মাঝরাতে জড়িয়ে ধরতে চেয়েছিলেন মদ্যপ পরিচালক, ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নায়িকা

· Prothom Alo

বলিউডে কাজের শুরুতেই নানা ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে স্বরা ভাস্করকে। অভিনয়জীবনের শুরুর দিকের এমনই একটি অস্বস্তিকর ঘটনার কথা সম্প্রতি জানিয়েছেন অভিনেত্রী। তাঁর দাবি, ‘তনু ওয়েডস মনু’ সফল হওয়ার পর একটি ছবির শুটিংয়ে এক পরিচালক তাঁর সঙ্গে অনুচিত আচরণ করেছিলেন। মদ্যপ অবস্থায় রাতে তাঁর ঘরের দরজায় ধাক্কা দিয়েছিলেন ওই পরিচালক, পরে জড়িয়ে ধরতেও চেয়েছিলেন।

Visit chickenroad.qpon for more information.

এখন রিয়েলিটি শো ‘রাইজ অ্যান্ড ফল’-এর প্রতিযোগী স্বরা। অনুষ্ঠানের সাম্প্রতিক এক পর্বে নিজের জীবনের সেই অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, ঘটনার সময় তাঁর বয়স ছিল ২০-এর কোঠায়। অতিথিশালায় একমাত্র নারী ছিলেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে পরিচালকের আচরণে ভয় পেয়েছিলেন অভিনেত্রী।

‘পরিচালকদের অভিনেতাদের ভালোবাসতে হয়’
২০১১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘তনু ওয়েডস মনু’ স্বরার ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ বাঁক তৈরি করেছিল। ছবিতে তিনি ছিলেন অন্যতম প্রধান অভিনেত্রী। ছবিটির সাফল্যের পর নতুন একটি ছবিতে কাজ করার সময় ওই পরিচালকের সঙ্গে তাঁর পরিচয়।
স্বরা জানান, শুরুতে ওই পরিচালক তাঁকে বলেছিলেন, ‘পরিচালকদের তাঁদের অভিনেতাদের ভালোবাসতে হয়।’ এরপর তাঁর চেহারা ও সৌন্দর্য নিয়ে কবিতা লিখে বার্তা পাঠাতে শুরু করেন।
অভিনেত্রী তখন বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব না দিয়ে ভদ্রভাবেই সাড়া দিতেন। কিন্তু পরিস্থিতি পরে অন্যদিকে মোড় নেয়।

মদ্যপ দুই পুরুষের সঙ্গে একা মহড়া
ছবিটির একটি রোমান্টিক দৃশ্যে স্বরার সঙ্গে পুরুষ অভিনেতার অভিনয় করার কথা ছিল। সেই দৃশ্যের মহড়া একা তাঁর সঙ্গে করতে চেয়েছিলেন পরিচালক।
কিন্তু স্বরা তাতে রাজি হননি। তিনি পরিচালকের কাছে স্পষ্ট করে বলেন, পুরুষ অভিনেতা, ক্যামেরাকর্মীসহ সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে মহড়া করতে চান।
কারণ, যে অতিথিশালায় তাঁরা ছিলেন, সেখানে স্বরাই ছিলেন একমাত্র নারী।
অভিনেত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, পরে তিনি দেখতে পান পরিচালক ও চিত্রগ্রাহক মদ পান করছেন। তাঁদের বোতলের অর্ধেকেরও বেশি তখন শেষ হয়ে গেছে।
সেই পরিস্থিতি স্বরাকে আতঙ্কিত করে তোলে।

স্বরা ভাস্কর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

স্বরা বলেন, ‘একজন তরুণী, যার বয়স ২০-এর কোঠায়, সে কেন দুজন মদ্যপ পুরুষের সঙ্গে একা মহড়া করবে? আমি খুব ভয় পেয়েছিলাম। যত দ্রুত সম্ভব সেখান থেকে চলে গিয়েছিলাম।’
তবে সেখানেই ঘটনা শেষ হয়নি।

