বাংলাদেশ হারিয়ে ফেলছে আবাসস্থল বিশেষায়িত পাখিদের
· Prothom Alo
আমি এখন তিলোত্তমা নগরী ঢাকার জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে, উদ্দেশ্য পাখি ও জীববৈচিত্র্য পর্যবেক্ষণ। ২০১৬ সাল থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে, এ পর্যন্ত ৬২টি জেলায় পাখি দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। পাখিদের সন্ধানে, পর্যবেক্ষণে ও গবেষণায় ছুটে বেড়িয়েছি তেঁতুলিয়া থেকে সেন্ট মার্টিন, জাফলং থেকে সুন্দরবনের গহিনে, বাংলার প্রত্যন্ত এলাকার পথে প্রান্তরে, জলে-জঙ্গলে, সবুজ বনে, কখনো সাগর মোহনার নীল জলে, কোনো এক নাম না জানা চরে। গত এক দশকে বাংলাদেশে পাখিদের জীববৈচিত্র্যে দেখেছি এক লক্ষণীয় পরিবর্তন। তবে পরিবর্তনটা কখনোই আশাজাগানিয়া নয়। বিশেষ করে তা আশাহত হওয়ার মতোই। কমছে পাখিরা, বিশেষ করে আবাসস্থল বিশেষায়িত পাখিরা।
Visit fish-roadgame.online for more information.
আবাসস্থল বিশেষায়িত পাখি হলো সেই সব পাখি, যারা খাদ্য, প্রজনন, আশ্রয় ও বেঁচে থাকার জন্য নির্দিষ্ট ধরনের আবাসস্থলের ওপর বিশেষভাবে নির্ভরশীল। এদের অনেক প্রজাতি নির্দিষ্ট পরিবেশগত বৈশিষ্ট্য বা বিশেষ ধরনের উদ্ভিদসমৃদ্ধ আবাসস্থলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে অভিযোজিত। যেমন জলাভূমিগুলোকে কেন্দ্র করে বাস করে বিভিন্ন বুনো হাঁস, ডুবুরি, কোড়া, কালেম, ডাহুক, বগা, বগলা, খঞ্জন ও সৈকত পাখি। এদের টিকে থাকার জন্য জলাশয়কেন্দ্রিক পরিবেশ অপরিহার্য।
গত এক দশকে বাংলাদেশে পাখিদের জীববৈচিত্র্যে দেখেছি এক লক্ষণীয় পরিবর্তনআবার সাহেলি, শ্বেতাক্ষী, হরবোলা, বনসুন্দরী প্রভৃতি পাখিদের জন্য বনের পরিবেশ অপরিহার্য। প্রিনিয়া, ঘাসপাখি, ভরত ও চটকের জন্য অপরিহার্য ঘাসভূমি। বাংলাদেশে যে ৭৩০-এর বেশি প্রজাতির পাখি আছে, সবার আবাসস্থল এক রকম নয়, খাদ্যাভ্যাস এক নয় এবং জীবনধারণ-প্রক্রিয়া একেবারে আলাদা। আমাদের এই বাংলাদেশ অবস্থানগতভাবেই এক বৈচিত্র্যময় ভূপ্রাকৃতিক সম্পদের ঐশ্বর্য পেয়েছে। ফলে এ দেশ হয়েছে ২২টি জীব পরিবেশগত অঞ্চলের সম্মেলন, যা প্রতিবেশ ব্যবস্থাপনায় যোগ করেছে এক অপরূপ বৈচিত্র্যময়তা।
কিছু পাখি কেন মানুষের মতো কথা বলেআবাসস্থল বিশেষায়িত পাখি হলো সেই সব পাখি, যারা খাদ্য, প্রজনন, আশ্রয় ও বেঁচে থাকার জন্য নির্দিষ্ট ধরনের আবাসস্থলের ওপর বিশেষভাবে নির্ভরশীল।
বাংলাদেশের ৭৩০ প্রজাতির পাখিকে শুধু প্রজাতির সংখ্যা দিয়ে বিবেচনা করলে তাদের আবাসস্থলগত বৈচিত্র্য পুরোপুরি বোঝা যায় না। কোনো প্রজাতি বিস্তৃত পরিবেশে টিকে থাকতে পারে, আবার কোনো প্রজাতি নির্দিষ্ট আবাসস্থলের ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল। আবাসস্থল বিশেষায়িত পাখিদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আবাসস্থল হারিয়ে যাওয়া বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। অন্যদিকে আবাসস্থল সাধারণ পাখি বা হ্যাবিটেট জেনারেলাইজড পাখি তুলনামূলকভাবে বিভিন্ন পরিবেশে টিকে থাকতে পারে।
