শিশুর জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ: যৌন নির্যাতন ও শোষণ প্রতিরোধে করণীয়
· Prothom Alo

ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স ও প্রথম আলোর উদ্যোগে ‘শিশুর জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ: যৌন নির্যাতন ও শোষণ প্রতিরোধে করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ২৫ আগষ্ট ২০২৬ ঢাকার প্রথম আলো কার্যালয়ে।
Visit casino-promo.biz for more information.
আলোচনা
মোহাম্মদ আবু ইউছুফ
সচিব, সমাজকল্যাণ মন্ত্রনালয়
আমরা অনেক সময় মনে করি, সন্তানকে স্বজন, আত্মীয়, বেবিসিটার বা ড্রাইভারের কাছে রেখে গেলে সে শতভাগ নিরাপদ। এ ধারণা এখন চ্যালেঞ্জের মুখে। শিশুদের যৌন নির্যাতন অনেক সময় অপরিচিত ব্যক্তির চেয়ে পরিচিত ও কাছের মানুষের দ্বারাই ঘটে। তাই সন্তানকে সময় দিতে হবে এবং সে কী বলছে, তা মন দিয়ে শুনতে হবে। যৌন নির্যাতনের অভিযোগ করলেও তা এড়িয়ে যাওয়া যাবে না।
নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহারও খুব গুরুত্বপূর্ণ। সেক্সুয়াল গ্রুমিং, সাইবার ফ্ল্যাশিং ও সেক্সটরশনের মতো ঝুঁকি থেকে শিশুদের সচেতন করতে হবে। তাদের শেখাতে হবে—কোন স্পর্শে অস্বস্তি হচ্ছে, কোথায় ‘না’ বলতে হবে এবং কেউ ভয় দেখালে কাকে জানাতে হবে। শিশুদের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলাও জরুরি, যাতে তারা কোনো ঘটনা ঘটলে ভয় না পেয়ে অভিভাবককে জানাতে পারে। এ বিষয়ে পরিবারকে আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে। শিশুদের অনলাইন ও অফলাইন—দুই ক্ষেত্রেই নিরাপত্তার বিষয়ে নিয়মিত সচেতন করতে হবে।
বাল্যবিবাহও শিশুদের জন্য বড় ঝুঁকি। ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোরীদের মধ্যে সন্তান জন্মদানের হার প্রতি হাজারে ৯২ জন। বাল্যবিবাহ থেকে নানা সমস্যা তৈরি হয়, বিশেষ করে প্রজননস্বাস্থ্যে।
শুধু দোষারোপ নয়, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, এনজিও, উন্নয়ন সহযোগী ও গবেষকদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সচেতনতা বাড়াতে হবে এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। শিশুর নিরাপত্তায় আমাদের সমন্বিত উদ্যোগই সবচেয়ে জরুরি। পরিবার, প্রতিষ্ঠান ও সমাজ—সব পর্যায়েই শিশু সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
মো. খলিলুর রহমান খান
যুগ্ম সচিব ও পরিচালক, এনজিও বিষয়ক ব্যুরো, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
শিশু যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ করতে হলে ভুক্তভোগীর পাশাপাশি অপরাধীর মানসিক ও সামাজিক দিক বিবেচনায় নিয়ে শাস্তিমূলক ও সংশোধনমূলক বিচারের সঙ্গে মনস্তাত্ত্বিক-সামাজিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি, নতুবা শুধু আইন দিয়ে নির্যাতন কমানো সম্ভব নয়। আমাদের বিদ্যমান আইনগুলোর যথাযথ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় বিধিমালা প্রণয়ন, পুরোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ কাঠামোর আধুনিকায়ন এবং শিশুদের অভিযোগ ও পরিস্থিতিগত প্রমাণকে বিচারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। শিশুদের অভিযোগ ও পরিস্থিতিগত প্রমাণকে গুরুত্ব দিলে বিচারপ্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসতে পারে।
শামীমা পারভীন
পুলিশ সুপার, ঢাকা
