এমপির নেতৃত্বে পদ্মায় ইলিশ রক্ষার অভিযানে জেলেদের হামলা, আটক ৪১

· Prothom Alo

মা ইলিশ রক্ষায় শরীয়তপুরের জাজিরায় পদ্মা নদীতে স্থানীয় সংসদ সদস্যের (এমপি) নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে হামলা চালিয়েছেন জেলেরা। এ সময় জেলেদের ইটপাটকেলের আঘাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্তত পাঁচজন সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ৪১ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে।

Visit turconews.click for more information.

আজ সোমবার ভোরে জাজিরা উপজেলার পালেরচর ইউনিয়নের পদ্মা নদীর কলিকাল চরে এ ঘটনা ঘটে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন শরীয়তপুর-১ (সদর ও জাজিরা) আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ। ঘটনার সময় তিনি মৎস্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটু দূরে স্পিডবোটে অবস্থান করছিলেন।

শরীয়তপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব প্রথম আলোকে বলেন, ‘মা ইলিশ রক্ষা অভিযানে গেলে জেলেরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মৎস্য বিভাগের লোকজনের ওপর হামলা চালায়। আমরা আজকের অভিযান থেকে ৪১ জনকে আটক করেছি। প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে।’

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহমেদ। প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে আছেন। তাঁরা ফিরে এলে প্রকৃত ঘটনা বিস্তারিত জানা যাবে।

শরীয়তপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৮ অক্টোবর থেকে মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান চালাচ্ছে মৎস্য বিভাগ। এ সময় ইলিশ শিকার, বিপণন, পরিবহন ও মজুতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আছে, যা চলবে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত। তবে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পদ্মা নদীর জাজিরা, নড়িয়া ও ভেদরগঞ্জ অংশের বিভিন্ন স্থানে মা ইলিশ শিকার করা হচ্ছে।

নদীর পাড় থেকে অভিযানকারীদের ইটপাটকেল ছোড়া হয়

২৫টি স্থানে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ

জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও জেলার নদীতীরবর্তী অন্তত ২৫টি স্থানে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। ইলিশ কিনতে দিন-রাত ক্রেতাদের ভিড়ও হচ্ছে। মৎস্য বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও কোস্টগার্ড অভিযান চালিয়েও ইলিশ শিকার পুরোপুরি বন্ধ করতে পারছে না।

এ পরিস্থিতিতে ইলিশ শিকার বন্ধে নিজে উপস্থিত থেকে অভিযান চালানোর উদ্যোগ নেন সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ। আজ ভোরে তাঁর নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মৎস্য বিভাগের সদস্যরা জাজিরার বিলাসপুর ইউনিয়নের শফি কাজীর মোড় এলাকা থেকে পদ্মা নদীতে অভিযান শুরু করেন। শফি কাজীর মোড় থেকে পালেরচর পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টার অভিযানে ৪১ জন জেলেকে আটক করা হয়। এ সময় ইলিশ শিকারে ব্যবহৃত দুই লাখ মিটার জাল জব্দ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অভিযানে যাওয়া সংশ্লিষ্টদের সূত্রে জানা যায়, তাঁরা পালেরচর ইউনিয়নের পদ্মা নদীর উত্তর প্রান্তের কলিকাল চরে পৌঁছালে হামলার ঘটনা ঘটে। শতাধিক জেলে সংঘবদ্ধ হয়ে ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে অভিযান দলের ওপর হামলা চালান এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্তত পাঁচজন সদস্য আহত হন।

পরে পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা হামলাকারী জেলেদের ধাওয়া দেন। কয়েকজন জেলেকে নদীর চরের মধ্যে ঘিরে রাখা হয়।

সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘মৎস্য বিভাগের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এই মুহূর্তে নদীতে যাঁরা মা ইলিশ শিকার করছেন তাঁরা কেউ নিবন্ধিত জেলে নন এমন তথ্য প্রমাণ আমাদের কাছে এসেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমি নিজে নেতৃত্ব দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে পদ্মা নদীতে অভিযানে নেমেছি। মা ইলিশ রক্ষায় এমন অভিযান আরও চালানো হবে।’

এর আগে গতকাল রোববার মা ইলিশ রক্ষায় সরাসরি নদীতে নেমে অভিযান চালান চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনের বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ। বিকেলে স্পিডবোট নিয়ে মেঘনা নদীর বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক টহল দেন তিনি। এ সময় তিনি নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও নৌকা জব্দ করেন এবং মাছ শিকারের প্রস্তুতি নেওয়া জেলেদের নদীতে না নামার কঠোর বার্তা দেন।

জেলেদের দেওয়া হয়েছে খাদ্যসহায়তা

শরীয়তপুর জেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৩৩ হাজার। তাঁদের মধ্যে ইলিশ শিকার ও বিক্রির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন ২৮ হাজার ৯২৯ জন। ৮ অক্টোবর থেকে টানা ২২ দিন নদীতে মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা থাকায় এসব জেলেকে খাদ্যসহায়তা হিসেবে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে শরীয়তপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব প্রথম আলোকে বলেন, এরপরও শরীয়তপুরের কিছু স্থানে অসাধু জেলেরা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার করছেন। অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হচ্ছে। গত ১০ দিনে ২০টি অভিযান চালিয়ে ৭২ জন জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

Read full story at source