আলোকিতে চলছে ‘দ্য ওয়াও ফেস্টিভ্যাল’

· Prothom Alo

রাজধানীর হ্যাপেনিং প্লেস  আলোকিতে চলছে ‘ওম্যান: দ্য ওয়াও ফেস্ট’। দিনব্যাপী এই উৎসবে আছে নৃত্য ও কোরিওগ্রাফি, সংগীত, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, আর্ট ইনস্টলেশন, উন্মুক্ত আলোচনা এবং দেশীয় নানা উদ্যোগের পসরা। দুপুর ১২টায় শুরু হওয়া আয়োজন চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত। চাইলে একবার ঢুঁ মেরে আসতে পারেন।

Visit een-wit.pl for more information.

নারীর জীবন, পরিচয়, সৃজনশীলতা ও ক্ষমতায়নের নানা গল্প নিয়ে ঢাকার আলোকিতে আজ বসেছে ‘ওম্যান: দ্য ওয়াও ফেস্ট’।

দিনব্যাপী এই উৎসবে আছে নৃত্য ও কোরিওগ্রাফি, সংগীত, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, আর্ট ইনস্টলেশন, উন্মুক্ত আলোচনা এবং দেশীয় নানা উদ্যোগের পসরা। দুপুর ১২টায় শুরু হওয়া আয়োজন চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত। তবে মূল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা শুরু হবে বিকেল থেকে ।

ফিতা কাটার মধ্য দিয়ে শুরু হয় এই আয়োজন। এরপর দুই নৃত্যশিল্পীর পরিবেশনায় ছিল নৃত্যের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা।

ভেন্যুতে ঢুকতেই চোখে পড়ে উৎসবের আমেজ। প্রবেশের জন্য কোনো টিকিটের প্রয়োজন নেই।

এক পাশে খাবারের স্টল, অন্যদিকে সারি সারি দেশীয় উদ্যোগ ও সৃজনশীল পণ্যের আয়োজন।

গ্লাস হাউসে ঢুকলেই চোখে পড়ে যাত্রার নানা পণ্য। আছে মুখোরোচক স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের আয়োজন।

গাজীপুরের সরল বাড়ি থেকে আসা টাটকা সবজিও রয়েছে সেখানে। ইকিগাই এনেছে কাঠের তৈরি ফার্নিচার ও হোম ডেকর।

হল্লার রিকশা-থিমের ব্যাগ ও দুল, ফুটলুসের ট্রেন্ডি জুতা আর তাঁতি বয়নের জামদানি—সব মিলিয়ে ক্রাফট ও দেশীয় নকশার বৈচিত্র্যও বেশ চোখে পড়ে।

শিশুদের জন্য রয়েছে শিশু স্টোর। বাচ্চাদের পোশাক থেকে সানগ্লাস—পাওয়া যাচ্ছে নানা পণ্য। নকশা মিস্ত্রির স্টলে আছে কাঁথা স্টিচের নকশায় তৈরি শার্ট ও ফতুয়া।

ঢাকা ইয়াহ এনেছে স্টেশনারির নানা পণ্য। অংকনের স্টলে মিলছে ক্লে, রেজিন ও নানা ধরনের বিডস দিয়ে তৈরি গয়না।

নো টিপিক্যালের টি-শার্টে কাঁথা স্টিচের বুননে ফুটে উঠেছে বিভিন্ন থিম। আর খাঁটি চামড়ার ব্যাগ নিয়ে বসেছে ওভেন ওয়াইল্ড।

গ্লাস হাউসে এ রকম আরও অনেক উদ্যোগের দেখা মেলে। ক্রাফট, গয়না, ঘর সাজানোর পণ্যসহ নানা ধরনের সৃজনশীল সামগ্রী নিয়ে সাজানো হয়েছে স্টলগুলো।

পাশের ভবনের দোতলায়ও রয়েছে আরও অনেক উদ্যোগ। সেখানকার পরিবেশে আবার যুক্ত হয়েছে গানের আয়োজন।

পাশাপাশি সারি ধরে সাজানো পসরা—কেউ এনেছেন গয়না, কেউ স্টেশনারি, কেউ পারফিউম। কোথাও ব্যাগ, কোথাও ক্রোশেটের ফুল ও বুকের আয়োজন।

দেশীয় ব্র্যান্ড সুরঞ্জনা এসেছে নতুন পূজার ও ট্র্যাভেল কালেকশন নিয়ে। সুতি ফতুয়া, টপসের পাশাপাশি আছে শাড়িও।

সরলার স্টলে রয়েছে তাদের সিগনেচার ও ব্লাউজ, সঙ্গে গয়না। গয়না ভালোবাসেন যাঁরা, তাঁদের জন্যও আছে নানা ধরনের সংগ্রহ।