শিশুর যৌন নির্যাতন ও শোষণ প্রতিরোধে আমরা মূলত প্রিভেনশন, প্রটেকশন ও প্রসিকিউশন—এই তিন জায়গায় কাজ করি। অনেক ক্ষেত্রে ঘরের ভেতরেই অনেক নির্যাতন ঘটে। তাই পরিবারকে সচেতন করতে হবে এবং সন্তানকে নিরাপদ রাখার দায়িত্ব অভিভাবকদেরও নিতে হবে।
সামাজিক কুসংস্কার ও আর্থিক সমঝোতার কারণে অনেক ঘটনা নথিভুক্ত হয় না। ফলে সাক্ষ্যপ্রমাণের অভাবে আসামি খালাস পেয়ে যায়। দীর্ঘসূত্রতাও বড় সমস্যা। তাই যেকোনো যৌন নির্যাতনের ঘটনা দ্রুত থানায় জানাতে হবে। আমরা প্রতিটি থানায় নারী ও শিশু হেল্পডেস্ক রেখেছি এবং প্রশিক্ষিত নারী সদস্যের মাধ্যমে সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে আইনি, চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও অন্যান্য সহায়তার ব্যবস্থাও রয়েছে।
শুধু সিসিটিভি ক্যামেরার ওপর নির্ভরশীল হয়ে সবক্ষেত্রে শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে আবাসিক মাদ্রাসা ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সক্ষমতা, পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনার দিকগুলোও দেখতে হবে। শিশুদের অফলাইন ও অনলাইন নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতন করতে হবে। অনলাইনেও শিশুরা যৌন শোষণের শিকার হচ্ছে—এ বিষয়ে পরিবারকে সতর্ক থাকতে হবে।
থানায় শিশুবান্ধব পরিবেশ ও শিশুদের সঙ্গে আচরণবিষয়ক প্রশিক্ষণের ঘাটতি রয়েছে। এগুলো উন্নত করতে হবে। পাশাপাশি ভুক্তভোগী শিশুদের মানসিক সহায়তায় এনজিওগুলোর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
সিস্টার শিখা গোমেজ
অধ্যক্ষ, হলি ক্রস কলেজ
প্রথম কাজ হলো সমস্যাটিকে চিহ্নিত করে সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করা। শিশুর যৌন নির্যাতন ও শোষণ প্রতিরোধ কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয়। পরিবার থেকেই এর যাত্রা শুরু করতে হবে। মা-বাবাকে শিশুদের এ বিষয়ে সচেতন করতে হবে, যাতে কোনো নির্যাতনের শিকার হলে তারা চুপ না থাকে এবং পরবর্তী পদক্ষেপগুলো সুশৃঙ্খলভাবে নিতে পারে।
আমরা শুধু মেয়েদের পড়াই না, মা তৈরি করি। তাই শিশুদের নিরাপত্তা ও আগামী প্রজন্মের জন্য আমাদের দায়িত্ব অনেক। শুধু মেয়েরা নয়, ছেলেরাও এখন বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছে। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্র বা গণপরিবহন—কোথাও শিশুরা যেন নিরাপত্তাহীন না থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। এর জন্য ব্যক্তিগত, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা, সঠিক আইন প্রয়োগ ও বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। শিশুদের কথা বলার সুযোগ দিতে হবে এবং কথা বলার পর তাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
আমাদের বিশ্বাস করতে হবে, পরিবর্তন সম্ভব। প্রত্যেককে নিজের অঙ্গনে একটি করে কাজে যেতে হবে। কেবল কনফ্যারেন্স বা আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবসম্মত অ্যাকশন প্ল্যান নিয়ে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রত্যেকে ছোট একটি কাজ করলেও অনেক কিছু বদলে দেওয়া সম্ভব। আমি আমাদের শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিয়ে খুবই আশাবাদী।
সমীর মল্লিক
পরিচালক, শিশু সুরক্ষা ইউনিট, সমাজসেবা অধিদপ্তর
আমাদের বিদ্যমান আইন ও ব্যবস্থাগুলোকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে হবে। শিশু আইন ২০১৩ সংশোধনের কাজ চলছে। এটি সংশোধিত হলে প্রস্তুত করা শিশু বিধি প্রণয়নের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদের ১৯ ও ৩৪ অনুচ্ছেদেও শিশুকে সব ধরনের নির্যাতন, যৌন শোষণ ও যৌন নির্যাতন থেকে সুরক্ষার অঙ্গীকার রয়েছে।
