ কিছু বলেননি। অনেকে মনে করেছেন, প্রযোজকের পোস্ট করা ছবিটি সেই জার্নিরই শুরু; মন্তব্যের ঘরেও এমন কথা বলেছেন অনেক ভক্ত। তবে যাঁদের নিয়ে এত জল্পনা, তাঁরা অবশ্য স্পিকটি নট।
Visit biznow.biz for more information.
ঘটনা জানতে গত মঙ্গলবার দুপুরে নির্মাতা ভিকি জাহেদকেই ফোন করা হলো। রসিকতায় তিনি এক কাঠি সরেস। ফোন ধরেই বললেন, ‘ভাই, ছবিটিতে তো আমি নেই...আমি কীভাবে বলব।’ বলেই হাসতে শুরু করলেন।
‘চিরকাল আজ’, ‘পুনর্জন্ম’ থেকে ‘রেডরাম’—ছোট পর্দায় ভিকির অনেক প্রশংসিত কাজে ছিলেন নিশো–মেহজাবীন। বড় পর্দাতেও কি ফিরছেন এই ত্রয়ী? এবার আর রসিকতা নয়, সিরিয়াস হয়েই নির্মাতা জানালেন, চুক্তির বাধ্যবাধকতার কারণে তাঁর পক্ষে অনেক কিছুই আনুষ্ঠানিকভাবে বলা সম্ভব নয়।
কিছুদিন আগেই কলকাতায় আরেকটি সিনেমার শুটিং করেছেন ভিকি। শহীদুজ্জামান সেলিম, চঞ্চল চৌধুরী, ইন্তেখাব দিনার ছাড়াও সিনেমাটিতে আছেন তমা মির্জা। সেই সিনেমা নিয়েও কিছু বলতে চাইলেন না নির্মাতা।
আবার পুরস্কার
৯ অক্টোবর ব্লেন্ডারস চয়েস-দ্য ডেইলি স্টার ওটিটি অ্যান্ড ডিজিটাল কনটেন্ট অ্যাওয়ার্ডসের পঞ্চম আসরে জনপ্রিয় বিভাগে ওয়েব সিরিজ ‘আকা’র জন্য সেরা নির্মাতার পুরস্কার পেয়েছেন ভিকি। ‘রেডরাম’ ও ‘চক্র’র জন্য আগেও দুবার এই পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। জনপ্রিয় বিভাগে দর্শকের ভোটে তিনবার সেরা নির্মাতা হওয়া ভিকির জন্য বিশেষ। ‘বুঝতে পারছি, দর্শকের আসলে আমার প্রতি অনেক এক্সপেক্টেশন। সে জন্যই এত ভোট পেয়েছি। দর্শকের ভোটে তিনবার সেরা নির্মাতা হওয়া খুবই আনন্দের। অনেক দিন কাজ করতে করতে হয়তো অবচেতন মনেই একটা রিল্যাক্স চলে আসে, কিন্তু এই পুরস্কার আবারও দর্শকের প্রত্যাশার কথা মনে করিয়ে দিয়েছে,’ বলছিলেন ভিকি।
আরেকটা কারণে এবারের ব্লেন্ডারস চয়েস-দ্য ডেইলি স্টার ওটিটি অ্যান্ড ডিজিটাল কনটেন্ট অ্যাওয়ার্ডস নির্মাতার জন্য বিশেষ। কারণ, এখানে সেরা অভিনেতা–অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন তাঁর দুই প্রিয় পাত্র–পাত্রী। ভিকির সিরিজ আকার জন্য সেরা অভিনেতা হয়েছেন আফরান নিশো আর ভিকিরই ওয়েব ফিল্ম ‘নীলসুখ’–এর জন্য সেরা হয়েছেন মেহজাবীন চৌধুরী। ‘সত্যি সত্যি রাতটা আমার জন্য স্পেশাল ছিল,’ বলছিলেন ভিকি। এই নির্মাতা আরও খুশি কারণ তিনবার তিনি পুরস্কার পেয়েছেন তিন প্ল্যাটফর্মের জন্য কনটেন্ট বানিয়ে—‘রেডরাম’ (চরকি), ‘চক্র ’(আইস্ক্রিন), ‘আকা’ (হইচই)।
পুরস্কার হাতে ভিকি জাহেদ। নির্মাতার সৌজন্যেযে গল্প ঘুমাতে দেয় না