তাই পাখি সংরক্ষণে প্রতিটি আবাসস্থলের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও সেগুলোর ওপর নির্ভরশীল জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা জরুরি। বাংলাদেশ ক্রমশ হারিয়ে ফেলছে আবাসস্থল বিশেষায়িত পাখিদের। কারণ, প্রাকৃতিক পরিবেশ ও পাখিদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল ক্রমশ ধ্বংস হয়ে গড়ে উঠছে মানবসৃষ্ট স্থাপনা। প্রাকৃতিক বন উজাড় হয়ে গড়ে উঠছে আগ্রাসী একপ্রজাতীয় বৃক্ষকেন্দ্রিক বন। প্রাকৃতিক আবাসস্থলের অর্থ শুধু গাছ বা বৃক্ষ নয়, এর সঙ্গে আছে তরু, লতা, গুল্ম, ঘাসভূমি, নলখাগড়া ও জলাভূমি।
পাখি টানা কতদিন আকাশে উড়তে পারেবাংলাদেশ ক্রমশ হারিয়ে ফেলছে আবাসস্থল বিশেষায়িত পাখিদের। কারণ, প্রাকৃতিক পরিবেশ ও পাখিদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল ক্রমশ ধ্বংস হয়ে গড়ে উঠছে মানবসৃষ্ট স্থাপনা।
কমছে গ্রামীণ বন ও বুনো পরিবেশ
আজ থেকে ১০-১৫ বছর আগেও গ্রামীণ বনগুলো ছিল বাংলাদেশের বুনো পাখিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল। কী ছিল না তখন এই বনে! দোয়েল, ঘুঘু থেকে বড় শিকারি পাখি। বাংলাদেশের গ্রামীণ প্রাকৃতিক পরিবেশে দ্রুত পরিবর্তনের ফলে পাখিদের খাদ্য, আশ্রয় ও প্রজননের গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল সংকুচিত হচ্ছে। একসময় গ্রামের ঝোপঝাড়, বাঁশঝাড়, পতিত জমি, প্রাকৃতিক তৃণভূমি, পুকুরপাড়, খালপাড়, পুরোনো গাছপালা এবং বসতবাড়ির আশপাশের ছোট ছোট বনভূমি অসংখ্য বুনো পাখির নিরাপদ আশ্রয় ছিল। কিন্তু বসতি সম্প্রসারণ, অপরিকল্পিত উন্নয়ন, কৃষিজমির নিবিড় ব্যবহার, কীটনাশকের অতিরিক্ত প্রয়োগ, ঝোপঝাড় পরিষ্কার এবং দেশীয় গাছপালার পরিবর্তে একক প্রজাতির গাছ লাগানোর প্রবণতা এসব আবাসস্থলের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য নষ্ট করছে। উত্তর-পশ্চিম বা গঙ্গা-প্লাবন ভূমির গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাকৃতিক উদ্ভিদ ও ঘন নিচু গাছপালাসমৃদ্ধ স্থানে পাখির প্রজাতিবৈচিত্র্য ও প্রাচুর্য তুলনামূলক বেশি হতে পারে; অন্যদিকে প্রাকৃতিক তৃণভূমি কৃষিজমিতে রূপান্তরিত হলে তৃণভূমিনির্ভর পাখিরা বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বাংলাদেশের গ্রামীণ প্রাকৃতিক পরিবেশে দ্রুত পরিবর্তনের ফলে পাখিদের খাদ্য, আশ্রয় ও প্রজননের গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল সংকুচিত হচ্ছেবাংলাদেশের গ্রামীণ পরিবেশে শালিক, দোয়েল, ফিঙে, সাহেলি, রাজন, চটক, হরবোলা, শ্বেতাক্ষী, মৌটুসি, ফুলঝুরি, ঘুঘু, হরিয়াল, বাবুই, মুনিয়া, বিভিন্ন প্রজাতির পাপিয়া ও অন্যান্য পাখির টিকে থাকার জন্য শুধু গাছ থাকাই যথেষ্ট নয়; প্রজাতিভেদে তাদের উপযোগী খাদ্য, ঘন ঝোপ, বাসা তৈরির স্থান এবং নিরবচ্ছিন্ন প্রাকৃতিক পরিবেশও প্রয়োজন। ফলে গ্রামজুড়ে সবুজের উপস্থিতি বজায় থাকলেও প্রাকৃতিক আবাসস্থলের বৈচিত্র্য কমে গেলে বিশেষ আবাসস্থলনির্ভর পাখিরা হারিয়ে যেতে পারে। এই সংকট মোকাবিলায় গ্রামীণ ঝোপঝাড়, প্রাকৃতিক তৃণভূমি, বাঁশঝাড়, দেশীয় বৃক্ষসমৃদ্ধ বসতভিটা ও জলাশয়ের পাড় সংরক্ষণ, কীটনাশকের ব্যবহার কমানো এবং উন্নয়ন পরিকল্পনায় পাখির আবাসস্থলকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
