হাসপাতালের শয্যায় ঘুম ভেঙে গেলেই মাকে জাপটে ধরছে আতঙ্কিত শিশুটি

· Prothom Alo

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের শয্যায় কাতরাচ্ছে ৯ বছরের শিশুটি। ঘুম ভেঙে গেলেই মাকে জাপটে ধরছে সে। চোখেমুখে আতঙ্ক। পরিবারের অভিযোগ, শুক্রবার সন্ধ্যায় শিশুটিকে বাঁশঝাড়ে নিয়ে ধর্ষণ করেন ইমারত হোসেন (৫১) নামের এক ব্যক্তি।

Visit biznow.biz for more information.

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার ইমারতকে শনিবার দুপুরে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন রংপুরের একটি আদালত। ইমারত রংপুর নগরের বাসিন্দা।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অসুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে রাখা হয়েছে।

হারাগাছ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অশোক চৌহান বলেন, শিশুটির বাবা বাদী হয়ে ইমারত হোসেনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। ঘটনার পর শুক্রবার রাতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার নথিসূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে ওই শিশু তার মায়ের সঙ্গে প্রতিবেশী এক নারীর বাড়িতে যায়। সেখানে তার মা কথাবার্তা বলছিলেন। মায়ের অগোচরে শিশুটি বাড়ির বাইরে রাস্তায় বের হয়। শিশুটিকে রাস্তায় একা পেয়ে ইমারত ফুসলিয়ে পাশের একটি বাঁশঝাড়ে নিয়ে ধর্ষণ করেন।

শিশুটিকে দেখতে না পেয়ে স্বজনেরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে ইমারত শিশুটিকে রাস্তায় স্বজনদের কাছে দিয়ে চলে যান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। বাড়িতে নিয়ে স্বজনেরা জিজ্ঞাসা করলে শিশুটি ঘটনাটি জানায়। পরে রাতে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রতিবেশীদের সহায়তায় স্বজনেরা তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এদিকে ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন ইমারতকে খুঁজতে থাকে। একপর্যায়ে তিনি স্থানীয় এক ব্যক্তির বাড়িতে আত্মগোপন করেন। জানতে পেরে বিক্ষুব্ধ লোকজন বাড়িটি ঘিরে ফেলে।

পুলিশ সূত্র জানায়, রাত সাড়ে ১০টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে হারাগাছ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় বিক্ষুব্ধ লোকজন ইমারতকে নিজেদের কাছে নেওয়া চেষ্টা করে। তাঁকে পুলিশের কাছে হস্তান্তরে বাধা দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

পরে রংপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তীর নেতৃত্বে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। বিক্ষুব্ধ লোকজন বিশৃঙ্খলা করতে থাকলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে পুলিশ স্থানীয় লোকজনকে বুঝিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। পরে ওই বাড়িতে থাকা ইমারতকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে রংপুর সদরের কোতয়ালি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

শনিবার দুপুরে ইমারত হোসেনকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পুলিশ রংপুরের একটি আদালতে হাজির করলে বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এ ঘটনার বিচার ও দোষী ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে শিশুটির বাবা বলেন, ‘এতটুকু একটা শিশুর ওপর এমন পাশবিক নির্যাতন কোনো মানুষ করতে পারে! আমার ছোট্ট মেয়েটি শরীরে যন্ত্রণা নিয়ে হাসপাতালের বেডে কষ্ট পাচ্ছে, কাতরাচ্ছে।’

Read full story at source