আমাদের শিশুকল্যাণ বোর্ড জাতীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে রয়েছে। কমিউনিটি বেজড চাইল্ড প্রটেকশন কমিটি (সিবিসিপিসি) মাঠপর্যায়ে কাজ করছে। শিশুদের নিয়ে কাজ করা সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়ে একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম গঠনও জরুরি।
সিবিসিপিসিকে সক্রিয় করতে হবে, যাতে কমিউনিটি পর্যায়ে এটি শিশুদের সুরক্ষার প্রাথমিক ঢাল হিসেবে কাজ করতে পারে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শিশুকল্যাণ বোর্ডকেও কার্যকর করতে হবে। পাশাপাশি শিশু নির্যাতন বা সন্দেহজনক ঘটনার বাধ্যতামূলক রিপোর্টিংয়ের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। অনলাইন যৌন শোষণ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিটিআরসির সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
শিশুর যৌন নির্যাতন ও শোষণ প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। পরিবার থেকে ‘ব্যাড টাচ-গুড টাচ’ বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। আমরা যদি সম্মিলিত ও সুসংগঠিতভাবে পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে পারি, তাহলে শিশুদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গঠন সম্ভব।
রোকসানা সুলতানা
নির্বাহী পরিচালক, ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স
‘ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স’ শিশুদের যৌন নির্যাতন থেকে সুরক্ষায় ১৯৯৪ সাল থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে আসছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৯২ শতাংশ শিশু পরিবার বা পরিচিত গণ্ডির ভেতরেই প্রথম যৌন নির্যাতনের শিকার হয়, যা প্রমাণ করে পরিবারকে নিরাপদ করাই শিশু সুরক্ষার মূল ভিত্তি।
সময়ের সঙ্গে এই নির্যাতনের ধরন পরিবর্তিত হয়েছে, বিশেষ করে করোনাকাল ও পরবর্তী সময়ে অনলাইন যৌন নির্যাতনের ঝুঁকি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, ভুক্তভোগী শিশুদের বক্তব্য অনেক সময় পরিবার ও সমাজে বিশ্বাস করা হয় না বা তাদের কণ্ঠ স্তব্ধ করে দেওয়া হয়।
আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল পরিবারের ভেতরে শিশুদের যৌন নির্যাতন কমানো বা বন্ধ করা। আমরা বিশ্বাস করতাম, পরিবার নিরাপদ হলে শিশু স্কুল, কমিউনিটি ও বৃহত্তর পরিসরেও নিরাপদ থাকবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে নির্যাতন কমেনি, বরং বিভিন্ন রূপে বেড়েছে।
আমরা সরাসরি পাওয়া ঘটনা নিয়েই কাজ করি। ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সে আসা ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৮ বছরের নিচের শিশু যেমন আছে, তেমনি ১১ দিনের শিশুও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এসব ঘটনা আমাদের আরও সতর্ক করেছে।
১৮ বছরের কম বয়সী শিশুদের ওপর সংঘটিত নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে শিশু সুরক্ষায় একক প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়। শিশুদের জন্য একটি ভয়হীন ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে সরকারি-বেসরকারি সব সংস্থা, এনজিও ও নাগরিক সমাজকে যৌথভাবে কাজ করতে হবে এবং সংগৃহীত বাস্তব অভিজ্ঞতা ও সুপারিশের ভিত্তিতে সমন্বিত অ্যাকশন প্ল্যান বাস্তবায়ন করতে হবে।
সামিয়া আফরীন