বিদ্যুতের তারে পাখি বসলে শক লাগে না কেনএকসময় গ্রামের ঝোপঝাড়, বাঁশঝাড়, পতিত জমি, প্রাকৃতিক তৃণভূমি, পুকুরপাড়, খালপাড়, পুরোনো গাছপালা এবং বসতবাড়ির আশপাশের ছোট ছোট বনভূমি অসংখ্য বুনো পাখির নিরাপদ আশ্রয় ছিল।
অপরিকল্পিত একক প্রজাতির বন
বাংলাদেশের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অপরিকল্পিত একক প্রজাতিনির্ভর বৃক্ষরোপণ বনজ পাখির আবাসস্থল ও জীববৈচিত্র্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ হুমকি। প্রাকৃতিক বনে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ, গুল্ম, লতাপাতা, ঘাস ও মৃত কাঠের সমন্বয়ে স্তরভিত্তিক উদ্ভিদবিন্যাস গড়ে ওঠে, যা বিভিন্ন পাখির খাদ্য সংগ্রহ, আশ্রয়, বাসা তৈরি ও প্রজননের সুযোগ সৃষ্টি করে। কিন্তু প্রাকৃতিক বনভূমিতে পরিকল্পনাহীনভাবে একই প্রজাতির গাছের বিস্তৃত বাগান তৈরি করলে উদ্ভিদের বৈচিত্র্য ও বনভূমির কাঠামোগত জটিলতা কমে যেতে পারে। ফলে ফল, ফুল, বীজ, পোকামাকড় ও অন্যান্য খাদ্যসম্পদের প্রাপ্যতা পরিবর্তিত হয় এবং বিশেষ আবাসস্থলনির্ভর পাখিরা উপযুক্ত পরিবেশ হারায়।
বাংলাদেশের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অপরিকল্পিত একক প্রজাতিনির্ভর বৃক্ষরোপণ বনজ পাখির আবাসস্থল ও জীববৈচিত্র্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ হুমকিবিশেষ করে বাংলাদেশের শালবন, পাহাড়ি বন ও অন্যান্য প্রাকৃতিক বনাঞ্চলে দেশীয় উদ্ভিদসমাজের পরিবর্তন বননির্ভর পাখিদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে সব ধরনের একক প্রজাতির বৃক্ষরোপণ সমান ক্ষতিকর নয়; এর প্রভাব নির্ভর করে গাছের প্রজাতি, রোপণের স্থান, বনভূমির পূর্ববর্তী অবস্থা এবং ব্যবস্থাপনার ধরনের ওপর। তাই সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত প্রাকৃতিক বনভূমির পুনরুদ্ধার, দেশীয় উদ্ভিদের বৈচিত্র্য রক্ষা এবং স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে অভিযোজিত পাখিদের আবাসস্থল সংরক্ষণ। শুধু বৃক্ষ আচ্ছাদন বা কাঠ উৎপাদন বৃদ্ধি নয়। কারণ, বনে গাছের সংখ্যা বাড়লেই বনের জীববৈচিত্র্য বাড়ে না; প্রকৃতির নিজস্ব বৈচিত্র্য ও পরিবেশগত সম্পর্ক অক্ষুণ্ন রাখাই কার্যকর বন সংরক্ষণের ভিত্তি।
পৃথিবীতে এত পাখি থাকতে আমরা শুধু মুরগি খাই কেনপ্রাকৃতিক বনে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ, গুল্ম, লতাপাতা, ঘাস ও মৃত কাঠের সমন্বয়ে স্তরভিত্তিক উদ্ভিদবিন্যাস গড়ে ওঠে, যা বিভিন্ন পাখির খাদ্য সংগ্রহ, বাসা তৈরি ও প্রজননের সুযোগ সৃষ্টি করে।
হারিয়ে যাচ্ছে বনের বাইদ ও জলা