পরিবেশবান্ধব উপকরণে নারিকেলের মালা দিয়ে তৈরি দুল, খোঁপার কাঁটা, চুড়ি ও নেকপিস পাওয়া যাচ্ছে  আইচা নামের এই স্টলে ।

সম্পূর্ণ হাতে তৈরি গয়নার রঙিন সম্ভার নিয়ে বসেছে অর্ঘ্য—ফ্যাব্রিক, সুতা, পাট, কড়ি ও পুঁথিসহ নানা উপকরণে তৈরি হয়েছে এসব গয়না।

এরকম আরও নানাধরনের পণ্যে সাজানো হয়েছে প্রতিটি উদ্যোগ । দেখতে কিংবা কিনতে হলে অবশ্যই ঢুঁ মারতে হবে আলোকিতে।

তবে উৎসবের মূল আকর্ষণ শুধু স্টল কিংবা কেনাকাটায় সীমাবদ্ধ নয়। বিকেলের পর্বে মঞ্চে থাকবে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও উপস্থাপনা। বিকেল ৫টা থেকে ৭টা পর্যন্ত সাধনা ও নৃত্যশিল্পী ফাউন্ডেশনের পরিবেশনার পাশাপাশি দর্শকদের সঙ্গে ইন্টার‌্যাকটিভ সেশনও রয়েছে। চারটি দলগত নৃত্যনাট্য বা ড্যান্স-থিয়েটারের মাধ্যমে জনজীবনে নারীর অংশগ্রহণ, লৈঙ্গিক ধারণা, ক্ষমতার কাঠামো, বাস্তুচ্যুতি, প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা ও সম্মিলিত উদ্যোগের মতো বিষয় উঠে আসবে।

উৎসবের সাংস্কৃতিক ভাবনার জায়গাটি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে নৃত্যশিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সাধনা ফাউন্ডেশনের ফাউন্ডার লুবনা মারিয়াম বলেন, প্রায় এক দশক ধরে তাঁর মনে হয়েছে, নাচকে আমরা অনেকটাই শুধু বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে দেখি। অথচ একজন চিত্রশিল্পীর কাছে ছবি আঁকা যেমন ভাব প্রকাশের হাতিয়ার, একজন সাহিত্যিকের কাছে লেখালেখি যেমন নিজের কথা বলার মাধ্যম, তেমনি নৃত্যশিল্পীর কাছেও নাচ হতে পারে সমাজ ও মানুষের কথা বলার শক্তিশালী ভাষা। তাঁর প্রশ্ন, ‘তাহলে নৃত্যশিল্পীরা কেন কোনো অবদান রাখতে পারবেন না নাচের মাধ্যমে?’ নারীর ক্ষমতায়নের কথাও নাচের মাধ্যমে তুলে ধরতে চান তাঁরা। নাচকে শুধু বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এর মাধ্যমে সমাজে পরিবর্তনের কথা বলাই তাঁদের ভাবনার অংশ।

নাচের পাশাপাশি উৎসবে রয়েছে আলোকচিত্র প্রদর্শনী ‘ফ্রম স্কোর টু স্টেজ’। এতে অংশগ্রহণকারীদের সৃজনশীল কাজ ও আয়োজনের নেপথ্যের বিভিন্ন মুহূর্ত তুলে ধরা হচ্ছে। আছে অংশগ্রহণমূলক আর্ট ইনস্টলেশন ও সরাসরি শিল্পকর্ম তৈরির আয়োজনও। ফলে দর্শক এখানে শুধু পরিবেশনা দেখছেন না, বরং শিল্পচর্চার নানা প্রক্রিয়ার সঙ্গেও যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

সন্ধ্যার আয়োজনে থাকবে সংগীতশিল্পী শায়ানের সরাসরি পরিবেশনা। এর পাশাপাশি রয়েছে ফায়ার শো। সব মিলিয়ে নাচ, সংগীত, শিল্পকর্ম, খাবার ও দেশীয় উদ্যোগের সমন্বয়ে আলোকিতে আজকের দিনটি হয়ে উঠেছে সৃজনশীলতার এক মিলনমেলা।
‘ওম্যান: দ্য ওয়াও ফেস্ট’ আয়োজন করছে সাধনা ও নৃত্যশিল্পী ফাউন্ডেশন। সহযোগিতায় রয়েছে ব্রিটিশ কাউন্সিল ও ওয়াও বাংলাদেশ। ‘উইমেন অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ বা ওয়াও বাংলাদেশ কর্মসূচির আওতায় আয়োজিত এই উৎসবের মধ্য দিয়ে শিল্প ও সংস্কৃতির মাধ্যমে নারীর জীবন, অভিজ্ঞতা ও সৃজনশীলতার নানা দিক সামনে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ছবি: হাল ফ্যাশন

Read full story at source