উড়তে পারছিল না, বাগান থেকে উদ্ধার বিরল ‘পাহাড়ি বাজপাখি’

· Prothom Alo

মাদারীপুরের ডাসার উপজেলায় একটি বাগানে আহত অবস্থায় পড়ে থাকা বিরল প্রজাতির একটি ‘পাহাড়ি বাজপাখি’ উদ্ধার করা হয়েছে। পাখিটির ডানায় ক্ষত রয়েছে। গতকাল রোববার বালিগ্রাম ইউনিয়নের পাথুরিয়ারপাড় এলাকা থেকে পাখিটিকে উদ্ধার করে বন বিভাগ। পরে জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের পশু হাসপাতালে নিয়ে এর চিকিৎসা শুরু করা হয়।

Visit betsport.cv for more information.

বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাথুরিয়ারপাড় এলাকার একটি বাগানে আহত অবস্থায় বাজপাখিটিকে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় কয়েকজন যুবক। পাখিটি উড়তে পারছিল না। পরে তাঁরা পাখিটিকে ধরে বন বিভাগে খবর দেন। বন বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে পাখিটিকে উদ্ধার করে জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের পশু হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকেরা পাখিটির ডানায় ক্ষত দেখতে পান।

মাদারীপুর বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম প্রথম আলোকে বলেন, খবর পেয়ে পাখিটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ডানার ক্ষতস্থানে ড্রেসিং ও অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে। পাখিটিকে মাছ ও মুরগির মাংস খেতে দেওয়া হচ্ছে। ধীরে ধীরে সেটি সুস্থ হয়ে উঠছে।

জাহাঙ্গীর আলম জানান, উদ্ধার হওয়া পাহাড়ি প্রজাতির বাজপাখিটি পুরুষ। এটি ‘গ্রে ফিশ ঈগল’ নামেও পরিচিত। সাধারণত পাহাড়ের উঁচু গাছে এরা বাসা বাঁধে। এ অঞ্চলে এ ধরনের পাখি খুব একটা দেখা যায় না।

পাখিটির ডানায় ক্ষত রয়েছে

বন বিভাগের এই কর্মকর্তা বলেন, চিকিৎসার পর পাখিটি উড়তে পারলে মাদারীপুরের কোনো উন্মুক্ত স্থানে অবমুক্ত করা হবে। উড়তে না পারলে খুলনা বন বিভাগের প্রাণী সংরক্ষণ কার্যালয়ে পাঠানো হবে। আপাতত পাখিটির দেখভালের জন্য দুজন বনকর্মীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁরা নিয়মিত খাবার, পানি ও ওষুধ দিচ্ছেন।

মাদারীপুরের প্রাণিবিশেষজ্ঞ ও রাজৈর সরকারি কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক সত্যজিৎ রায় বলেন, উদ্ধার হওয়া পাখিটি ‘পাহাড়ি বাজপাখি’, এটি একধরনের বিরল শিকারি পাখি। এরা তীক্ষ্ণ দৃষ্টিশক্তি ও ক্ষিপ্রতার জন্য পরিচিত। স্ত্রী পাখি সাধারণত পুরুষের চেয়ে আকারে বড় হয়। মাছ, ইঁদুর, কাঠবিড়ালি, খরগোশসহ ছোট প্রাণী এবং পায়রা ও ঘুঘুর মতো পাখি শিকার করে এরা জীবন ধারণ করে। বিভিন্ন জলাশয় থেকেও মাছ শিকার করতে পারে।

Read full story at source