চেয়ারপারসন, ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স
শিশুর যৌন নির্যাতন ও শোষণ প্রতিরোধে জাতীয় পর্যায় থেকে শুরু করে স্থানীয় পর্যায় পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি সব সংস্থার সমন্বিত সচেতনতামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা আমাদের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিশু সুরক্ষাসংক্রান্ত পাঠ্যক্রম কেবল অন্তর্ভুক্ত রাখলেই চলবে না, বরং শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে তা কার্যকরভাবে শেখানোর পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এ বিষয়ে আরও মনোযোগ দরকার। এটি শুধু কোনো একটি সংগঠনের কাজ নয়, সরকারি-বেসরকারি সবাইকে একসঙ্গে করতে হবে।
পাশাপাশি, বদলে যাওয়া আধুনিক প্রেক্ষাপটে অভিভাবকদের শিশুদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা, ব্যক্তিগত সীমানা সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া এবং অনলাইনে আস্থার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নজরদারি নিশ্চিত করা জরুরি।
নির্যাতনের শিকার ট্রমাগ্রস্ত শিশুদের মানসিক সুরক্ষায় পরিবার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে পেশাদার মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং সেবার প্রসার ঘটাতে হবে।
নতুন আইন করলেই হবে না, বিদ্যমান আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। স্থানীয় থেকে জাতীয় পর্যায়ের শিশু সুরক্ষাসংক্রান্ত কমিটিগুলোকে সক্রিয় করতে হবে এবং স্থানীয় মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে।
পাশাপাশি গণমাধ্যম ও সরকারের প্রচার-প্রচারণা বাড়াতে হবে। সমন্বিত ও টেকসই উদ্যোগের মাধ্যমেই আমরা শিশুদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারব বলে আশা রাখি।
রাশেদা রওনক খান
সহযোগী অধ্যাপক, নৃ বিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
শিশুর নিরাপত্তার প্রশ্নে ‘স্পেস বা ব্যক্তিগত সীমা’ খুব গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর জন্য ঘরকে নিরাপদ স্থান মনে করলেও আজকাল কিন্তু সেখানেও শিশু অনিরাপদ হয়ে উঠছে খুব কাছের আত্মীয়র যৌন লালসার কাছে। বাইরে যেমন ঝুঁকি আছে, এখন অনলাইনেও অচেনা মানুষ শিশুকে যৌন হয়রানি করতে পারে। আবার অতিরিক্ত সুরক্ষাও শিশুর ব্যক্তিত্বে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। অন্যদিকে নিম্নবিত্ত পরিবারের শিশুদের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বদলে উপার্জনের চাপ থাকে, যেখানে শিশু শ্রমিক হিসেবে নানাভাবে নিপীড়িত হয়। তাই শ্রেণি, সংস্কৃতি ও লিঙ্গের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে শিশুদের শৈশবকে নিরাপদ করতে হবে।
শিশুদের কথা শুনতে হবে। কোনো শিশু যদি বারবার বলে যে শিক্ষক বা কেউ ব্যাড টাচ করে, বিষয়টি আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। শিশুকে শাস্তি দিয়ে ‘শৃঙ্খলিত’ করার ধারণা বদলাতে হবে, বরং তাদের প্রয়োজন ‘ভালোবাসা’ ও ‘সময়’, যা তাদের মানসিক শক্তি জোগাবে। অল্প সময়ের ‘আন্তরিক’ কথোপকথনেও শিশুর মনের কথা জানা যায়।
ডিজিটাল প্রযুক্তির ক্ষেত্রে তাদের অনলাইন নিরাপত্তায় আমাদের আরও মনোযোগী হতে হবে। আমি মনে করি, কে নেতৃত্ব দেবে—আমরাই। শিশুর নিরাপদ শৈশব নিশ্চিতে প্রথম পদক্ষেপ হবে ঘর থেকে আজ, এখনই।
মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী
সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি; সহকারী অধ্যাপক, আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজম।
আমাদের অনেক মাদ্রাসা আবাসিক। সেখানে অনাথ ও নিম্নবিত্ত পরিবারের অনেক শিশু থাকে, যাদের নিরাপত্তা খুবই দুর্বল। তাই শুধু অভিযোগ করলে হবে না, তাদের সহযোগিতা করতে হবে। বিশেষ করে প্রশাসনকে এগিয়ে আসতে হবে। আবাসিক প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক, কর্মচারীদের পরিবারসহ আবাসনের ব্যবস্থা করাও গুরুত্বপূর্ণ। গ্রামাঞ্চলে মাদ্রাসার পাশে স্বল্প পরিসরে এ ধরনের আবাসন করা কঠিন নয়। এতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বাড়বে। শিশুদের নিরাপত্তায় মাদ্রাসাগুলোয় সিসিটিভি ক্যামেরা বাধ্যতামূলক করা জরুরি। সব মাদ্রাসায় দ্রুত সিসিটিভি স্থাপনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া দরকার।
শিশু সুরক্ষার সবচেয়ে বড় জায়গা পরিবার। নৈতিক শিক্ষা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের পাশাপাশি পারিবারিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দিতে হবে। শিশুদের মতামতের মূল্য দিতে হবে এবং তাদের সাহসী করে তুলতে হবে। পরিবারে কথা বলার সুযোগ না পাওয়ায় অনেক শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েও নীরব থাকে। তাই তাদের ব্যক্তিত্ব বিকাশ ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে হবে।
দীর্ঘ মেয়াদে আবাসিক প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের পৃথক আবাসন নিশ্চিত করা এবং সরকারি নজরদারি বাড়ানো জরুরি। কাউকে প্রতিপক্ষ না বানিয়ে সহযোগিতার মাধ্যমেই শিশুদের নিরাপদ করা সম্ভব।
কবিতা বোস
কান্ট্রি ডিরেক্টর, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ
শিশুর শোষণ, বঞ্চনা ও বৈষম্যের শুরু পরিবার থেকেই। প্রথমে আসে বয়সভিত্তিক বৈষম্য। শিশুকে সবার কোলে বসানো, সবার সঙ্গে ঘুমাতে দেওয়া—এসব বিষয়ে পরিবারকে সচেতন হতে হবে। মা–বাবা না থাকলে শিশুটি যার কাছে শতভাগ নিরাপদ, তাকে প্রাথমিক অভিভাবক হিসেবে নির্ধারণ করার রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা থাকা দরকার।
এরপর আসে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য। ছেলে ও মেয়েশিশুর মধ্যে বৈষম্য পরিবার থেকেই শুরু হয়।
১৮ বছরের আগে বিয়ে সরাসরি শিশুর প্রতি নির্যাতন ও যৌন নির্যাতন। এটিকে সামাজিক প্রথা হিসেবে নয়, নির্যাতন হিসেবে দেখতে হবে। বিয়ের বয়স বাড়িয়ে সনদ তৈরি করে এ নির্যাতন বন্ধ করা যাবে না।
আমাদের আরও একটি বড় বাধা সামাজিক লোকলজ্জার ভয়। তিন বছরের শিশুও নির্যাতনের শিকার হয়, কিন্তু লোকলজ্জার ভয়ে পরিবার অনেক সময় চুপ থাকে, এমনকি অনেক সময় মীমাংসাও করে ফেলে।
শিশুদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে আলাদা অভিভাবকত্বের কাঠামো দরকার। একটি পৃথক পরিচালক পদ ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম থাকলে প্রশাসন ও আইন বাস্তবায়নে সহায়তা হবে এবং শিশুদের সুরক্ষা আরও শক্তিশালী হবে।
নজরুল ইসলাম
কান্ট্রি ম্যানেজার, টেরে দেস হোমস নেদারল্যান্ডস
শিশুদের সুরক্ষায় সহায়তা প্রক্রিয়া সহজ করতে তিনটি সুপারিশ তুলে ধরছি। প্রথমত, শিশুর জন্য একটি সমন্বিত ও পরিষ্কার রেফারেল পাথওয়ে থাকা উচিত। এখন শিশু বা তার পরিবারকে সমাজসেবা, পুলিশসহ বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয়। এতে একধরনের দুয়ারে দুয়ারে ঘোরার পরিস্থিতি তৈরি হয়। কোথা থেকে কোথায় যেতে হবে, সেই পথ পরিষ্কার থাকা জরুরি।
