বশীর আল্‌হেলালের কালজয়ী ‘কালো ইলিশ’

· Prothom Alo

বশীর আল্‌হেলাল (১৯৩৬-২০২১) বাংলা সাহিত্যের এক প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক, ভাষা-গবেষক ও মননশীল প্রাবন্ধিক। ষাটের দশকের শেষ দিকে ছোটগল্পগ্রন্থ লিখে সাহিত্যজগতে পা দিলেও উপন্যাস, অনুবাদ, প্রবন্ধ, গবেষণা, নাটক-সৃজন ও মননে প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। ষাটের দশকে যাঁরা কথাসাহিত্য চর্চা করেছেন, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, রাবেয়া খাতুন (১৯৩৫-২০২১), বশীর আল্‌হেলাল (১৯৩৬–২০২১), রাজিয়া খান (১৯৩৬–২০১১), দিলারা হাশেম (১৯৩৬–২০২২), শওকত আলী (১৯৩৬–২০১৮), মাহমুদুল হক (১৯৩৭–২০০৮), হাসান আজিজুল হক (১৯৩৯–২০২১), রিজিয়া রহমান (১৯৩৯–২০১৯), জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত (জ. ১৯৩৯), রশীদ হায়দার (১৯৪১–২০২০), বিপ্রদাশ বড়ুয়া (জ. ১৯৪০), আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (১৯৪৩–১৯৯৭), সুব্রত বড়ুয়া (জ. ১৯৪৬), সেলিনা হোসেন (জ. ১৯৪৭) প্রমুখ। ষাটের দশকে কথাসাহিত্যে যাঁরা টিকে আছেন, তাঁদের মধ্যে বশীর আল্‌হেলাল সব বিচারেই অগ্রগণ্য। তাঁর ৪২টি গ্রন্থের মধ্যে উপন্যাস রয়েছে ৬টি—‘কালো ইলিশ’ (১৯৭৬), ‘ঘৃতকুমারী’ (১৯৮৪), ‘শেষ পানপাত্র’ (১৯৮৬), ‘নূরজাহানদের মধুমাস’ (১৯৮৮), ‘যে পথে বুলবুলিরা যায়’ (২০১৪) ও ‘জীবনের সুখ’ (২০১৫)। ষাট ও সত্তরের দশকের পটভূমিতে রচিত তাঁর কথাসাহিত্যে সমকালীন রাজনীতি, সামাজিক অসংগতি, মানুষের জটিল মনস্তাত্ত্বিক সংকট এবং প্রগতিশীল অসাম্প্রদায়িক মানবিকতা অত্যন্ত গভীরভাবে উন্মোচিত হয়েছে। বস্তুনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণ ও শক্তিশালী ভাষাভঙ্গি তাঁর সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য।

বশীর আলহেলাল, ১৯৭০

বশীর আল্‌হেলালের প্রথম উপন্যাস ‘কালো ইলিশ’। উপন্যাসটি সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশের যুদ্ধবিধ্বস্ত আর্থসামাজিক সংকট, মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং ব্যক্তির গভীর মানসিক বিপর্যয়ের পটভূমিতে রচিত একটি অনবদ্য ও কালজয়ী মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস। আখ্যানের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে রাজধানী ঢাকা শহরের এক সরকারি ফ্ল্যাটে বসবাসকারী নিম্নবিত্ত সরকারি কেরানি আবদুল করিম। ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহ দিনগুলোয় পাকিস্তানি বাহিনীর নারকীয় নির্যাতন এবং পরবর্তী সময়ে স্ত্রী শরিফার আত্মহত্যার ট্রমা ও গভীর মানসিক ক্ষত করিমকে এক পরম একাকিত্ব, তীব্র বিষাদ ও অবচেতনের এক অস্থিরতার দিকে ঠেলে দেয়। দীর্ঘস্থায়ী অনিদ্রা ও মনস্তাত্ত্বিক ভারসাম্যহীনতার ফলে তার সংবেদনশীল চেতনায় প্রতিনিয়ত মনে হতে থাকে যে তার মাথার ভেতরে যেন অসংখ্য ‘কালো পোকা’ নিরন্তর ডানা ঝাপটে চলেছে। করিমের এই ভয়াবহ দৃষ্টিভ্রম ও মতিভ্রম মূলত তার অভ্যন্তরীণ আত্মিক যন্ত্রণা এবং চারপাশের সমাজে ছড়িয়ে পড়া পচনশীল পরিবেশের প্রতি এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক প্রতিক্রিয়া।

Visit freshyourfeel.org for more information.