বছরজুড়েই সিনেমা নিয়ে আলোচনায় ছিলেন ভিকি। কখনো খলনায়ক, কখনো–বা নিশো–মেহজাবীনকে নিয়ে নতুন সিনেমার গুঞ্জন। কিন্তু সিনেমা তো দূর, সিনেমার আনুষ্ঠানিক ঘোষণাও আসেনি। তবে হুট করেই এসেছে টিভি ফিকশন। এই যেমন সপ্তাহ দুয়েক আগে ক্যাপিটাল ড্রামা ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তির পর বিষপাখি ফিকশনটিও প্রশংসিত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিকি সেভাবে সক্রিয় নন, সিনেমা নিয়ে বছরজুড়ে গুঞ্জন রটলেও ছিলেন চুপ। নিজের কাজের ধরনের মতো ব্যক্তিজীবনেও কি রহস্যময় থাকতে পছন্দ করেন? প্রশ্ন শুনে প্রথমে হাসলেন। পরে হাসতে হাসতেই বললেন, ‘যেহেতু রহস্যধর্মী কনটেন্ট বানাই, ব্যক্তি হিসেবেও তো রহস্যময় হতে হবে। না হলে তো দর্শকের আগ্রহ থাকবে না। যেখানে কোনো রহস্য নেই, সেখানে মানুষের আগ্রহও নেই।’
আলাপে আলাপে জানালেন, সিনেমা বানাবেন বলে নাটকের কাজ করবেন না, এমন কোনো পরিকল্পনা তাঁর নেই। ভিকি বললেন, ‘দর্শকের যেহেতু আমার কাজ নিয়ে আগ্রহ আছে—এটা একটা বাড়তি চাপ। তবে আসলে কোন প্ল্যাটফর্মের জন্য কী করব, সেটা নিয়ে পরিকল্পনা থাকে না। যে গল্প আমাকে তাড়িয়ে বেড়ায়, ঘুমাতে দেয় না; সেটাই আগে করি। প্রায় সব টিভি, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, বড় সব প্রযোজকের সঙ্গেই কাজ করছি। মাধ্যম আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়, যে গল্প আমার জীবনযাপন থামিয়ে দেয়; সেটা আগে বলতে চাই।’
নির্মাতা আরও জানালেন, তিনি আগের চেয়ে কাজ কমিয়ে দিয়েছেন। চেষ্টা করছেন যেটা করবেন, সেটা আরেকটু গুছিয়ে, ভালোভাবে প্রি–প্রোডাকশন করে নিয়ে আসতে।
পুরস্কার হাতে আফরান নিশো, ভিকি জাহেদ ও মেহজাবীন চৌধুরী। বড় পর্দাতেও কী দেখা যাবে এই ত্রয়ীকে? ছবি : ভিকির সৌজন্যে ভিকির কাজ কেন জনপ্রিয়তা পায়সত্য ঘটনায় শঙ্কা
দুনিয়াজুড়ে এখন সত্য ঘটনা নিয়ে সিনেমা–সিরিজ বা তথ্যচিত্র নির্মাণের জয়জয়কার। এখন নেটফ্লিক্সের বৈশ্বিক তালিকার শীর্ষে আছে সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত সিনেমা ‘ইউনাবোম্বার’। ভিকি নিজেও এই ঘরানায় কাজ করেছেন। তবে এখন তিনি এ ঘরানা নিয়ে সেভাবে কাজ করেন না, দেশের অন্য নির্মাতাদেরও খুব একটা আগ্রহী দেখা যায় না। নির্মাতা জানালেন, নানা ধরনের আইনি জটিলতায় দেশি নির্মাতারা এ ঘরানায় কাজ করতে চান না। তাঁর ভাষ্যে, ‘বাংলাদেশের দর্শকেরাও এ ধরনের কাজ দেখতে আগ্রহী। কিন্তু কখন যে কোন জায়গা থেকে বাধা আসে...কেউ ঝুঁকি নিতে চায় না। আমি জানি, এরশাদ শিকদারের গল্প নিয়ে একটি প্ল্যাটফর্ম কনটেন্টের কাজ অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছিল, কিন্তু সেটা হয়নি।’
শুরুর সেই প্রশ্ন দিয়েই আলাপ শেষ করতে চাই, সিনেমা কবে আসবে? উত্তরে আগের মতোই রক্ষণাত্মক খেললেও এটা জানালেন, ২০২৭ সালেই দর্শক বড় পর্দায় তাঁর সিনেমা দেখতে পারবেন।