রসায়নে নোবেলজয়ীর সাক্ষাৎকার মাঝপথে থামিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

· Prothom Alo

নোবেল পাওয়ার খবর শোনার ঠিক পরমুহূর্তে একজন বিজ্ঞানীর অনুভূতি কেমন হয়? সদ্য নোবেলজয়ী জাপানি রসায়নবিদ কেনসো সোআইয়ের সঙ্গে নোবেল প্রাইজের ওয়েবসাইটের প্রতিনিধি অ্যাডাম স্মিথের এই ছোট্ট ফোনালাপটি শুনলে তার দারুণ একটা ধারণা পাওয়া যায়। তবে এই সাক্ষাৎকারের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশটি হলো এর একদম শেষ দিকটা, যেখানে খোদ দেশের প্রধানমন্ত্রী ফোন করার জন্য অপেক্ষা করছিলেন! চলুন, অ্যাডাম স্মিথের সঙ্গে কেনসো সোআইয়ের কথোপকথনটি পড়া যাক। সাক্ষাৎকারটি বাংলায় অনুবাদ করেছেন শিউলী সুলতানা।

অ্যাডাম স্মিথ: হ্যালো, আমি কি প্রফেসর সোআইয়ের সঙ্গে কথা বলছি?

Visit xsportfeed.life for more information.

কেনসো সোআই: হ্যাঁ, বলছি।

অ্যাডাম স্মিথ: হ্যালো, আমার নাম অ্যাডাম স্মিথ।

কেনসো সোআই: ওহ, হ্যাঁ!

অ্যাডাম স্মিথ: নোবেল পুরস্কার জেতার জন্য আপনাকে অনেক অভিনন্দন!

কেনসো সোআই: ওহ, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। খবরটা শুনে আমি সত্যিই ভীষণ রোমাঞ্চিত!

অ্যাডাম স্মিথ: হ্যাঁ, দারুণ খবর, চমৎকার একটা খবর! আচ্ছা, খবরটা শোনার পর আপনার মাথায় প্রথম কী চিন্তা এসেছিল? মানে, তাৎক্ষণিকভাবে আপনার অনুভূতি কেমন ছিল?

কেনসো সোআই: আসলে, নোবেল প্রাইজ কমিটি যে আমাদের গবেষণাকে স্বীকৃতি দিয়েছে, এটাই অনেক বড় ব্যাপার। এই পুরস্কারটি পেয়ে আমরা সত্যিই ভীষণ আনন্দিত।

অ্যাডাম স্মিথ: আপনাদের এই গবেষণা তো পৃথিবীতে প্রাণের উৎপত্তির রহস্যের একদম কেন্দ্রে অবস্থান করছে, তাই না?

কেনসো সোআই: বিজ্ঞানীরা তো বহুদিন ধরেই এই রহস্যের উত্তর খুঁজছিলেন...বিশেষ করে বিজ্ঞানী লুই পাস্তুরও অণুর ভেতরে কাইরালিটি বা একপেশে স্বভাব তৈরির চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তিনি সেটা কোনো গবেষণাপত্রে প্রকাশ করে যেতে পারেননি। শুধু তাঁর একটি লেকচারে এর উল্লেখ করেছিলেন। আমরা আসলে সেই হোমোকাইরালিটি বা একপেশে অণুর সমস্যার সমাধানে ছোট্ট একটু অবদান রাখার চেষ্টা করেছি মাত্র।

এখন জীবন্ত প্রাণীর ভেতরটাও আমরা নিখুঁতভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি— কার্ল ডাইসারোথ, চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেলজয়ী
আমার মনে হয় বিশ্বের নানা দেশের গবেষকেরা এই অদ্ভুত বিষয়টির প্রতি আকৃষ্ট হয়েছেন। তাঁরা যে আমাদের এই বিক্রিয়াটি নিয়ে এত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন, এটা জেনে আমার খুব ভালো লাগে।

অ্যাডাম স্মিথ: আপনি যখন সোআই রিঅ্যাকশন আবিষ্কার করলেন, তখন তো সেটি ফ্র্যাংকের গাণিতিক মডেলের একেবারে শেষ শর্তটিও পূরণ করে ফেলল! এটা সত্যি এক অভাবনীয় আবিষ্কার ছিল।

কেনসো সোআই: ওহ, ধন্যবাদ আপনাকে।

অ্যাডাম স্মিথ: সবচেয়ে বড় কথা হলো, এখন বিজ্ঞানীদের একটা দল শুধু আপনার এই বিক্রিয়া নিয়েই পড়াশোনা করছে। সারা পৃথিবীর রসায়নবিদেরা আপনার আবিষ্কার করা এই অনন্য সোআই রিঅ্যাকশন নিয়ে মেতে আছেন। এটা দেখতে আপনার কেমন লাগে?

কেনসো সোআই: আমার মনে হয় বিশ্বের নানা দেশের গবেষকেরা এই অদ্ভুত বিষয়টির প্রতি আকৃষ্ট হয়েছেন। তাঁরা যে আমাদের এই বিক্রিয়াটি নিয়ে এত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন, এটা জেনে আমার খুব ভালো লাগে। আমরা সবাই বন্ধু, বিজ্ঞানের বন্ধু।

অ্যাডাম স্মিথ: বাহ, খুব চমৎকার কথা... আপনি তো জানেন যে...

কেনসো সোআই: আমাকে একটু মাফ করবেন, আমি কি আপনাকে একটু থামাতে পারি? আমি এইমাত্র খবর পেলাম। টোকিওর সময় অনুযায়ী ঠিক ৭টা ৪৫ মিনিটে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে ফোন করবেন। অর্থাৎ, ঠিক এক মিনিট পরই তাঁর ফোন আসবে!

অ্যাডাম স্মিথ: ওহ, অবশ্যই! আপনাকে তো তাঁর সঙ্গে কথা বলতেই হবে! হ্যাঁ, অবশ্যই, আমি বুঝতে পেরেছি। আপনার সঙ্গে কথা বলে ভীষণ ভালো লেগেছে। ধন্যবাদ।

কেনসো সোআই: ধন্যবাদ।

অনেক জায়গায় কাজ করে ও শিখে নিজের মস্তিষ্ককে প্রস্তুত করেছি—রসায়নে নোবেলজয়ী সুসুমু কিতাগাওয়া

Read full story at source