সেই টি–শার্ট না পরার ব্যাখ্যা দিলেন এমবাপ্পে
· Prothom Alo

দলের সবাই পরেছিলেন টি–শার্টটা, বাদ ছিলেন শুধু তাঁরা তিনজন—কিলিয়ান এমবাপ্পে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও ইব্রাহিমা কোনাতে। এ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে তিন ফুটবলার ও তাঁদের ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদকে। এবার এ নিয়ে মুখ খুলেছেন রিয়ালের ফরাসি ফরোয়ার্ড।
Visit casino-promo.biz for more information.
মঙ্গলবার লা লিগায় এলচের মুখোমুখি হওয়ার আগে রিয়াল মাদ্রিদ ‘আমরা সবাই সেউতার বাসিন্দা’ লেখা টি-শার্ট পরতে সম্মত হয়েছিল। গত জুলাইয়ে মরক্কো থেকে ব্যাপক অভিবাসী ঢলের পর স্পেনের নিয়ন্ত্রণাধীন এই ছিটমহলের মানবিক পরিস্থিতি তুলে ধরতে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এই উদ্যোগ নেয়।
যৌথ সমঝোতা থাকা সত্ত্বেও এমবাপ্পে, ভিনিসিয়ুস ও কোনাতেরা জার্সিটি গায়ে পরেননি। ম্যাচ শুরুর আগে এই তিনজন পোশাকটি গুটিয়ে বুকের কাছে তুলে ধরেন, তাতে ‘আমরা সবাই সেউতার বাসিন্দা’ লেখাটি ঢেকে যায়।
এ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়া এমবাপ্পে এএসকে জানান, কেন তাঁরা দলের বাকিদের মতো সেউতার টি–শার্ট পরেননি, ‘টি–শার্ট পরার সিদ্ধান্ত ক্লাবের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছিল। খেলোয়াড় হিসেবে আমাদের তা পরতে হতো। প্রথমত আমি বলতে চাই, আমি সেউতা এবং এর সব ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছি। কারণ, একজন ফুটবলার হওয়ার আগে আমি একজন মানুষ।’
এমবাপ্পের বাবা-মা আলজেরিয়া ও ক্যামেরুন থেকে ফ্রান্সে অভিবাসী হিসেবে এসেছিলেন। এমবাপ্পের জন্ম ও বেড়ে ওঠা ফ্রান্সে। একটি অভিবাসী পরিবারের সদস্য হিসেবে এ ধরনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাওয়া মানুষগুলোর যন্ত্রণা ভালোভাবেই বোঝেন এমবাপ্পে। সেউতার জনগণের দুর্ভোগের বিপরীতে মরক্কো থেকে ছুটে আসা অভিবাসীদের কষ্টের বিষয়ও যে আছে, সেটি ভুলে যাননি রিয়ালে খেলা এই ফরোয়ার্ড, ‘যেসব অভিবাসী প্রাণ হারিয়েছেন এবং যাঁরা অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন, আমি তাঁদের সমর্থনেও দাঁড়াতে চেয়েছিলাম। এটা খুব কঠিন এক অবস্থান ছিল। কারণ, মানুষ হয়তো ভেবে বসতে পারে যে আমি সেউতার মানুষের বিপক্ষে। কিন্তু না, একদমই তা নয়। তাঁদের বিরুদ্ধে আমার কিছুই বলার নেই এবং মনেপ্রাণে আমি তাঁদের সমর্থন করি। তবে কষ্ট ও দুর্ভোগের মুখোমুখি হওয়া প্রত্যেক মানুষের পাশেও আমি দাঁড়াতে চেয়েছিলাম।’
ম্যাচের আগে বিশেষ জার্সি পরেছিলেন এলচে ও রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়েরা।সেউতা মরক্কো সীমান্তে অবস্থিত স্পেনের একটি স্বায়ত্তশাসিত শহর। সাম্প্রতিক সময়ে মরক্কো সীমান্ত দিয়ে প্রায় ৭২ হাজার অভিবাসী ও শরণার্থী স্পেনের ভূখণ্ডে ঢোকার উদ্দেশ্যে সেউতায় চলে আসেন, যা ৮৫ হাজার জনগোষ্ঠীর ছোট্ট শহরটির জন্য পরিণত হয় বড় ধরনের সংকটে। আকস্মিক ও বিপুল এই মানুষের ঢলে স্বাস্থ্যসেবা, বাসস্থান আর স্থানীয় প্রশাসনের ওপর তীব্র চাপ পড়ে। দুই পক্ষের জন্যই সহমর্মিতার কথা জানিয়েছেন এমবাপ্পে।
ফরাসি তারকা বলেন, ‘আমি একজন মানুষ এবং আমি একজনের কষ্টকে অন্যজনের চেয়ে ছোট বা বড় করে দেখতে চাই না। মানুষ কষ্টে আছে এবং পৃথিবীতে এমনটা দেখতে আমার খুব কষ্ট হয়। আমি এমন একজন যে পুরো বিশ্বের কল্যাণ চাই। আমি ইতিবাচকতা ও শান্তির বার্তা পৌঁছাতে চাই এবং আশা করি, এই সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে।’
এমবাপ্পে–ভিনিদের বিশেষ জার্সি না পরা নিয়ে সমালোচনার মুখে রিয়াল