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক বনাঞ্চলের সঙ্গে সংযুক্ত বাইদ, জলাভূমি, মৌসুমি জলাভূমি ও ঘাসাচ্ছাদিত নিচু ভূমি একসময় বহু প্রজাতির পাখির গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল ছিল। বাংলাদেশ থেকে বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় পাখিদের বড় একটি অংশ এই আবাসস্থলগুলো ব্যবহার করত। এসব স্থানে বর্ষায় পানি জমা, মৌসুমি ঘাস ও জলজ উদ্ভিদের বিস্তার এবং প্রচুর পোকামাকড় ও অন্যান্য খাদ্যপ্রাণীর উপস্থিতি পাখিদের খাদ্য সংগ্রহ, আশ্রয় ও প্রজননের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করত।
কিন্তু বন ব্যবস্থাপনার পরিবর্তন, জলাভূমি ভরাট, পানি নিষ্কাশন, অপরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ, কৃষি সম্প্রসারণ এবং প্রাকৃতিক ঘাসভূমি ধ্বংসের ফলে অনেক এলাকার এসব স্বতন্ত্র আবাসস্থল সংকুচিত হয়েছে বা হারিয়ে গেছে। এর প্রভাব বিশেষভাবে পড়ে আবাসস্থল বিশেষায়িত পাখিদের ওপর, যারা নির্দিষ্ট ধরনের জলাভূমি, ঘাসভূমি কিংবা নিচু বনভূমির ওপর নির্ভরশীল। আবাসস্থল হারিয়ে গেলে এসব পাখির খাদ্য ও প্রজননের সুযোগ কমে যায়; বিকল্প উপযুক্ত পরিবেশ না পেলে স্থানীয়ভাবে তাদের সংখ্যা হ্রাস পেতে পারে। এমনকি কোনো কোনো এলাকা থেকে প্রজাতিটি হারিয়েও যেতে পারে।
যেসব পাখি বাসা বাঁধে নাবাংলাদেশের প্রাকৃতিক বনাঞ্চলের সঙ্গে সংযুক্ত বাইদ, জলাভূমি, মৌসুমি জলাভূমি ও ঘাসাচ্ছাদিত নিচু ভূমি একসময় বহু প্রজাতির পাখির গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল ছিল।
ঝুঁকিতে জলাভূমিনির্ভর পাখিরা
বাংলাদেশে আবাসস্থল হারানো ও পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা পাখিদের মধ্যে জলাভূমিনির্ভর আবাসস্থল বিশেষায়িত প্রজাতিগুলো অন্যতম। হাওর, বিল, বাঁওড়, প্লাবনভূমি, মৌসুমি জলাভূমি এবং বনের ভেতরের বাইদ ও জলা এসব পাখির খাদ্য সংগ্রহ, আশ্রয় ও প্রজননের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। কিন্তু জলাভূমি ভরাট, প্রাকৃতিক পানিপ্রবাহে বাধা, অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ, কৃষিজমির সম্প্রসারণ, অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার এবং জলাভূমির স্বাভাবিক উদ্ভিদবিন্যাস ধ্বংসের ফলে এসব আবাসস্থলের পরিমাণ ও গুণগত মান ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে।
শীতকালে পরিযায়ী জলচর পাখিদের জন্য উপযুক্ত জলাভূমির সংকট তাদের খাদ্য ও বিশ্রামের সুযোগও সীমিত করতে পারেবিশেষত যেসব পাখি অগভীর পানি, কাদাময় তীর, নির্দিষ্ট জলজ উদ্ভিদ কিংবা মৌসুমি প্লাবনভূমির ওপর নির্ভরশীল, তারা বিকল্প আবাসস্থল খুঁজে পেতে সমস্যায় পড়ে। শীতকালে পরিযায়ী জলচর পাখিদের জন্য উপযুক্ত জলাভূমির সংকট তাদের খাদ্য ও বিশ্রামের সুযোগও সীমিত করতে পারে। অন্যদিকে জলাভূমির পানি দূষণ, মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর প্রাপ্যতা কমে যাওয়া এবং মানুষের বিরক্তি পাখিদের টিকে থাকার ঝুঁকি আরও বাড়ায়। এই সংকট মোকাবিলায় শুধু পাখি শিকার বন্ধ করাই যথেষ্ট নয়; জলাভূমির স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ, মৌসুমি প্লাবন, দেশীয় জলজ উদ্ভিদ, কাদাময় তীর এবং সংযুক্ত প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণ করতে হবে। জলাভূমি হারালে শুধু একটি ভূদৃশ্য হারায় না, হারিয়ে যায় সেই পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল পাখিদের খাদ্য, আশ্রয়, প্রজননক্ষেত্র এবং শেষ পর্যন্ত তাদের টিকে থাকার সম্ভাবনাও।