দ্বিতীয়ত, অনলাইনে শিশুনির্যাতন ও শোষণ প্রতিরোধে প্রযুক্তি সরবরাহকারী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও টেলিকম খাতগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি ও দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি করতে হবে। তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তৃতীয়ত, শিশুসংক্রান্ত যেকোনো নীতি বা কর্মসূচি প্রণয়নের ক্ষেত্রে কেবল অনুমানের ওপর নির্ভর না করে নীতিনির্ধারণের প্রতিটি পর্যায়ে শিশুদের সরাসরি মতামত ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত প্রয়োজন।
আমরা ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের সঙ্গে কাজ করে শিশুদের অংশগ্রহণের ভালো উদাহরণ পেয়েছি। অন্য যারা শিশুদের নিয়ে কাজ করছি, তাদেরও এভাবে শিশুদের কথা শোনার সুযোগ তৈরি করা উচিত, বিশেষ করে নীতিনির্ধারণের পর্যায়ে শিশুদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
আজিজা আসফিন
ফান্ড ম্যানেজমেন্ট এক্সপার্ট, নাগরিকতা সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ড
নাগরিক সমাজকে কেবল প্রকল্পভিত্তিক অর্থায়নে সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের কণ্ঠস্বর শক্তিশালীকরণ এবং বিভিন্ন অংশীজনের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য নিয়মিত সংলাপ আয়োজনের ওপর জোর দিতে হবে।
শিশু যৌন নির্যাতন ও শোষণ প্রতিরোধে ‘ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স’, নারী মৈত্রী’ ও ‘সেন্টার ফর উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন স্টাডিজ’-এর মতো ১২০টির বেশি সিএসও–র অর্জিত মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আরও সুনির্দিষ্ট সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। শিশু যৌন নির্যাতন ও শোষণ প্রতিরোধ এবং নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য। উদ্যোগগুলো মানুষের জীবনে বাস্তব ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে প্রত্যাশা করি।
শিশু সুরক্ষা একক কোনো প্রতিষ্ঠানের কাজ না হওয়ায় পরিবার, সমাজ, সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গণমাধ্যমকে একটি সুসংগঠিত প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার সুপারিশ করা হচ্ছে, যাতে শিশুরা ভয়হীনভাবে কথা বলার সুযোগ পায় এবং প্রতিটি শিশু নিরাপদ ও সুরক্ষিত পরিবেশে বেড়ে ওঠার বাস্তব সুবিধা লাভ করতে পারে।
সারওয়াত সিরাজ
সিনিয়র আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি শিশুর যৌন নির্যাতন ও শোষণ প্রতিরোধে বিদ্যমান আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে হবে। শিশু আইন ২০১৩-এর বিধিমালা এখনো হয়নি। তাই দ্রুত বিধিমালা প্রণয়ন এবং উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের শিশুকল্যাণ বোর্ডগুলোকে সক্রিয় করা জরুরি।
নির্যাতনের ঘটনায় অনেকেই অভিযোগ করেন না। এ নীরবতা ভাঙতে সাহসের পাশাপাশি দৃষ্টান্তমূলক আইনি বিজয় ও শাস্তি প্রয়োজন। শিশু নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত বা দোষী ব্যক্তিদের একটি জাতীয় রেজিস্টি থাকা দরকার। পুলিশ স্টেশনে এ তথ্য সংরক্ষণ করা এবং নতুন মামলায় তা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। কমিউনিটিরও জানার অধিকার আছে, কোনো ব্যক্তি অতীতে এ ধরনের ঘটনায় অভিযুক্ত বা দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন কি না।