উপন্যাসে স্বাধীনতার অব্যবহিত পরবর্তী বাংলাদেশের কঠোর, রূঢ় ও অন্ধকার বাস্তবতার এক অতি নিখুঁত, বস্তুনিষ্ঠ ও জীবন্ত প্রতিচ্ছবি অঙ্কিত হয়েছে। তৎকালীন ঢাকার বুকে চরম ক্ষুধা, তীব্র দারিদ্র্য, চোরাচালানের কালোবাজার, দুর্নীতি, অসততা ও অনিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতির কবলে পড়ে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। এই অস্থির সামাজিক পরিবেশেই করিমের চারপাশে প্রতিবেশী ইরশাদ হোসেন, নিয়ামতুল্লাহ খান, স্মাগলার শামসুল হক এবং বন্ধু সোলেমানের মতো নানা সামাজিক ও নৈতিক ধারার চরিত্রের নিয়মিত আনাগোনা ঘটে। নিয়ামতুল্লাহ একপর্যায়ে করিমের কাছে তার বিধবা বোন পারুর বিয়ের প্রস্তাব পেশ করে। তবে সমাজে প্রচলিত তৎকালীন বৈরী আবহ ও তীব্র সামাজিক সমালোচনাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে করিম যখন অভাবগ্রস্ত ও ছিন্নমূল বিহারি ভিখারিনী সোহেলীকে নিজের ঘরে কাজ দিয়ে আশ্রয় দেয় এবং পরবর্তী সময়ে তাকে বিয়ে করে নিজের স্ত্রী হিসেবে পরম মর্যাদায় গ্রহণ করে, তখন তার ভেতরের বেঁচে থাকা সুপ্ত অসাম্প্রদায়িক মানবিক বোধ ও চিরন্তন শ্রেয় চেতনার এক ঐতিহাসিক বহিঃপ্রকাশ ঘটে।

সস্ত্রীক বশির আলহেলাল, ১৯৬৯

উপন্যাসের কেন্দ্রস্থলে থাকা ‘কালো ইলিশ’ নামটি কোনো বাস্তব বা বাহ্যিক মাছ নয়, বরং এটি কাঙ্ক্ষিত রক্তিম স্বাধীনতার পর তীব্র স্বপ্নভঙ্গ, নৈতিক অবক্ষয়, সামাজিক অনাচার ও অবক্ষয়ের জমাট বাঁধা অন্ধকারের এক অত্যন্ত শক্তিশালী রূপক চিত্র রূপায়ণ। সাহিত্যিক বশীর আল্‌হেলাল প্রধান চরিত্র আবদুল করিমের এই ভেঙে পড়া মানসিক জগৎ এবং তার চারপাশের দোলাচলপূর্ণ বহিরাঙ্গনের নিখুঁত সংমিশ্রণে স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের এক করুণ অথচ নিরেট বাস্তব দলিল নির্মাণ করেছেন। আবদুল করিমের চরিত্রটি স্রেফ একক কোনো ব্যক্তিসত্তা নয়; এটি স্বাধীনতার পর কাঙ্ক্ষিত স্বপ্নভঙ্গ, সামাজিক অরাজকতা ও মূল্যস্ফীতির কবলে পড়া পুরো বাঙালি নিম্নমধ্যবিত্ত সমাজেরই এক নিখুঁত প্রতিনিধি চরিত্র। প্রতিকূল পরিস্থিতির চরম শিকার হয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হলেও করিমের এই সামাজিক অবস্থান তৎকালীন সমাজ ও মানুষের মানসিক ক্ষতের এক পরম রূপক চিত্র ধারণ করে।

উপন্যাসের আখ্যানগত ও ভাবগত অন্যতম প্রধান স্তম্ভ শরিফা হলো কেন্দ্রীয় চরিত্র করিমের মৃত স্ত্রী। সমগ্র উপন্যাসে শারীরিকভাবে তার সরাসরি কোনো উপস্থিতি না থাকলেও কাহিনির প্রতিচ্ছায়ায় এবং করিমের সমস্ত মনোজগতে তার প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। যুদ্ধের বীভৎসতাকে উন্মোচিত করার পাশাপাশি শরিফার আত্মহত্যা মূলত সামাজিক অপবাদ সহ্য না করে নিজের সম্মান রক্ষায় আত্মাহুতির মতো চরম ও আত্মমর্যাদাপূর্ণ সিদ্ধান্তকে তুলে ধরে। তার এই আকস্মিক তিরোধান করিমের আত্মিক জীবনে এক গভীর অপূরণীয় ক্ষত সৃষ্টি করে, যা তাকে ক্রমাগত অনুশোচনা ও তীব্র মানসিক টোনে নিয়ে যায়। মূলত শরিফা চরিত্রটি মুক্তিযুদ্ধের নির্মম বাস্তবতায় এক নিঃশব্দ আত্মত্যাগের প্রতীক, যার প্রয়াণ উপন্যাসের আবহকে এক স্থায়ী বিষাদময় রূপ দান করেছে।