টুনি, নীলটুনি ও অন্যান্য পাখি যেভাবে বাসা বানায়বিশেষত যেসব পাখি অগভীর পানি, কাদাময় তীর, নির্দিষ্ট জলজ উদ্ভিদ কিংবা মৌসুমি প্লাবনভূমির ওপর নির্ভরশীল, তারা বিকল্প আবাসস্থল খুঁজে পেতে সমস্যায় পড়ে।
শহরগুলোতে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেই
বাংলাদেশের শহরগুলোতে নগরায়ণের বিস্তার ঘটলেও আবাসস্থল বিশেষায়িত পাখিদের সংরক্ষণে পর্যাপ্ত পরিকল্পিত উদ্যোগের অভাব একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয়। শহরের জলাভূমি, খাল, ঝোপঝাড়, ঘাসভূমি, পুরোনো বৃক্ষসমৃদ্ধ এলাকা এবং জলজ উদ্ভিদে পরিপূর্ণ নিচু জমি বিভিন্ন প্রজাতির পাখির খাদ্য সংগ্রহ, আশ্রয় ও প্রজননের গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল। কিন্তু আবাসন নির্মাণ, জলাভূমি ভরাট, খাল দখল, অপরিকল্পিত সবুজায়ন, দেশীয় উদ্ভিদ অপসারণ এবং একই ধরনের বিদেশি শোভাবর্ধক গাছের আধিক্য নগরের প্রাকৃতিক আবাসস্থলের বৈচিত্র্য কমিয়ে দিচ্ছে। ফলে যেসব পাখি নির্দিষ্ট ধরনের জলাভূমি, ঘন ঝোপঝাড় কিংবা বিশেষ উদ্ভিদসমৃদ্ধ পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল, তারা ক্রমেই উপযুক্ত আবাসস্থল হারানোর ঝুঁকিতে পড়ছে।
অথচ নগর-পরিকল্পনা ও সবুজায়ন কর্মসূচিতে সাধারণত বৃক্ষরোপণ বা সবুজ এলাকার পরিমাণকে গুরুত্ব দেওয়া হলেও এসব এলাকার পরিবেশগত গুণমান, দেশীয় উদ্ভিদের বৈচিত্র্য এবং পাখিদের নির্দিষ্ট আবাসস্থলগত চাহিদা সব সময় যথাযথ গুরুত্ব পায় না। বাংলাদেশের শহরগুলোতে পাখির আবাসস্থল চিহ্নিতকরণ, নিয়মিত পাখি জরিপ, জলাভূমি ও প্রাকৃতিক ঝোপঝাড় সংরক্ষণ এবং আবাসস্থল বিশেষায়িত প্রজাতির দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণকে নগর জীববৈচিত্র্য পরিকল্পনার অংশ করা জরুরি। শহরে শুধু গাছ লাগালেই পাখিবান্ধব পরিবেশ তৈরি হয় না; পাখির প্রজাতিভিত্তিক আবাসস্থল ও খাদ্যজালের উপযোগী প্রাকৃতিক পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখাই কার্যকর নগর পাখি সংরক্ষণের মূল ভিত্তি।
ঋতু বদলের সঙ্গে রং বদলায় যেসব পাখিশহরের জলাভূমি, খাল, ঝোপঝাড়, ঘাসভূমি, পুরোনো বৃক্ষসমৃদ্ধ এলাকা এবং জলজ উদ্ভিদে পরিপূর্ণ নিচু জমি বিভিন্ন প্রজাতির পাখির খাদ্য সংগ্রহ, আশ্রয় ও প্রজননের গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল।
সংরক্ষিত এলাকার বাইরে উদ্যোগ সীমিত