একটি সমন্বিত ডেটাবেজ থাকলে ধারাবাহিক অপরাধীদের শনাক্ত করতে তা কাজে আসবে। হটলাইনগুলো কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হবে এবং সচেতনতা বাড়াতে হবে। বাল্যবিবাহ বন্ধে সামাজিক প্রচারণা জরুরি। পাশাপাশি বিয়ের নিবন্ধন ডিজিটাল করতে হবে, যাতে বয়স নিয়ে কারসাজির সুযোগ না থাকে।
আবদুল্লা আল মামুন
পরিচালক, শিশু সুরক্ষা ইউনিট, সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশ
শিশুর যৌন নির্যাতন প্রতিরোধে অনলাইন নিরাপত্তার দিকে আমাদের আরও গুরুত্ব দিতে হবে। আমরা কন্যাশিশুকে সুরক্ষিত রাখার কথা বলি, কিন্তু আমার পুত্রসন্তান যেন অন্যের জন্য ঝুঁকি হয়ে না ওঠে, সেটিও ভাবতে হবে। অনলাইন যৌন নির্যাতনের ধরন সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান খুবই সীমিত। গ্রুমিং, সেক্সটরশনসহ নানা ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, এমনকি শিশুদের জনপ্রিয় অনলাইন গেমেও। অথচ এসব বাস্তবতা আমাদের জাতীয় কর্মপরিকল্পনায় যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি।
বাবা-মা ও শিশু—দুই পক্ষকেই অনলাইন ঝুঁকি ও নিরাপদ প্রযুক্তি ব্যবহারে সক্ষম করতে হবে। পাশাপাশি থানাপর্যায়ে ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট যাচাই ও অভিযোগ গ্রহণের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। সবচেয়ে বড় ঘাটতি সমন্বিত শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থায়। একটি শিশু নির্যাতনের শিকার হলে মনোসামাজিক, চিকিৎসা ও আইনগত সহায়তা—সবই প্রয়োজন। তাই উপজেলা পর্যায়ে বিচ্ছিন্ন কমিটির পরিবর্তে শিশু কল্যাণ বোর্ডকে কেন্দ্র করে সমন্বিত শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।
লায়লা খন্দকার
আহবায়ক, শিশুরাই সব
আমাদের স্বীকার করতে হবে, শহর-গ্রাম ও সব আর্থসামাজিক অবস্থানের শিশুই নির্যাতনের ঝুঁকিতে আছে। পথশিশু, কর্মজীবী, গৃহকর্মী ও প্রতিবন্ধী শিশুরা আরও বেশি ঝুঁকিতে থাকে। শিশু সুরক্ষায় ২০১৩ সালের আইন থাকলেও এর বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত বাজেট, দক্ষ জনবল ও আন্তমন্ত্রণালয় সমন্বয় নেই। তাই রাষ্ট্র থেকে পরিবার পর্যন্ত শিশুর সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। আমরা বাইরে কোনো শিশুর নির্যাতনের ঘটনায় সরব হই, কিন্তু নিজের পরিবারের ঘটনায় শিশুকে চুপ থাকতে বলি—এই দ্বিচারিতা ভাঙতে হবে।
যেখানে শিশু আছে, সেখানে শিশু সুরক্ষা নীতিমালা ও তার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা জরুরি। গণমাধ্যমকে শুধু ভাইরাল ঘটনা নয়, অন্য ঘটনাগুলোরও অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে ছেলেশিশুর ধর্ষণ আইনে অন্তর্ভুক্ত না থাকার বিষয়টিও সংশোধন প্রয়োজন।
অনলাইন ও অফলাইন দুটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ। তাই মা-বাবার সঙ্গে সন্তানের স্বাভাবিক যোগাযোগই দুই জগতেই তার নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
জিনিয়া আফরোজ
ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর, টেরে দেস হোমস ফাউন্ডেশন
কয়েক মাস আগে একটি কর্মশালায় আমরা শিশুদের জিজ্ঞেস করেছিলাম, তারা কখন নিরাপদ বোধ করে। আমরা আশা করেছিলাম, তারা হয়তো বলবে বাড়িতে, খেলার মাঠে বা স্কুলে। কিন্তু একটি শিশু বলেছিল, ‘আমি নিরাপদ মনে করি তখন, যখন কেউ আমার কথা শোনে।’ আমার মনে হয়, শিশুর সুরক্ষার আলোচনা এখান থেকেই শুরু হওয়া উচিত।
একটি শিশু যখন বাড়িতে নিরাপদ বোধ করে না, তার কথা গুরুত্ব দিয়ে শোনা হয় না বা তার দেওয়া কোনো ইঙ্গিত আমরা বুঝতে পারি না। তাই অভিভাবকদের শুধু প্যারেন্টিং শিক্ষা নয়, শিশুর সুরক্ষা বিষয়ে সচেতন করাও জরুরি।