রাতে দরজায় ধাক্কা
স্বরার দাবি, সেদিন রাতে ওই পরিচালক তাঁর ঘরের দরজায় বারবার ধাক্কা দিতে থাকেন। অভিনেত্রীর ভাষায়, ‘রাতে তিনি ক্রমাগত আমার দরজায় ধাক্কা দিচ্ছিলেন। আমার মনে হচ্ছিল, তিনি দরজা ভেঙেই ফেলবেন।’
শেষ পর্যন্ত দরজা খুললে তিনি দেখতে পান, পরিচালক মদ্যপ অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছেন। ঠিকমতো হাঁটতেও পারছিলেন না। এরপর স্বরাকে জড়িয়ে ধরতে চান তিনি।
স্বরা পরিচালককে সরাসরি ‘না’ করে দেন। তিনি বলেন, ‘আমি বলেছিলাম, না, আপনি আমাকে জড়িয়ে ধরতে পারেন না।’

কিন্তু পরিচালক নাকি বিষয়টি মেনে নেননি। জড়িয়ে ধরার জন্য বারবার চাপ দিতে থাকেন। তখন স্বরা তাঁকে সরাসরি জানান যে তাঁর আচরণে তিনি ভয় পাচ্ছেন।
অভিনেত্রীর কথায়, ‘আমি তাঁর মুখের ওপর বলেছিলাম, আপনি আমাকে ভয় পাইয়ে দিচ্ছেন। কিন্তু এর বেশি আমি কিছু করতে পারিনি। কারণ, তিনি ছবিটির পরিচালক।’
স্বরার বর্ণনায়, ক্ষমতার এ সম্পর্কই তখন তাঁকে আরও অসহায় করে তুলেছিল।

মা হওয়ার পর শরীর নিয়ে কটাক্ষ, ‘মোটি’ লেখা ব্লাউজ পরে নায়িকার প্রতিবাদ

পরিচিতির পরেও কঠিন ছিল পথ
স্বরার চলচ্চিত্রে অভিষেক ২০০৯ সালের ‘মাধোলাল কিপ ওয়াকিং’ দিয়ে। তবে বড় পরিসরে পরিচিতি আসে ‘তনু ওয়েডস মনু’ দিয়ে। এরপর ‘রাঞ্জনা’, ‘তনু ওয়েডস মনু রিটার্নস’, ‘প্রেম রতন ধন পায়ো’ ও ‘ভিরে দি ওয়েডিং’-এর মতো ছবিতে অভিনয় করেন তিনি।

তবে ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের সেই সময়ে প্রতিষ্ঠিত তারকা হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি হয়নি। ফলে কাজের জায়গায় ক্ষমতার ভারসাম্যও ছিল তাঁর বিপক্ষে—স্বরার সাম্প্রতিক বক্তব্যে সেই বাস্তবতারই একটি দিক উঠে এসেছে।
স্বরা ঘটনার সময় পরিচালকের নাম প্রকাশ করেননি। ফলে ওই ব্যক্তির পরিচয় বা তাঁর বিরুদ্ধে স্বরার অভিযোগের স্বাধীন কোনো যাচাইও এই বক্তব্য থেকে করা সম্ভব নয়। তাই ঘটনাটি স্বরার বর্ণিত অভিজ্ঞতা হিসেবেই সামনে এসেছে।

ব্যক্তিজীবনেও নতুন অধ্যায়
স্বরার পেশাজীবনের পাশাপাশি ব্যক্তিজীবনও গত কয়েক বছরে আলোচনায় এসেছে। ২০২৩ সালে রাজনীতিক ফাহাদ আহমাদকে বিয়ে করেন তিনি। তাঁদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে, নাম রাবিয়া।

এর মধ্যে স্বরা আবারও বিনোদনজগতে সক্রিয়। ‘রাইজ অ্যান্ড ফল’-এর দ্বিতীয় মৌসুমে তাঁকে প্রতিযোগী হিসেবে দেখা যাচ্ছে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করছেন সাবেক ক্রিকেটার বীরেন্দর শেবাগ।

হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে

Read full story at source