বাংলাদেশে পাখি সংরক্ষণের উদ্যোগ এখনো অনেকাংশে সংরক্ষিত বনাঞ্চল, জাতীয় উদ্যান, বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ও নির্দিষ্ট জলাভূমিকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়। অথচ দেশের বিপুলসংখ্যক পাখি সংরক্ষিত এলাকার বাইরের গ্রামীণ বনভূমি, কৃষিজমি, হাওর-বিল, নদীতীর, উপকূলীয় অঞ্চল, শহুরে জলাভূমি এবং বসতবাড়ির আশপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল। এসব এলাকায় আবাসস্থল ধ্বংস, জলাভূমি ভরাট, ঝোপঝাড় উজাড়, অপরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ, কীটনাশকের ব্যবহার এবং অবকাঠামোগত সম্প্রসারণের ফলে পাখিদের খাদ্য সংগ্রহ, আশ্রয় ও প্রজননের সুযোগ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। বিশেষ করে আবাসস্থল বিশেষায়িত পাখিদের জন্য এই সংকট আরও গুরুতর। কারণ নির্দিষ্ট পরিবেশ হারালে তারা সহজে বিকল্প আবাসস্থলে টিকে থাকতে পারে না।
দেশের বিপুলসংখ্যক পাখি কৃষিজমি, হাওর-বিল, নদীতীর এবং বসতবাড়ির আশপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর নির্ভরশীলসংরক্ষিত এলাকার বাইরে পাখি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, আবাসস্থলভিত্তিক জরিপ, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ, কৃষিবান্ধব সংরক্ষণব্যবস্থা এবং উন্নয়ন পরিকল্পনায় পাখির আবাসস্থল অন্তর্ভুক্ত করার মতো উদ্যোগ আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সংরক্ষিত এলাকার বাইরের গুরুত্বপূর্ণ পাখির আবাসস্থল চিহ্নিত করে সেগুলোর ব্যবস্থাপনা ও সুরক্ষার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। কারণ, পাখিরা প্রশাসনিক সীমানা মেনে চলে না; সংরক্ষিত এলাকার বাইরে তাদের আবাসস্থল ধ্বংস হতে থাকলে শুধু সংরক্ষিত এলাকা রক্ষা করে দেশের সামগ্রিক পাখিবৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।
বাবুই পাখি যেভাবে বাসা বানায়দেশের বিপুলসংখ্যক পাখি সংরক্ষিত এলাকার বাইরের গ্রামীণ বনভূমি, কৃষিজমি, হাওর-বিল, নদীতীর, উপকূলীয় অঞ্চল, শহুরে জলাভূমি এবং বসতবাড়ির আশপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল।
প্রকল্পভিত্তিক সংরক্ষণ প্রথা সুফল আনেনি
বাংলাদেশে পাখি সংরক্ষণ কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা হলো প্রকল্পনির্ভর উদ্যোগের ধারাবাহিকতা ও দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে না পারা। অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মেয়াদ, বরাদ্দ ও লক্ষ্যমাত্রাকে কেন্দ্র করে সংরক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়; প্রকল্প শেষ হওয়ার পর নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, আবাসস্থল ব্যবস্থাপনা এবং অর্জিত ফলাফল ধরে রাখার উদ্যোগ দুর্বল হয়ে পড়ে। অথচ পাখি সংরক্ষণ কোনো স্বল্পমেয়াদি কার্যক্রম নয়; এটি আবাসস্থল, খাদ্যজাল, প্রজননক্ষেত্র এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। বিশেষ করে বাংলাদেশের হাওর-বিল, নদীতীর, উপকূলীয় অঞ্চল, গ্রামীণ বনভূমি ও শহুরে জলাভূমিতে বসবাসকারী পাখিদের সংরক্ষণে বিচ্ছিন্ন প্রকল্পের পরিবর্তে ধারাবাহিক গবেষণা, নিয়মিত পাখি জরিপ, আবাসস্থল পুনরুদ্ধার এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ জরুরি।
