বিজ্ঞানীর নোবেল পাওয়া

· Prothom Alo

এক বিজ্ঞানী নোবেল প্রাইজ পেয়েছেন; কিন্তু তিনি চিন্তিত এই দুর্দান্ত খবরটা স্ত্রীকে কীভাবে জানাবেন। কারণ, তাঁর স্ত্রী হার্টের রোগী। ডাক্তার বলে দিয়েছেন, তাঁকে কোনো উত্তেজনাকর খবর হুট করে দেওয়া যাবে না। কৌশলে দিতে হবে। কী করা, বহু চিন্তাভাবনা করে নোবেল প্রাইজ পাওয়া স্বামী স্ত্রীকে বললেন:

Visit newsbetsport.bond for more information.

—তোমার জন্য একটা সুখবর আছে।

—কী সুখবর?

—তুমি আজ রাতে একজন নোবেল প্রাইজ পাওয়া বিজ্ঞানীর সঙ্গে শোবে...।

—তবে রে, আমার চরিত্রের ওপর...বলে স্ত্রী কী করলেন পাঠক বুঝতেই পারছেন।

এবার দ্বিতীয় একটি ঘটনা। এখানেও এক বিজ্ঞানী নোবেল প্রাইজ পেয়েছেন। ধরে নিই, আগের জন পেয়েছিলেন ফিজিকসে আর ইনি পেয়েছেন কেমিস্ট্রিতে। ওনার স্ত্রীও হার্টের রোগী। তাঁর ডাক্তারও বলে দিয়েছেন, তাঁকে কোনো উত্তেজনাকর খবর হুট করে দেওয়া যাবে না। কৌশলে দিতে হবে। কী করা, বহু চিন্তাভাবনা করে নোবেল প্রাইজ পাওয়া এই স্বামীও স্ত্রীকে বললেন:

—আচ্ছা তুমি যদি হঠাৎ করে কোনো পুরস্কারের ১০ কোটি টাকা পাও, তাহলে কী করবে?

(ধরে নিলাম, নোবেল প্রাইজের অর্থমূল্য ১০ কোটি টাকা)

স্ত্রী সেলাই করছিলেন। সেলাই বন্ধ করে একটু যেন ভাবলেন, তারপর বললেন।

—একটা মেন্টাল হাসপাতাল দেব।

—তারপর?

—তুমি হবে সেই হাসপাতালের প্রথম রোগী।

আপেল
ধরে নিই, আগের জন পেয়েছিলেন ফিজিকসে আর ইনি পেয়েছেন কেমিস্ট্রিতে। ওনার স্ত্রীও হার্টের রোগী। তাঁর ডাক্তারও বলে দিয়েছেন, তাঁকে কোনো উত্তেজনাকর খবর হুট করে দেওয়া যাবে না।

দান দান তিন দান। ইনিও বিজ্ঞানী, ইনিও নোবেল পেয়েছেন। ধরে নিই, ইনি পেয়েছেন মেডিসিনে। তাঁর স্ত্রী অবশ্য হার্টের রোগী নন। তবে প্রেশার খুব ওঠানামা করে। ডাক্তার বলে দিয়েছেন, প্রেশার বাড়তে পারে, এমন কোনো খবর তাঁকে সরাসরি না দেওয়াই ভালো। তবে গল্পের মাধ্যমে বলা যেতে পারে। অনেক চিন্তাভাবনা করে বিজ্ঞানী বললেন:

—আজ এক কাণ্ড হয়েছে।

—কী কাণ্ড?

—লেকের ধার দিয়ে হেঁটে আসছিলাম। হঠাৎ দেখি এক ব্যাঙ...মানুষের গলায় কথা বলে উঠল। বলল, ‘এই যে বিজ্ঞানী, তুমি তো এবার নোবেল পুরস্কার পেয়েছ!’

—তারপর কী হলো?

—কী আর হবে, ওর কথা উড়িয়ে দিয়ে আমি বাসায় চলে এলাম। তোমার কি মনে হয়, ব্যাঙের কথা সত্যি হতে পারে?

—আরে...ঠিক এই ব্যাঙটার সঙ্গে আমারও দেখা হয়েছিল। এ শুধু মিথ্যা কথা বলে। ফালতু একটা ব্যাঙ।

এবার একটা সত্যি গল্প বলি না কেন নোবেল নিয়ে! রিচার্ড ফাইনম্যান রাতে ঘুমুচ্ছিলেন। গভীর রাতে হঠাৎ ফোন এল।

—হ্যালো স্যার, আপনি নোবেল পেয়েছেন।

খুব বিরক্ত হলেন ফাইনম্যান।

—খবরটা তো দিনেও দেওয়া যেত। এত রাতে ঘুম ভাঙানোর কী দরকার ছিল?

ফোনের শব্দে স্ত্রীর ঘুমও ভেঙে গিয়েছিল।

—কে ফোন করেছিল?

—ধুর, এক সাংবাদিক...আমি নাকি নোবেল পেয়েছি...।

তারপর তো ইতিহাস।

*লেখাটি ২০২৬ সালে বিজ্ঞানচিন্তায় আগস্ট সংখ্যায় প্রকাশিতপিথাগোরাস ও চোর

Read full story at source