বাধা পেরিয়ে সোনাই নদে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত, ফাইনাল অমীমাংসিত

· Prothom Alo

স্থানীয় একটি পক্ষের আপত্তির মধ্যেও সিলেটের বিয়ানীবাজারে সোনাই নদে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শুক্রবার বিকেলে উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের বাহাদুরপুর এলাকায় এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়, তবে ফাইনাল অমীমাংসিত রয়েছে। অন্ধকার নেমে আসায় প্রতিযোগিতা শেষ করে দেওয়া হয়। পরে বৈঠক করে বিজয়ী নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।

লাউতা ইউনিয়নের বাহাদুরপুর এলাকার সোনাই নদে আজ বিকেল সোয়া চারটার দিকে শুরু হয় নৌকাবাইচ। লাউতা ও বাহাদুরপুর গ্রামের যুবসমাজের উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় তিনটি নৌকা অংশ নেয়। এগুলো হলো গোলাপগঞ্জের কালীজুরির ‘পাগলা নাও’, হাকালুকির ‘বাঘ নাও’ ও বড়লেখার ঘোড়াকান্দির ‘স্বাধীন বাংলা নাও’। এবার সোনাই নদের তৃগাংগারমুখ এলাকায় নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিজয়ী নৌকার জন্য পুরস্কার হিসেবে একটি বড় আকারের গরু এবং দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী নৌকার জন্য একটি রেফ্রিজারেটর রাখা হয়েছে।

Visit asg-reflektory.pl for more information.

এমরান আহমদ চৌধুরী, সংসদ সদস্য, সিলেট–৬নৌকাবাইচ গ্রামবাংলার ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে হবে। এ ধরনের নৌকাবাইচ ধর্মবিরোধী কোনো কাজ নয়। প্রতিবছর ঐক্যবদ্ধভাবে নৌকাবাইচ আয়োজন ও উপভোগ করা হবে।

নৌকাবাইচ শুরুর আগেই সোনাই নদের দুই পাড়ে জড়ো হন হাজারো দর্শক। সংকেত দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিযোগী নৌকাগুলো ছুটে চলে নদের পানিতে। মাঝিদের সমন্বিত বৈঠার ছন্দে উত্তাল হয়ে ওঠে নদ। শিশু, নারীসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ নদীর দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে নৌকাবাইচ উপভোগ করেন। অনেকে মুঠোফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। নৌকাবাইচের সময় সোনাই নদে ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে পুলিশ সদস্যদের টহল দিতে দেখা যায়।

আয়োজকদের একজন তাজউদ্দিন বলেন, প্রায় ১৫ বছর ধরে সোনাই নদে নৌকাবাইচের আয়োজন হয়ে আসছে। এবারও এ আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে স্থানীয় কিছু মানুষ এতে একমত ছিলেন না। পরে দুই পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে নৌকাবাইচ আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়।

সিলেটে ‘তৌহিদি জনতার’ ব্যানারে নৌকাবাইচ বন্ধের দাবিতৌহিদি জনতার উপেক্ষা করে সোনাই নদে অনুষ্ঠিত হলো ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ

এর আগে নৌকাবাইচ বন্ধের দাবিতে ‘তৌহিদি জনতা’র ব্যানারে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালান। এ বিষয়ে বারইগ্রাম বাজার মসজিদে ওই ব্যানারে সভাও করেন তাঁরা। সভায় নৌকাবাইচ বন্ধের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
ওই সভার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে কয়েকজন বক্তাকে নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে অতীতে মারামারি ও সংঘর্ষ, নদীর পাড় ও আবাদি জমির ক্ষতি এবং যানজটের মতো বিভিন্ন সমস্যার কথা বলতে শোনা যায়। তাঁদের দাবি, নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে অতীতে বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছে। তাই এ আয়োজন বন্ধ রাখা উচিত।

অন্যদিকে আয়োজকদের দাবি, নৌকাবাইচ সোনাই নদ ও স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। প্রতিবছর এ আয়োজনকে ঘিরে এলাকায় উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়। মুষ্টিমেয় কয়েকজন ছাড়া এলাকার অধিকাংশ মানুষ নৌকাবাইচের পক্ষে রয়েছেন বলে দাবি করা হয়।

নৌকা বাইচ দেখতে জড়ো হন হাজারো মানুষ। তাঁরা বাইচের নৌকাগুলোকে উৎসাহ দেন

‘নৌকাবাইচ ধর্মবিরোধী নয়’

আজকের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী। তিনি বলেন, নৌকাবাইচ গ্রামবাংলার ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে হবে। এ ধরনের নৌকাবাইচ ধর্মবিরোধী কোনো কাজ নয়। প্রতিবছর ঐক্যবদ্ধভাবে নৌকাবাইচ আয়োজন ও উপভোগ করা হবে।

এমরান আহমদ চৌধুরী আরও বলেন, শুকনা মৌসুমে এলাকার ভাঙা রাস্তাগুলোর কাজ করা হবে। নদীভাঙন ঠেকাতেও একটি প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এ বছরই সেটির কাজ শুরু হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা মজুমদার। বক্তব‌্য দেন উপজেলা বিএন‌পির সভাপ‌তি আহমেদ রেজা, বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। এ সময় বক্তারা গ্রামীণ ঐতিহ্য নৌকাবাইচ টি‌কিয়ে রাখা এবং ভবিষ্যতেও আয়োজন করা কথা জানান।

আয়োজক কমিটি সূত্রে জানা যায়, তিনটি নৌকা নিয়ে তিন ধাপে প্রতিযোগিতার পরিকল্পনা ছিল। লটারির মাধ্যমে প্রথমে দুটি নৌকা প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার কথা। প্রথম রাউন্ডের বিজয়ী সরাসরি ফাইনালে যাওয়ার কথা। এরপর দ্বিতীয় রাউন্ডে লটারিতে নির্বাচিত নৌকা ও প্রথম রাউন্ডে হেরে যাওয়া নৌকার মধ্যে প্রতিযোগিতা হওয়ার কথা। ওই রাউন্ডের বিজয়ী ফাইনালে অংশ নেবে।

নৌকাবাইচের শেষ পর্বে গোলাপগঞ্জের কালীজুরির ‘পাগলা নাও’ ও হাকালুকির ‘বাঘ নাও’ অংশ নেয়। অন্ধকার নেমে এলে ফাইনালের বাইচ হয়নি।

বাইচের আয়োজক কমিটির সঙ্গে থাকা বিয়ানীবাজারের মোল্লাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ মান্নান বলেন, ফাইনালের সিদ্ধান্ত এখনো মীমাংসা হয়নি। পরবর্তী সময়ে বৈঠক করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Read full story at source