পাখি সংরক্ষণ কোনো স্বল্পমেয়াদি কার্যক্রম নয়; এটি আবাসস্থল, খাদ্যজাল, প্রজননক্ষেত্র এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়াএকই সঙ্গে প্রকল্পের সাফল্য শুধু ব্যয়, প্রশিক্ষণ, প্রচার বা বৃক্ষরোপণের সংখ্যার ভিত্তিতে নয়; পাখির জনসংখ্যার পরিবর্তন, আবাসস্থলের গুণগত মান, প্রজননের সাফল্য এবং দীর্ঘমেয়াদে জীববৈচিত্র্য টিকে থাকার প্রমাণের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। তবে প্রকল্পভিত্তিক উদ্যোগ সব ক্ষেত্রেই ব্যর্থ, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে নির্দিষ্ট প্রকল্পের ফলাফল ও প্রমাণ বিশ্লেষণ করা জরুরি। পাখি সংরক্ষণকে সাময়িক প্রকল্পের গণ্ডি থেকে বের করে দীর্ঘমেয়াদি, গবেষণানির্ভর ও আবাসস্থলকেন্দ্রিক ব্যবস্থাপনায় প্রতিষ্ঠা করাই বাংলাদেশের পাখিবৈচিত্র্য রক্ষার অন্যতম প্রধান শর্ত।
সব পাখি কেন উড়তে পারে নাজলাভূমি, প্রাকৃতিক তৃণভূমি, বনের বাইদ ও জলা, ঝোপঝাড়, বাঁশঝাড় এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক আবাসস্থল অসংখ্য প্রজাতির পাখি ও বন্য প্রাণীর টিকে থাকার জন্য অপরিহার্য।
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ মানেই শুধু বৃক্ষরোপণ নয়
সরকারের ২৫ কোটি দেশীয় গাছ রোপণের উদ্যোগ দেশের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে আশার সঞ্চার করেছে। তবে এই উদ্যোগের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে শুধু কতটি গাছ রোপণ করা হলো তার ওপর নয়, বরং উপযুক্ত স্থানে সঠিক প্রজাতির গাছ নির্বাচন, রোপিত গাছের বেঁচে থাকা নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদে সেগুলোর পরিচর্যার ওপর। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর, বন বিভাগ এবং মাঠপর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা, জবাবদিহি ও কার্যকর তদারকি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ মানেই শুধু বৃক্ষরোপণ নয়।
জলাভূমি, প্রাকৃতিক তৃণভূমি, বনের বাইদ ও জলা, ঝোপঝাড়, বাঁশঝাড় এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক আবাসস্থল অসংখ্য প্রজাতির পাখি ও বন্য প্রাণীর টিকে থাকার জন্য অপরিহার্য। বিশেষ করে আবাসস্থল বিশেষায়িত পাখিদের সংরক্ষণে এসব পরিবেশের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন রাখা জরুরি। তাই দেশীয় গাছ রোপণের পাশাপাশি প্রাকৃতিক বন পুনরুদ্ধার, বিদ্যমান জলাভূমি রক্ষা এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়মিত পাখি জরিপ, দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণ এবং গবেষণার ফলাফল সংরক্ষণ পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবেবাংলাদেশে পাখি সংরক্ষণ কার্যক্রমকে কার্যকর ও টেকসই করতে পাখির প্রজাতিবৈচিত্র্য, বিস্তৃতি, জনসংখ্যার পরিবর্তন, প্রজনন, খাদ্যাভ্যাস এবং আবাসস্থলগত চাহিদা নিয়ে আরও বিস্তৃত ও দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা প্রয়োজন। বিশেষ করে আবাসস্থল বিশেষায়িত পাখিদের ওপর জলাভূমি ধ্বংস, বনভূমির পরিবর্তন, অপরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ, কৃষিতে কীটনাশকের ব্যবহার এবং নগরায়ণের প্রভাব বৈজ্ঞানিকভাবে নিরূপণ করা জরুরি। এ জন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়মিত পাখি জরিপ, দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণ, প্রমাণভিত্তিক তথ্যভান্ডার তৈরি এবং গবেষণার ফলাফল সংরক্ষণ পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