অন্যদিকে সোহেলী চরিত্রটি স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের প্রান্তিক, সহায়-সম্বলহীন ও রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর এক করুণ রূপক চিত্র। তৎকালীন রাজনীতি ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে বিহারি জনগোষ্ঠীর প্রতি সার্বিক বৈরী পরিস্থিতির মধ্যেও করিমের মতো একজন সাধারণ নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষ তাকে আশ্রয় দিয়ে এবং পরবর্তী সময়ে স্ত্রীর মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করে অনন্য সামাজিক দায়িত্ববোধ ও অসাম্প্রদায়িকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। সোহেলী কোনো জাঁকজমকপূর্ণ চরিত্র নয়; সে ছিল সমাজের তলদেশের প্রান্তিক মানুষের অনিশ্চয়তা ও বাঁচার আকুতির প্রতীক। করিমের সংসারে তার আগমন উপন্যাসের হতাশাপূর্ণ আবহাওয়াকে এক স্নিগ্ধ মানবিক স্পর্শ প্রদান করে। প্রিয়তমা শরিফাকে হারানোর ব্যক্তিগত বেদনার জায়গা থেকেই হয়তো করিম সমাজের চরম অবহেলিত ও নিপীড়িত সোহেলীর ভেতরের কষ্টের গভীরতা অনুভব করতে পেরেছিল। বিয়ের মাধ্যমে করিম প্রমাণ করেছে যে অশুভ ও অবক্ষয়গ্রস্ত সমাজেও মানুষের সত্যিকারের শুভচেতনা চিরতরে মুছে যায় না। করিমের এই সিদ্ধান্ত তার মনে বিদ্যমান কোনো রাজনৈতিক হিংসা, বর্ণবাদ বা জাতিগত কুসংস্কার না থাকার কথাই স্পষ্ট করে। এক চরম বৈরী সমাজব্যবস্থায় অটল থেকে নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার মধ্য দিয়ে তার ভেতরের এক নীরব বিদ্রোহ ও উদার মনের পরিচয় প্রতিভাত হয়।

‘কালো ইলিশ’ উপন্যাসে সংলাপ রচনায় বশীর আল্‌হেলালের কৃতিত্ব ও দক্ষতা অত্যন্ত উচ্চমানের এবং শিল্পমণ্ডিত। ট্রমাগ্রস্ত ও ভারসাম্যহীন করিমের ভেতরের দ্বিধা, ভ্রান্তি এবং ‘কালো পোকা’র ভীতি ফুটিয়ে তুলতে লেখক অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত, ভাঙা ভাঙা ও স্বগতোক্তি ধাঁচের সংলাপের আশ্রয় নিয়েছেন, যা পাঠককে সরাসরি তার বিক্ষিপ্ত মনোজগতে প্রবেশ করায়। প্রতিটি চরিত্রের সামাজিক অবস্থান, অর্থনৈতিক ভিত্তি ও শিক্ষার স্তর অনুযায়ী তাদের মুখের ভাষা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকা শহরের নিম্নমধ্যবিত্ত কেরানি, অসৎ ব্যবসায়ী কিংবা রাস্তার নিঃস্ব মানুষের কথ্য ভাষা ও ভঙ্গি সংলাপে অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে উঠে এসেছে। এমনকি বিহারি সোহেলী চরিত্রের সংলাপে আঞ্চলিক ও মিশ্র ভাষার যে সূক্ষ্ম প্রয়োগ রয়েছে, তা চরিত্রটিকে কৃত্রিমতামুক্ত করে চমৎকার বাস্তবতা দান করেছে। অতিরিক্ত কথার বিস্তার না ঘটিয়ে ছোট ছোট বাক্যে গভীর জীবনদর্শন, হতাশা ও অশুভ সমাজব্যবস্থার সংকেত দেওয়াতেই বশীর আল্‌হেলালের তীক্ষ্ণ সংলাপশৈলীর অনন্যতা প্রকাশ পায়।

পারিবারিক ছবিতে বশীর আলহেলাল

উপন্যাসের পটভূমি হিসেবে ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক সময়সীমাকে বেছে নেওয়া হয়েছে। ১৯৭১ সালের যুদ্ধের পরপরই বাংলাদেশের যে যুদ্ধবিধ্বস্ত ও অস্থির সামাজিক রূপ তৈরি হয়েছিল, লেখক তাকে সোজাসুজি ফ্রেমবন্দী করেছেন। উপন্যাসের প্রধান ভৌগোলিক কেন্দ্র ঢাকা শহরের নিম্নমধ্যবিত্তদের ঘিঞ্জি সরকারি ফ্ল্যাট, অলিগলি এবং ফুটপাতকেন্দ্রিক জনজীবন। বর্ণিত কাল, সময়, সমাজ ও স্থান শতভাগ বাস্তবসম্মত এবং ঐতিহাসিক সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত, যেখানে কোনো অতিরঞ্জিত বা অলৌকিক কল্পনাকাহিনির স্থান নেই।