অনলাইন নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও আমাদের নিজেদের সচেতন হতে হবে এবং শিশুদের নিরাপদ থাকার বিষয়ে দায়িত্ব নিতে হবে। একই সঙ্গে আইন ও নীতিমালা থাকলেই হবে না; শিশু নিরাপদে অভিযোগ করতে পারছে কি না, অভিযোগটি গুরুত্ব দিয়ে নেওয়া হচ্ছে কি না এবং প্রক্রিয়াটি শিশুকেন্দ্রিক কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে।
সুপারিশ
শিশু আইন ২০১৩-এর বিধিমালা প্রণয়ন ও শিশুকল্যাণ বোর্ড কার্যকর করতে হবে।
শিশু নির্যাতনের অভিযোগ দ্রুত গ্রহণ, তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
শিশু সুরক্ষায় পরিবার, সমাজ, গণমাধ্যম ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিশ্চিত করতে হবে।
অনলাইন ও অফলাইন—দুই ক্ষেত্রেই শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
পরিবার থেকে রাষ্ট্র—সব পর্যায়ে শিশুর সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
অংশগ্রহণকারী:
মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, সচিব, সমাজকল্যাণ মন্ত্রনালয়; মো. খলিলুর রহমান খান, যুগ্ম সচিব ও পরিচালক, এনজিও বিষয়ক ব্যুরো, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়; শামীমা পারভীন, পুলিশ সুপার, ঢাকা; সিস্টার শিখা গোমেজ, অধ্যক্ষ, হলি ক্রস কলেজ; সমীর মল্লিক, পরিচালক, শিশু সুরক্ষা ইউনিট, সমাজসেবা অধিদপ্তর; রোকসানা সুলতানা, নির্বাহী পরিচালক, ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স; সামিয়া আফরীন, চেয়ারপারসন, ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স; রাশেদা রওনক খান, সহযোগী অধ্যাপক, নৃ বিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি; সহকারী অধ্যাপক, আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজম; কবিতা বোস, কান্ট্রি ডিরেক্টর, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ; নজরুল ইসলাম, কান্ট্রি ম্যানেজার, টেরে দেস হোমস নেদারল্যান্ডস; আজিজা আসফিন, ফান্ড ম্যানেজমেন্ট এক্সপার্ট, নাগরিকতা সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ড; সারওয়াত সিরাজ, সিনিয়র আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট; আবদুল্লা আল মামুন, পরিচালক, শিশু সুরক্ষা ইউনিট, সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশ; লায়লা খন্দকার, আহবায়ক, শিশুরাই সব; জিনিয়া আফরোজ, ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর, টেরে দেস হোমস ফাউন্ডেশন; ইশরাত শামীম, নির্বাহী পরিচালক, সেন্টার ফর উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন স্টাডিজ (সিডব্লিউসিএস); শাহীন আক্তার ডলি, নির্বাহী পরিচালক, নারী মৈত্রী; মাহমুদা বেগম, নির্বাহী পরিচালক, সবুজের অভিযান বাংলাদেশ; মো. আকরাম হোসাইন, সহকারী পরিচালক, সেন্টার ফর সার্ভিসেস অ্যান্ড ইনফরমেশন অন ডিজঅ্যাবিলিটি; আবু হেনা রুমি, শিশু প্রতিনিধি; ফারহান ইসলাম জনি, শিশু প্রতিনিধি; লায়লা আরিফা খানম, প্রজেক্ট কোঅর্ডিনেটর, ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স; মোহাম্মদ তারিকুজ্জামান, উপ-পরিচালক (মনিটরিং) ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন: মো. জাহিদুল ইসলাম, পরিচালক (প্রোগ্রাম ও পরিকল্পনা), ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স।
সঞ্চালনা: ফিরোজ চৌধুরী, সহকারী সম্পাদক, প্রথম আলো