পাখি সংরক্ষণে আন্তঃদেশীয় সীমানা এলাকা কতটা গুরুত্বপূর্ণআবাসস্থল বিশেষায়িত পাখিদের সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে না পারলে ক্রমেই বিবর্ণ হয়ে উঠবে বাংলার প্রকৃতি, হারিয়ে যাবে তার রংবাহারি পাখিবৈচিত্র্য।
একই সঙ্গে পাখি নিয়ে মাঠপর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা অভিজ্ঞ গবেষক, পক্ষীবিদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, তরুণ গবেষক এবং স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিদের যথাযথ মূল্যায়ন ও সংরক্ষণ কার্যক্রমের পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন এবং মূল্যায়নে অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। গবেষক নির্বাচন ও সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পরিচয় বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাবের পরিবর্তে গবেষণার মান, মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা, বৈজ্ঞানিক দক্ষতা এবং কাজের প্রমাণকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। কারণ, পাখি সংরক্ষণে কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে হলে অনুমান বা সাময়িক উদ্যোগের পরিবর্তে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক তথ্য, অভিজ্ঞ গবেষকদের জ্ঞান এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতাকে সমন্বিত করতে হবে।
পাখির বৈচিত্র্য রক্ষা মানে বাংলার প্রকৃতির রং, সুর ও প্রাণবৈচিত্র্যকে বাঁচিয়ে রাখাআবাসস্থল বিশেষায়িত পাখিদের সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে না পারলে ক্রমেই বিবর্ণ হয়ে উঠবে বাংলার প্রকৃতি, হারিয়ে যাবে তার রংবাহারি পাখিবৈচিত্র্য। জলাভূমি, প্রাকৃতিক তৃণভূমি, বনভূমি, ঝোপঝাড় ও অন্যান্য স্বতন্ত্র আবাসস্থল ধ্বংসের সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে এসব পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল পাখিরা। একসময় গ্রামবাংলার চেনা প্রকৃতিকে মুখরিত করা পাখিদের অনেক প্রজাতিই হয়তো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে কেবল বইয়ের ছবি কিংবা গবেষণাপত্রের তথ্য হয়ে থাকবে। তাই পাখি সংরক্ষণে শুধু প্রজাতিকে রক্ষা করার উদ্যোগ নিলে চলবে না; তাদের আবাসস্থল, খাদ্যসংস্থান ও প্রজননের উপযোগী পরিবেশও সুরক্ষিত রাখতে হবে। পাখির বৈচিত্র্য রক্ষা মানে বাংলার প্রকৃতির রং, সুর ও প্রাণবৈচিত্র্যকে বাঁচিয়ে রাখা আর সেই দায়িত্ব পালনে আবাসস্থল সংরক্ষণের কোনো বিকল্প নেই।
লেখক: প্রভাষক, প্রাণিবিদ্যা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ছোট্ট পাখি মোচাটুনি