লেখক অত্যন্ত সুনিপুণভাবে বাহ্যিক ঘটনার অন্তরালে কিছু গভীর প্রতীক ও রূপক ব্যবহার করেছেন। ইলিশ মাছ যেখানে বাঙালি সংস্কৃতিতে প্রাচুর্য, আনন্দ, সৌন্দর্য ও উৎসবের প্রতীক, সেখানে তার সঙ্গে ‘কালো’ বিশেষণ যুক্ত করে তৈরি করা হয়েছে এক তীব্র বৈপরীত্য ও বিষাদময় রূপক। এই ‘কালো ইলিশ’ মূলত যুদ্ধের পর সাধারণ মানুষের কাঙ্ক্ষিত স্বপ্নভঙ্গ, মহামারি, চোরাচালান ও জমাট বাঁধা অন্ধকারের নামান্তর। করিমের মাথার ভেতর ‘কালো পোকা’ ডানা ঝাপটানো কেবল শারীরবৃত্তীয় অসুস্থতা নয়, বরং চারপাশের অবক্ষয় ও প্রিয়জন হারানোর ট্রমার ফলে তৈরি মানসিক বিষাদের প্রতীকী প্রকাশ। অন্যদিকে রাজনৈতিক বৈরিতার শিকার সোহেলীকে আশ্রয় দেওয়া ও বিয়ে করার মাধ্যমে করিমের ভেতরের শাশ্বত মানবিকতার রূপকটি ফুটে ওঠে।

স্বাধীনতার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ যে শান্তি, সমৃদ্ধি ও ন্যায়ের প্রত্যাশা করেছিল, বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে তা রূপান্তরিত হয় দুর্নীতি, ক্ষুধা, সামাজিক অরাজকতা ও স্বার্থপরতায়। লেখক দেখিয়েছেন, একটি মহান অর্জনের পর কীভাবে নীতি-নৈতিকতার ধস মানুষের মনোজগৎকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দিতে পারে। তা সত্ত্বেও চারপাশের এই ঘোর অন্ধকারের মাঝে মানুষের প্রতি মানুষের সহানুভূতি ও ভালোবাসা যে একেবারে মুছে যায় না, করিমের আশ্রয়দাত্রী ও অসাম্প্রদায়িক রূপই তার শেষ আশার আলো। উপন্যাসের নামকরণেও বাঙালি সংস্কৃতির স্বাভাবিক আনন্দরূপের সঙ্গে অশুভর প্রতীক কালো রঙের মিশ্রণ ঘটিয়ে এক গভীর নান্দনিক ব্যঞ্জনা তৈরি করা হয়েছে, যা সামগ্রিক মূল ভাববস্তু ও রূপক সমাজচিত্রের বিচারে অত্যন্ত সার্থক ও সময়োপযোগী।

উপন্যাসে বশীর আল্‌হেলালের অসাম্প্রদায়িক ও সমাজসচেতন জীবনদর্শনের সুস্পষ্ট প্রতিফলন ঘটেছে। তিনি সমাজকে অলীক ভাবালুতায় না দেখে প্রগতিশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সততার সঙ্গে তৎকালীন দুর্নীতি, চোরাচালান ও অবক্ষয়ের চিত্র নির্মোহভাবে উন্মোচিত করেছেন। অশুভ শক্তির সার্বিক জয়জয়কারের মধ্যেও করিমের অক্ষুণ্ন মানবিক বোধ প্রমাণ করে যে ক্ষয়িষ্ণু সময়ের ভেতরেও চিরন্তন শুভচিন্তা টিকে থাকে। সার্বিকভাবে, যুদ্ধের পর ব্যক্তির মানসিক সংকট ও সামাজিক পচনের মনস্তাত্ত্বিক রূপায়ণে ‘কালো ইলিশ’ একটি অত্যন্ত সফল, প্রাসঙ্গিক ও কালজয়ী উপন্যাস, যা সমকালের গণ্ডি পেরিয়ে যেকোনো সংকটাপন্ন সমাজ ও কালখণ্ডের জন্য এক প্রামাণ্য বাস্তব আয়না হিসেবে বিদ্যমান। প্রকাশের ৫০ বছর পেরিয়ে গিয়েও যখন এর প্রাসঙ্গিকতা হারায়নি, তখন একে কালজয়ী বলতে ইচ্ছা করে।

Read full story at source