১টি গোল যেভাবে বদলে দিল ফেরান তোরেসের ক্যারিয়ার

· Prothom Alo

কয়েক মাস আগেও ফেরান তোরেস ছিলেন হাসির পাত্র। খোদ নিজ দলের সমর্থকদের কাছেই। সেই তোরেস এখন লড়ছেন ব্যালন ডি’অরের জন্য। শুরু করেছেন স্বপ্নের মতো এক মৌসুম। আর এসবই সম্ভব হয়েছে একমুহূর্তের জাদুতে।

বিশ্বকাপে স্পেনের দ্বিতীয় ম্যাচের কথা। কেপ ভার্দের বিপক্ষে ড্রয়ের পর সৌদি আরবকে রীতিমতো ধসিয়ে দিয়েছে স্পেন। ৪-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ম্যাচ বাকি খেলোয়াড়দের জন্য কার্যত শেষ। কিন্তু ফেরান তোরেস অপেক্ষা করছেন যেন রেফারির সিদ্ধান্তটা তাঁর পক্ষে আসে। বল জালে পাঠিয়েছেন তিনি। কিন্তু রেফারি ভিএআর দেখছেন, অফসাইড হয়েছে কি না, জানতে।

Visit asg-reflektory.pl for more information.

‘কে হতে চায় কোটিপতি’ থেকে চ্যাম্পিয়নস লিগে বার্সেলোনা-আর্সেনাল-ইউনাইটেডের প্রতিপক্ষফাইনালের এক গোলে তোরেস এখন জাতীয় হিরো।

সেদিন ফেরান তোরেসের পক্ষে যায়নি রেফারির সিদ্ধান্ত। ৪-০ গোলে জিতলেও তোরেস ছিলেন গোলশূন্য। শুধু সেই ম্যাচ নয়, ফাইনালের আগে পুরো টুর্নামেন্টে তোরেসের অবদান শুধু একটি অ্যাসিস্ট। প্রথম ম্যাচের পরই একাদশে জায়গা হারিয়েছিলেন। বাকি ম্যাচগুলোতে নেমেছিলেন বদলি হিসেবে। তারপরও কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে তোরেসের মাথায় ভরসার হাত রাখলেন ফাইনালের ৬২ মিনিটে। ১০৬ মিনিটে এসে সেই তোরেসই বদলে দিলেন চিত্রনাট্য। একটা ভলি, এমি মার্তিনেজের ওপর দিয়ে বল পৌঁছে গেল জালে। স্পেনের ১৬ বছরের অপেক্ষা পূর্ণ হলো সেই এক গোলে। আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা থেকে ফেরান তোরেস—স্পেনের বিশ্বজয়ের গল্প লেখা হলো বার্সেলোনার খেলোয়াড়দের হাত ধরে।

সালাহ, লুকাকু, ভ্লাহোভিচ—সবাই তুর্কি লিগে ছুটছেন কেন

ফেরান তোরেসকে নিয়ে কেন এত সমালোচনা

ভ্যালেন্সিয়ার একাডেমি থেকে উঠে এসেছিলেন ফেরান তোরেস। সেখান থেকে ম্যানচেস্টার সিটি হয়ে যোগ দিয়েছেন বার্সেলোনায়। মাত্র ১৭ বছর বয়সে ভ্যালেন্সিয়া দলের ভরসা হয়ে ওঠা তোরেস যেন সময়ের সঙ্গে হারিয়ে গিয়েছিলেন। পেপ গার্দিওলার অধীনেও নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি, পাঁচ মৌসুম ধরে বার্সেলোনাতে খেলেও নিজের প্রতিভার প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। ২০৭ ম্যাচে ৬৫ গোল, দলের অন্যতম স্ট্রাইকারের কাছ থেকে এমন পারফরম্যান্স খারাপ কিছু নয়। কিন্তু ওই যে লা মাসিয়া থেকে উঠে আসা গ্রুপটার সঙ্গে ঠিক মানিয়ে নেওয়া হয়নি তাঁর। তাই তো ছোটখাটো ভুল, গোলপোস্টের সামনে মিস হলেও ভক্তদের চক্ষুশূল হতেন তোরেস। সাড়ে চার বছরের ক্যারিয়ারে তাই অর্জন যতটুকু, তার চেয়েও বেশি শুনতে হয়েছে কটুবাক্য। খোদ বার্সেলোনা সমর্থকেরা তাঁকে নিয়ে হাসিতামাশা করতেন। সেই ফেরান তোরেস বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করে হয়ে উঠেছেন জাতীয় নায়ক।

দ্বিতীয়বার ফিরে কীভাবে রিয়ালকে সাজাচ্ছেন মরিনহো?পিএসজিতে তোরেসকে এখন চেনা দায়।

বিশ্বকাপের পর কী হলো

বিশ্বকাপের গোলটা শুধু ফেরান তোরেসের ফর্ম বদলে দেয়নি, খুলে দিয়েছে চোখও। নিজেকে ফিরে পেতে তাই ফিরেই জানিয়ে দিলেন, বার্সেলোনায় আর তিনি থাকছেন না। পিএসজি থেকে ততক্ষণে একটা প্রস্তাব চলেও এসেছে। টানা দুবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা লুইস এনরিকে দলকে আবার ঢেলে সাজাচ্ছেন। আর ফেরান তোরেস এবার হবেন তাঁর টার্গেট ম্যান। বিশ্বকাপের আগে তোরেসকে কেনা নিয়ে একটু দোটানা ছিল। কিন্তু ফাইনালে করা গোল আর দুর্দান্ত আত্মবিশ্বাসকে ফিরিয়ে দিতে পারেননি এনরিকে। ফল, বার্সেলোনার সঙ্গে শুরু হলো দর–কষাকষি। অবশেষে ৫০ মিলিয়ন ইউরোতে পিএসজিতে যোগ দিলেন তোরেস।

বাকি গল্পটা সবার চোখের সামনে। বিশ্বকাপের আগের তোরেসের সঙ্গে এই তোরেসের পার্থক্য আকাশ–পাতাল। চোখেমুখে খেলা করছে আত্মবিশ্বাস। শট নেওয়ার আগে আর মাথায় নেই দুশ্চিন্তা। একটা গোল, ফাইনালের ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার কীভাবে বদলে দিল তাঁর ক্যারিয়ারের গতিপথ! পিএসজির ফেরান তোরেসকে এখন চেনা দায়।

পিএসজির জার্সিতে ৪ ম্যাচে ৫ গোল ফেরান তোরেসের।

চার ম্যাচ খেলে তিনটিতেই পেয়েছেন মোট ৫ গোল। একটিতে পাননি, দলও মুখ থুবড়ে পড়েছে সেদিন। আর চ্যাম্পিয়নস লিগের রাতে? স্লোভেনিয়ার লিগের দলকে উড়িয়ে দিয়েছে পিএসজি। ফেরান তোরেস তুলে নিয়েছেন হ্যাটট্রিক। নতুন ক্লাব, নতুন পরিবেশ যেন তাঁর আত্মবিশ্বাসের কাছে তুচ্ছ। বারবার যেন একই কথা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, নিজের প্রতি বিশ্বাস আর সঠিক সমর্থন পেলে বদলে যেতে সময় লাগে না বিন্দুমাত্র।

আলভারেজকে না পেয়েই কি হেসুসকে কিনল বার্সেলোনা?

Read full story at source