নেত্রকোনায় সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান হত্যায় জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার ১

· Prothom Alo

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির হত্যায় জড়িত সন্দেহে সাজিবুল ইসলাম ওরফে অপূর্ব (৩০) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার রাত একটার দিকে দুর্গাপুর পৌরসভার মধ্যবাজার এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার সাজিবুল দুর্গাপুর পৌরসভার উকিলপাড়া এলাকার শমসের আলীর ছেলে। এর আগে এক পুলিশ উপপরিদর্শককে (এসআই) হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন সাজিবুল। ওই মামলায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছিলেন তিনি।

Visit rouesnews.click for more information.

এ ব্যাপারে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমদ মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, এসআই শফিকুল ইসলাম হত্যা মামলায় গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর জামিন পেয়ে কারাগার থেকে বের হন সাজিবুল। সাংবাদিক আলিফ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারের পর তিনি হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেননি। তবে কারা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত, সে বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তদন্তের স্বার্থে এখনই সেসব তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না। তাঁকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ওসি আরও বলেন, সাংবাদিক আলিফ হত্যাকাণ্ডে কুখ্যাত এক আসামি জড়িত রয়েছেন বলে তাঁদের ধারণা। এ ঘটনায় জড়িত কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।

‘তারা অস্ত্র নিয়ে বসে আছে, আমি গেলে গুলি করবে’—আগেই বলেছিলেন সাংবাদিক আলিফ

গত বৃহস্পতিবার রাতে দুর্গাপুরে শ্বশুরবাড়ির কাছের একটি চায়ের দোকান থেকে বের হওয়ার পর গুলিতে নিহত হন সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁকে ছয়টি গুলি করা হয়েছিল। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা সাত থেকে আটজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন।

সীমান্তে চোরাচালান, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ে লেখালেখি করতেন লুৎফুজ্জামান। গত বছরের ৩০ নভেম্বর নেত্রকোনার তৎকালীন পুলিশ সুপারের সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভায় নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। ওই সভার একটি ভিডিও গতকাল শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে আলিফকে বলতে শোনা যায়, অপরাধীদের বিরুদ্ধে লেখালেখি করায় তিনি হুমকির মুখে রয়েছেন। অস্ত্র নিয়ে তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করা হচ্ছে—এমন তথ্য পাওয়ার কথাও পুলিশ সুপারকে জানিয়েছিলেন তিনি। একপর্যায়ে আলিফ বলেন, ‘আমি সবাইকে সাক্ষী রেখে বলছি, এই আসামিদের যদি না ধরা হয়, তাহলে হয় তাদের থেকে আমাকে বড় সন্ত্রাসী হতে হবে, না হয় দেশ ছেড়ে চলে যেতে হবে।’

দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমদ জানিয়েছেন, আলিফ হত্যার কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। তাঁর ওপর আগের হামলার সঙ্গে বর্তমান হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

‘আমার স্বামী আমার কাছে সুপারম্যান ছিলেন, সুপারহিরো হয়ে থাকবেন’

Read full story at source