অপহরণের নাটক সাজিয়ে নিজেই পালিয়েছিলেন ব্যবসায়ী
· Prothom Alo

চট্টগ্রাম নগরের এক ব্যবসায়ী নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর স্ত্রী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ব্যবসায়ী নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের কাছে ফোন করে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণও দাবি করা হয়। তাঁকে উদ্ধারে নগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান শুরু করে পুলিশ। শেষ পর্যন্ত একটি বাসে করে ঢাকা পালিয়ে যাওয়ার পথে গতকাল বুধবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ থেকে ওই ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করে পুলিশ।
উদ্ধারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ব্যবসায়ী সফি উল্লাহ পুলিশকে জানান, পাওনাদারের টাকা পরিশোধ এড়াতে তিনি নিজেই অপহরণ ও মুক্তিপণের নাটক সাজিয়েছিলেন। তবে পুলিশের ভাষ্য, পাওনাদারের পাশাপাশি ব্যবসায়িক অংশীদারদেরও ফাঁসানোর পরিকল্পনা ছিল তাঁর।
Visit h-doctor.club for more information.
সফি উল্লাহ নগরের চকবাজার এলাকার একটি রেস্টুরেন্টের মালিক। তাঁর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় গত রোববার পাঁচলাইশ থানায় জিডি করেন স্ত্রী ইয়াছমিন আক্তার। জিডিতে বলা হয়, গত শনিবার চকবাজারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে বহদ্দারহাট যাওয়ার পথে নিখোঁজ হন সফি উল্লাহ। এরপর আর তিনি বাসায় ফেরেননি।
পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক প্রথম আলোকে বলেন, জিডির পর পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে সফি উল্লাহর অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করে। একপর্যায়ে তাঁর অবস্থান হাটহাজারীর ছাদেকনগর এলাকার একটি মাজারে শনাক্ত হয়। সেখানে অবস্থান করে সফি উল্লাহ এক ব্যক্তির সহায়তায় পরিবারের কাছে ফোন করে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। পুলিশ সেখানে অভিযান চালালেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
ওসি বলেন, পরে মুঠোফোনের সিম পরিবর্তন করে সফি উল্লাহ পরিচিত এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর নাজিরহাট কাউন্টার থেকে শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসের টিকিট কেটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। পুলিশ তাঁর অবস্থান শনাক্ত করতে করতে বাসটি মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জে পৌঁছে যায়। গতকাল রাত তিনটার দিকে সেখান থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সফি উল্লাহ জানিয়েছেন, পাওনাদারের টাকা পরিশোধ না করার জন্য তিনি আত্মগোপনে গিয়ে অপহরণ ও মুক্তিপণের নাটক সাজিয়েছিলেন। তবে তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, এক পাওনাদার থানায় অভিযোগ করায় এ বিষয়ে একটি বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। ওই বৈঠকে উপস্থিত না থেকে পাওনা টাকা পরিশোধ এড়াতেই তিনি আত্মগোপনে যান। পাশাপাশি ব্যবসায়িক অংশীদারদের ফাঁসানোর পরিকল্পনাও করেছিলেন বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। এ ঘটনায় তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদারদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
সফি উল্লাহর স্ত্রী ইয়াছমিন আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর স্বামী নিজে আত্মগোপনে গিয়ে এসব কেন করেছেন, তা তিনি বুঝতে পারছেন না। ওসি মোজাম্মেল হক বলেন, এ ধরনের সাজানো অপহরণের ঘটনায় প্রকৃত অপহরণের শিকার ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা বিপাকে পড়েন।